ক্লান্তি ভোলায় পাখির কলরব

সেপ্টেম্বর ০৯ ২০১৭, ০৭:৪৪

গোধূলি বেলা। কাজ শেষে ক্লান্ত মানুষের ঘরে ফেরার ব্যস্ততা। চারদিকের কোলাহল, যানবাহনের ভেঁপুর প্যাঁ পোঁ ঘরমুখী মানুষগুলোকে আরও ক্লান্ত করে তোলে। ঠিক তখনই এদিক-ওদিক ওড়াউড়ি শুরু করে চড়ুই পাখির ঝাঁক। শত ব্যস্ততার মাঝেও চড়ুইগুলোর এমন দুষ্টুমির দৃশ্য এক পলক দেখার লোভ সামলাতে পারেন না পথচারীরা। এতেই প্রশান্তি আসে ক্লান্ত মানুষগুলোর মনে।

ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর মহাসড়কের ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি বিপণিবিতানের সামনের বকুল, জাম, কাঁঠাল ও কৃষ্ণচূড়া গাছগুলোই পাখিদের নিরাপদ আবাস। গাছগুলোর ডাল ও পাতার ফাঁকে ফাঁকে শুধু পাখি আর পাখি।

সন্ধ্যা নামলেই ঝাঁকে ঝাঁকে চড়ুই পাখি আশ্রয় নেয় গাছগুলোতে। কিচিরমিচির শব্দে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। পাখিদের এমন দুষ্টুমিতে একটুও অতিষ্ঠ হন না গাছগুলোর নিচের দোকানিরা। উল্টো কেউ যেন পাখিগুলোর কোনো ক্ষতি করতে না পারে, সেদিকে নজর রাখেন তাঁরা।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ছয়টায় ওই স্থানে গিয়ে অভূতপূর্ব এক দৃশ্য চোখে পড়ল। দিনের আলো একটু একটু করে কমছে, পাল্লা দিয়ে পাখিদের সংখ্যা বাড়ছে। আশপাশের বিদ্যুতের তার, আর গাছগাছালি পাখিতে ভরে যায়। শুরু হয় এদিক-ওদিক ওড়াউড়ি। এভাবে কিছুক্ষণ ছোটাছুটির পর গাছের ডালে ও পাতায় বসে আবারও হইহুল্লোড় আর চেঁচামেচি করে নিজের জায়গা করে নেয় পাখিগুলো।

যেসব গাছে পাখিগুলো আশ্রয় নিয়েছে, তার নিচে

ফলের ব্যবসা করেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার লস্করা গ্রামের নূর ইসলাম (৫২)। তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করেই কিছু পাখি এখানে আশ্রয় নিতে শুরু করে। লোকজন তাদের বিরক্ত না করায়, কিছুদিনের মধ্যে ওদের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যায়। এখন কত মানুষ যে পাখিগুলো দেখতে এখানে আসে, তা বলতে পারব না। ঝাঁক বেঁধে পাখিদের ওড়াউড়ির দৃশ্য আর কিচিরমিচির শব্দে মন ভরে যায়।’

পাশের কাঁঠালতলার পান বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম (৩২) বলেন, ‘পাখিগুলোর মলের কারণে দোকানের জিনিস নষ্ট হয়ে যেত। মল যাতে দোকানে না পড়ে সে জন্য পলিথিন টাঙিয়ে দিয়েছি। প্রথম প্রথম অনেক ছেলেপেলে পাখিগুলাকে উপদ্রব করত। আমরা পাহারা বসানোর কারণে তারা আর এখন পারে না।’

পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকার কাপড়ের ব্যবসায়ী আরমান আলী (৪৯) বলেন, প্রতিবছর শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি (আগস্টের শুরু) চড়ুই পাখিগুলো এসব গাছে আশ্রয় নেয়। মাস তিনেক থাকার পর আবার চলে যায়।

গত বুধবার এ পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন শহরের স্কুলশিক্ষক আতাউর রহমান। পাখির দুষ্টুমি আর কিচিরমিচির তাঁকে আকৃষ্ট করে। পরের দিন সন্ধ্যায় তিনি সঙ্গে করে ছেলে সুজনকে নিয়ে আসেন। আতাউর বলেন, শহরের চিৎকার-চেঁচামেচি আর যানবাহনের শব্দের মাঝেও গাছের পাতার ফাঁকে ফাঁকে পাখি দেখে মুগ্ধ হতে হয়। শত ব্যস্ততা থাকলেও পথচারীরা পাখিদের কোলাহল দেখে একটু হলেও থমকে দাঁড়ান।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>