ক্ষমতাধররা বেশি দুর্নীতি করেন :অর্থমন্ত্রী

আপডেট : July, 28, 2017, 10:29 am

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, দুর্নীতি আমাদের রন্ধ্রে- রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্নীতিতে আমরা সবাই নিমজ্জিত। সবাই যদি নিমজ্জিত না থাকত তাহলে দুর্নীতি হত না। যাদের ক্ষমতা আছে তারাই বেশি দুর্নীতি করে।

অর্থমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে হটলাইন ‘১০৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, প্রযুক্তির ছোঁয়ায় দুর্নীতি কমানো সম্ভব হবে এবং আগামী আট থেকে দশ বছরের মধ্যে সবধরণের দুর্নীতি চলে যাবে। তিনি পরোক্ষভাবে সবাইকে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশে দুর্নীতির সংস্কৃতি ছিল না। এটা একটা গোপনীয়তার মধ্যে ছিল। একটু শরমের সংশ্লিষ্টতা ছিল। এখন পরিস্থিতি সে রকম নয়। এখন প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সবাই সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে দেশ আজ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। আবার কখনো কখনো এমন পরিস্থিতি হয় যে, বাধ্য হয়ে দুর্নীতিতে জড়াতে হয়।

তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, আগে দু’বেলা ভাত খাওয়া নিয়ে সরকারি চাকরিজীবিদের চিন্তা ছিল। এখন আর সে অবস্থা নেই। সরকারি চাকরিতে বেতন মানে এখন সুন্দর জীবনযাপন। অর্থমন্ত্রী দুর্নীত রোধে জেহাদ ঘোষণা করা দুদকের সাবেক এক চেয়ারম্যানের বক্তব্য উল্লেখ করে বলেন, দুদকের ঐ চেয়ারম্যান দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ করবেন বলে ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু জেহাদের নাম নিয়ে কোন পরিবর্তন সম্ভব হয় না। বরং জেহাদের ভবিষ্যত সব সময় অন্ধকার হয়। জেহাদ একটি অন্য জিনিস। অবশ্যই ধর্ম যুদ্ধে এসব ছিল, এখন আর নাই। তিনি দুদক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, তদন্ত করবেন ভাল কথা,

করুন। কিন্তু জেহাদি হবেন না, তাতে তদন্তের কোয়ালিটি নষ্ট হয়ে যায়।

তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমি তখন একজন অবসরপ্রাপ্ত সাধারণ নাগরিক। ঠিক করলাম, আমার বাড়িতে প্রাকৃতিক গ্যাস সংযোগ প্রয়োজন। তখন আমি তিতাস গ্যাসকে বললাম, তোমরা একদিন এসে আমার এই কানেকশনটা দিয়ে যাও। এরপর তারা আসল, আমার বাসায় কানেকশনটা দিয়ে দিল। তখন কোম্পানির যে কর্মকর্তা সেখানে অবস্থান করছিলেন, যাওয়ার সময় তিনি বললেন, স্যার আমাদের কিছু বখশিশ দিতে হয়। তখন আমি অনেক অবাক হই, কোনোদিন বখশিশ দিইনি। তখন আমি উপলব্ধি করলাম যে আমি তো এখন সাধারণ নাগরিক। তখন কিছু বখশিশ দিলাম। এর আগে ফিলিপিন্সে চাকরি করার সময় বাসা ভাড়া নিয়ে গ্যাস সংযোগের জন্যও বখশিশ দিতে হয়েছিল বলে জানান মুহিত। তবে সেখানে তিনি বিস্মিত হননি এজন্যে যে, এটা ছিল ওদের সংস্কৃতি।

প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারকে দুর্নীতি দমনের শ্রেষ্ঠ উপায় হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, আমরা এখন সব ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সঙ্গে জড়িয়ে গেছি বলেই প্রযুক্তির মাধ্যমেই দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব। দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দুদক কমিশনার ড. নাসিরউদ্দীন আহমেদ, এ এফ এম আমিনুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ অনুষ্ঠানে বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা দুর্নীতি। আমরা যারা রক্ষক হিসেবে আছি, তারাই ভক্ষক হিসেবে অবতীর্ণ হয়ে আছি। এই প্রয়াস বন্ধ হওয়া চাই। এসময় জানানো হয়, দুর্নীতির অভিযোগ জানাতে প্রতিদিন অফিস সময়ের মধ্যে ১০৬ নম্বরে ফ্রি কল করা যাবে। এ ক্ষেত্রে অভিযোগকারীর নাম ও পরিচয় গোপন রাখা হবে।

Facebook Comments