গণমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞ ইউএনও সালমান

আপডেট : July, 22, 2017, 12:40 am

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মামলাকারী আওয়ামী লীগ নেতা দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার এবং সর্বমহলের সমবেদনা পাওয়ায় গণমাধ্যমের প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বরগুনার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিক সালমান। গণমাধ্যমে বিষয়টি উঠে না এলে দেশবাসী প্রকৃত ঘটনা জানতে পারত না বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি প্রধামনন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারা তার পক্ষে লেখালেখি করেছেন সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রশাসনের আমন্ত্রণপত্রে ছাপানো বঙ্গবন্ধুর ছবিকে বিকৃতি করা হয়েছে এমন অভিযোগ এনে আগৈলঝাড়া উপজেলার সাবেক এই ইউএনওর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ ওবায়েদ উল্লাহ সাজু। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে তাকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে আওয়ামী লীগ। দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শুক্রবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন এই তথ্য।

মামলাকারী আওয়ামী লীগ নেতাকে বহিষ্কারের খবরের পর একান্ত আলাপকালে ইউএনও গাজী তারিক সালমান জানান, এই সিদ্ধান্তে তিনি খুশি হয়েছেন।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি স্বস্তি বোধ করছি না। তবে খুশি হয়েছি তার ব্যাপারে আওয়ামী লীগ ব্যবস্থা নিয়েছে এর জন্য। এ মামলাটি উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে করা হয়েছিল, সেটা অবশ্যই আপনারা ইতিমধ্যে টের পেয়েছেন। এ মামলার কারণে পুরো দেশে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হয়েছে। আমাকে অপদস্ত করার একটি প্রক্রিয়া ছিল এ মামলাটি।’

এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেবেন কি না জানতে চাইলে ইউএনও সালমান তারিক জানান, তিনি সরকারি চাকরিজীবী। রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন যে

পদক্ষেপ নেবে তিনি সেভাবেই আগাবেন।

বরগুনায় বদলি হওয়ার আগে ইউএনও সালমান দায়িত্ব পালন করেছেন বরিশালের আগৈলঝাড়ায়। আর সেখানের একটি ঘটনাতেই মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। গত বুধবার সকালে এই মামলাতেই শুরুতে তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠান বিচারক। পরে অবশ্য আদেশ পাল্টে জামিন দেয়া হয়।

গত ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবসে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’ শিরোনামে সেখানে এক চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় আগৈলঝাড়ার এস এম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।

এই প্রতিযোগিতার প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী দুটি ছবির জন্য তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়। আর ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনে উপজেলা প্রশাসনের আমন্ত্রণপত্রে ছবি দুটি ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে প্রথম স্থান পাওয়া জ্যোতি মণ্ডলের ছবিটি আমন্ত্রণপত্রের কভারে এবং অদ্রিজা করের দ্বিতীয় ছবিটি ব্যবহার করা হয় আমন্ত্রণপত্রের পেছনের পাতায়।

পেছনের পাতায় ছাপা হওয়া ছবিটির জন্যই ইউএনও গাজী তারিক সালমানের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতের অভিযোগে মামলা করেন আওয়ামী লীগ নেতা সাজু।

এই ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যেও অসন্তোষ দানা বাঁধে। খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এই মামলায় বিস্ময় এবং অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন তার উপদেষ্টা এইচটি ইমাম।

এই পরিস্থিতিতে মামলা প্রত্যাহারের চিন্তা শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে সাজু বরিশাল আইনজীবী সমিতির নেতাদের সঙ্গে আলোচনাও শুরু করেন। তবে তার সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা আসার আগেই কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ তাকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

Facebook Comments