গরমে ত্বকের যত্নে খেতে পারেন এই ৫টি খাবার

মে ০৯ ২০১৭, ২২:৩৮

উদ্ভিদে প্রাকৃতিকভাবেই ত্বকের সুরক্ষা উপাদান থাকে। উদ্ভিদের এক ধরনের যৌগ ফাইটোকেমিক্যাল। গ্রীক ভাষায় ফাইটো অর্থ উদ্ভিদ। আর পলিফেনল, ক্যারোটিনয়েড এবং আইসোফ্লেভন হচ্ছে কয়েকটি ফাইটোকেমিক্যাল যা আমাদের যা সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। এছাড়া উদ্ভিজ্জ খাবারে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিইনফ্লামেটরি উপাদান যা ত্বকের যত্নে অত্যন্ত উপকারী। আসুন জেনে নেই গরমের সময়ে ত্বকের সুরক্ষায় কাজ করে এমন কিছু উদ্ভিজ্জ খাবারের কথা।

১। গ্রিনটি
গ্রিনটি পলিফেনল এর দারুণ উৎস যা ত্বকের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, পলিফেনল অতিবেগুনী রশ্মির প্রতিকূল প্রভাব থেকে ত্বকের সুরক্ষা দেয় ত্বকের ক্যান্সারের গঠনকে উল্টিয়ে দেয়ার মাধ্যমে। গ্রিনটি তে বিদ্যমান EGCG’s নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষীয় পর্যায়ের ক্ষতিকে কমাতে পারে যখন অতিবেগুনী রশ্মির সংস্পর্শে যায়। উষ্ণ পানীয় যারা পান করেন না তাদের তুলনায় যারা পান করেন তাদের ত্বকের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি তাৎপর্যপূর্ণভাবেই কম থাকে। প্রতিদিন ২ কাপ গ্রিনটি পান করতে পারেন।

২। সাইট্রাস ফল
সাইট্রাস ফল, কিউই এবং স্ট্রবেরি ভিটামিন সি এর চমৎকার উৎস। এটা সবারই জানা যে, ভিটামিন সি ত্বকের বিশুদ্ধতা রক্ষায় এবং সানবার্ন কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৩। লাল সবজি
তরমুজ, টমেটো এবং লাল ক্যাপসিকাম সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির প্রতি ত্বকের সংবেদনশীলতা কমায় এবং সানবার্ন

এর তীব্রতা কমায়। এই খাবারগুলোতে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লাইকোপিন থাকে যা সুরক্ষার কাজ করে। টমেটোর রান্না করা পণ্যগুলো যেমন- সস বা স্যুপে উচ্চ ঘনত্বের লাইকোপিন থাকে। একটি গবেষণায় জানা গেছে যে, যারা ১ আউন্স টমেটোর পেস্টের সাথে ২ চা চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে ১০ সপ্তাহের বেশি গ্রহণ করেন তাদের ৪০ শতাংশ সানবার্ন কমে যায়।

৪। সয়াবিন
জেনিস্টেইন এক ধরনের আইসোফ্লেভন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা সয়াবিন এ পাওয়া যায়। এটি সূর্যের ক্ষতি প্রতিরোধ করতে পারে বলে জানা গেছে। তাই খেতে পারেন বিভিন্ন সয়া জাতীয় খাবার যেমন- সয়া দুধ, টফু, সয়াবিন ইত্যাদি।

৫। ভিটামিন ই
ভিটামিন সি এর মত ভিটামিন ই ও ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সূর্যমুখীর বীজ, কাঠবাদাম, ভেজিটেবল অয়েল, গম বীজ এবং অ্যাভোকাডোতে ভিটামিন ই থাকে। সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মির সংস্পর্শে শরীরের যে পরিমাণ ভিটামিন ই নষ্ট হয়ে যায় তা পুনরায় ফিরে পেতে সাহায্য করে নিয়মিত ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া। সম্ভাব্য সুরক্ষা উপকারিতা পাওয়ার জন্য ভিটামিন সি ও ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবার একসাথে খাওয়ার চেষ্টা করুন, যেমন- ১ কাপ বেরি ফলের সাথে সূর্যমুখীর বীজ ছিটিয়ে নিতে পারেন, অ্যাভোকাডো এবং স্ট্রবেরির সাথে কাঠবাদামের দুধ এবং কিছুটা গম বীজ দিয়ে তৈরি করতে পারেন স্মুদি।

Facebook Comments