ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’, চট্টগ্রামের ১০টি যুদ্ধজাহাজ মংলায় স্থানান্তর

মে ২৯ ২০১৭, ১৮:৩১

ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র তাণ্ডব থেকে বাঁচাতে চট্টগাম নৌঘাটি থেকে ১০টি যুদ্ধ জাহাজ ও চট্টগ্রাম কোস্টগার্ডের ২টি জাহাজকে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখতে মংলায় নিয়ে আশা হয়েছে। এছাড়া মংলা বন্দরে সব ধরনের পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

আবহাওয়া বিভাগ সোমবার দুপুর পর্যন্ত বাগেরহাট ও মংলা বন্দরকে ৫ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা বলেছে। মংলা বন্দর জেটিতে অবস্থানরত সব জাহাজকে নিরাপদ আশ্রয়ে আউটার এ্যাংকরেজে নোঙ্গর করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ ও বাগেরহাট জেলা প্রশাসন ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। মংলা বন্দর জেটি ও আউটার এ্যাংকরেজে অবস্থানরত ১১টি জাহাজে পণ্য ওঠানামার কাজ বন্ধ রেখেছে।

বিএনএস মংলা নৌঘাটির সকল যুদ্ধ জাহাজ ও নৌযানগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে নোঙ্গর করে রাখা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই উত্তাল বঙ্গোপসাগরে টিকতে না পেরে সুন্দরবনের দুবলা, হিরনপয়েন্ট, কটকা, কচিখালী এলাকার ছোট নদী ও খালে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরা ট্রলারগুলো।

সুন্দরবন বিভাগের সকল নৌযান, কর্মকর্তা কর্মচারী ও আগ্নেয়াস্ত্রগুলো নিরাপদ স্থানে রাখতে বলা হয়েছে। বাগেরহাটের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৯টি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে সকল ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দিয়ে দুর্যোগ মোকাবেলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

উপকূলের দ্বীপ ও চরসমূহে বসবাসরত সকল মানুষ ও বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত

ফিশিং ট্রলারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে আসতে মংলা কোস্টগার্ড পর্শ্চিম জোনের সদস্যরা সোমবার ভোর থেকেই মাইকিং করছে।

মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার অলিউল্লাহ জানান, উপকূলের দিকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ মোকাবেলায় চট্টগাম নৌঘাটিতে থাকা ১০টি যুদ্ধ জাহাজ ও চট্টগ্রাম কোস্টগার্ডের ২টি জাহাজ নিরাপদ আশ্রয়ে রাখতে সোমবার দুপুরে মংলায় নিয়ে আশা হয়েছে।

বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় বঙ্গোপসাগর থেকে আশ্রয় নেয়া ৫ শতাধিক ফিশিং ট্রলারকে দুবলা, হিরনপয়েন্ট, কটকা, কচিখালীসহ বিভিন্ন এলাকার ছোট ছোট নদী ও খালে নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা হয়েছে। বর্তমানে সুন্দরবনে পর্যটন মৌসুম না হওয়ায় কেবলমাত্র সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তা, কর্মচারী, জেলে ও মৌয়ালদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সুন্দরবন বিভাগের সকল নৌযানগুলো নিরাপদে নোঙ্গর করে রাখা হয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, জেলার ৯টি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের সকল আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দিয়ে ঘূর্ণিঝড় মোরা মোকাবেলায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাগেরহাট জেলার সকল দ্বীপ, চর ও নিম্নাঞ্চলে বসবাসরত সকল মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে আসতে মাইকিং করা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় জেলা ও প্রতিটি উপজেলা, মংলা বন্দর, সুন্দরবন, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী কন্ট্রোল রুম খুলেছে। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবেলায় রেডক্রিসেন্টসহ স্বেচ্ছাসেবক ও শুকনো খাবার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>