চাকরি ছেড়েই এমপি প্রার্থী

আপডেট : May, 28, 2017, 12:14 am

একাদশ সংসদ নির্বাচনে আমলাদের জন্য প্রার্থিতা প্রাপ্তির পথ খুলে যাচ্ছে! দলীয় প্রার্থী হতে তিন বছর সদস্য পদ থাকার বিধানটি বিলোপের পর এবার সরকারি চাকরি ছাড়ার সময়ের বাধ্যবাধকতাও তুলে দেওয়ার জন্য ‘দৌড়ঝাঁপ’ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন সাবেক আমলা নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ নিয়ে যোগাযোগ করেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দশম সংসদের নির্বাচনের আগ মুহূর্তে দলীয় সদস্য পদে (তিন বছর) থাকার বিধানটি বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়। এবার প্রার্থী হতে সরকারি কর্মকর্তাদের অবসর বা পদত্যাগের পর তিন বছর পার করার বিধানটি বিলোপ করার প্রস্তাব নিয়ে জোর তৎপরতা রয়েছে। নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন— আলোচনা ছাড়াই দলীয় সদস্যপদ থাকার বিধানটি তুলে দেওয়া হয়েছে। এতে ডিগবাজি ও মনোনয়ন বাণিজ্যের পথ খুলেছে। একই পথ ধরে আমলাদের প্রার্থী হওয়ার শর্ত শিথিল করা কোনোভাবেই ঠিক হবে না। তা করা হলে প্রশাসনে রাজনীতিকরণ বাড়বে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার হবে। একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন আইন সংস্কারের পরিকল্পনার মধ্যে এ বিষয়েও আলোচনা চলছে। ইসি কর্মকর্তারা জানান, কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন ইসি নির্বাচনী আইনের ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েও শেষ মুহূর্তে তা বাস্তবায়ন করেনি। মাঠ পর্যায় থেকে কিছু সংস্কার প্রস্তাবও সংগ্রহ করা হয়। নতুন কমিশন আসন্ন সংলাপে সব প্রস্তাব আমলে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সব কিছু বুঝেশুনে করতে হবে। সব কিছুর ভালো ও নেতিবাচক দিক রয়েছে। এ ধরনের বিধান বিলোপ বা শর্ত শিথিল নিয়ে আমাদের কাছে কোনো প্রস্তাবনা আসেনি। স্টেকহোল্ডার যারা রয়েছে তাদের কাছ থেকে কোনো প্রস্তাব এলে তা পর্যালোচনা করা যেতে পারে। তিনি জানান, শর্ত শিথিল কেমন হবে, এক বছর হবে নাকি দুই বছর হবে, আদৌ হবে কিনা— প্রস্তাব না এলে তো কিছু বলা যাচ্ছে না। নির্বাচনী আইন সংস্কার নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরুর আগে বর্তমান ইসি
সার্বিক আইন-বিধিগুলো নিজেরা পড়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন বলে জানান এ নির্বাচন কমিশনার। ২০১৮ সালের শেষে নভেম্বর-জানুয়ারির মধ্যে একাদশ সংসদের ভোট হবে। এর আগে আইন সংস্কারসহ নানা বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা রয়েছে ইসির। আইন সংস্কার নিয়ে কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে ইসি কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে নির্বাচনী আইন সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ জন্য চলতি বছরের জুলাই থেকে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সহজ এবং যুগোপযোগী করতে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, পর্যবেক্ষক ও অভিজ্ঞ সাবেক নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংলাপ করবে ইসি। এ জন্য চলতি বছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সংলাপের সুপারিশ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেওয়া হবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১২ অনুচ্ছেদে (উপ ধারা এফ ও এইচ) বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি থেকে অবসর বা অপসারণের তিন বছর পার না হলে প্রার্থী হতে পারবেন না। সশস্ত্র বাহিনী বা সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান ও সরকারি চাকরিতে চুক্তিভিত্তিক চাকুরেদের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য। ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও আইন শাখার কর্মকর্তারা বলেন, কয়েকজন সাবেক আমলা ইতিমধ্যে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, তারা চান বিধানটি বিলোপ হোক। আগেও এ ধরনের একটি বিধান মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করেই সংসদে পাঠানো হয়েছে। এখন সরকার যদি মনে করে আমলাদের বিষয়ে শর্ত শিথিল করবে, কেবিনেট থেকেই প্রস্তাব যেতে পারে। তবে সামনে ইসির সংলাপে এ বিষয়ে প্রস্তাব এলেও তা নিয়ে পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে বলে জানান তারা। নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইডব্লিউজি) পরিচালক আবদুল আলীম বলেন, কোনোভাবেই আমলাদের প্রার্থিতায় শিথিলতা সমীচীন হবে না। অবসরের তিন বছর পর প্রার্থিতার সুযোগ না রাখলে অনেকেই নিজ নির্বাচনী এলাকায় চাকরিকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারে। বিধানটি তুলে দিলে প্রশাসনে রাজনীতিকরণের প্রভাব বাড়বে। তাতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বিনষ্টের শঙ্কা বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।
Facebook Comments