চালের দাম বাড়িয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীরা: খাদ্যমন্ত্রী

মে ০৪ ২০১৭, ১৫:৪৩

দেশে চালের কোনো সংকট না থাকলেও এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম। যারা এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে তাদেরকে এক বিন্দু ছাড় না দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর খাদ্যভবনে চালকল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী। হাওরে অকাল বন্যায় ফসলহানির পর পর চালের দাম ২০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে গেছে। এই প্রেক্ষিতে এই বৈঠকে বসেন খাদ্যমন্ত্রী।

খাদ্যমন্ত্রী জানান, হাওরে ফসলের যে ক্ষতি হয়েছে, সেটা সারা দেশের ফসলের তুলনায় কিছুই না। তিনি বলেন, চলতি বছর সারা দেশে চালের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় এক কেটি ৯১ লক্ষ মেট্রিক টন। সেখানে হাওরে ধানের ক্ষতি হয়েছে ছয় লক্ষ মেট্রিক টন।

মন্ত্রী বলেন, ‘সারাদেশে বিভিন্ন কারণে ধানের আরও ক্ষতি হয় আরও পাঁচ লক্ষ মেট্রিক টন। সব মিলিয়ে যা দাড়ায় তা হল প্রায় ১১ লক্ষ মেট্রিক টন। তবে সব কিছু বাদ দিয়ে হলেও এবার আমরা এক কোটি ৮০ লাখ টন চাল সংগ্রহ করতে পারবো। এটা দেশের চাহিদার চেয়ে বেশি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। যারা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে তাদের কে আমরা ছাড় দেব না।’

কামরুল বলেন, ‘বোরো ধান বরাবরই প্রকৃতির উপর নির্ভর করে। এই কারণে এইবার ক্ষতি একটু বেশি হয়েছে। এই ব্যাপারে অসাধু ব্যবসায়ীদের উপর আমাদের নজরদারীর কোনো ঘাটতি ছিল না। বছরের এই সময় চালের দাম একটু বাড়েই।’

কামরুল ইসলাম জানান, ‘সরকারি

নিয়ম অনুযায়ী চাল কল মালিকরা একটি নির্দিষ্ট সময় পর সরকারের কাছে একটি পাক্ষিক প্রতিবেদন পেশ করে। প্রতিবেদনে তাদের গুদামে কী পরিমাণ চাল মজুদ রয়েছে সে কথা উল্লেখ থাকে। চালকল মালিকরা এইবারও আমাদের কাছে তাদের প্রতিবেদন পেশ করেছে। প্রতিবেদনে কোনো অসামঞ্জতা আমাদের চোখে পড়েনি। পাক্ষিক প্রতিবেদনে আমাদের সন্দেহ হলে আমরা অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

মন্ত্রী বলেন, ‘হাওরের সমস্যা মানে সারা বাংলাদেশের সমস্যা নয়। হাওরের সমস্যার কারণে আমাদের টার্গেট ফুলফিল না হলে সমস্যা হতে পারে। বর্তমানে কোনো সমস্যা নেই। বাজারে অসাধু ব্যবসায়ী্র কারণে মূল্যের তারতম্য হচ্ছ। এর আগে আমরা চালকল মালিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আমরা চাল আমদানির ক্ষেত্রে ট্যাক্স অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম। এটি করা হয়েছিল অসাধু ব্যবসায়ীদের হাত ছোট করার জন্য। এখন যেহেতু আমরা সামান্য ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে সেই ক্ষেত্রে আমরা ট্যাক্স বাতিল করার জন্য সরকারের কাছে রিপোর্ট পেশ করবো।’

বাংলাদেশ চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী বলেন, ‘উত্তরবঙ্গে এখনো ধান মাড়ানো শুরু হয়নি। আমাদের মিলারদের কাছে এখন কোনো স্টক নেই। ফলে চাল সংগ্রহ করার আগ পর্যন্ত চালের দাম কিছুটা বাড়তে পারে। তবে আগামী ২০ থেকে ২২ দিনের মধ্যে চালের কোনো ক্রাইসিস থাকবে না। আমরা সরকারি রেটেই কৃষকদের থেকে ধান সংগ্রহ করবো।’

লায়েক আলী বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেদনে যদি সাংবাদিকদের কোনো প্রকার সন্দেহ থাকে তাহলে আপনারা সঠিক তদন্ত করে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। যদি প্রয়োজন হয় র‌্যাব, এনএসআই কিংবা সরকারের অন্য গোয়েন্দা সংস্থা নিয়ে আমাদের তদন্ত করেন।’

তথ্যসূত্রঃ ঢাকাটাইমস২৪.কম

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>