চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

জুন ১৫ ২০১৭, ২১:০০

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পেতে ঘরবাড়ি এবং আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এডিস মশা নিধনে শনিবার ঢাকার ৯২টি স্থানে নামছেন মেডিকেল শিক্ষার্থীরা।

আইইডিসিআর আয়োজিত সাংবাদিক অবহিতকরণ সভায় আজ বৃহস্পতিবার এসব কথা জানানো হয়।

সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, চিকুনগুনিয়া জ্বর নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। এতে কারও মৃত্যুও ঘটবে না। এই জ্বর এমনিতেই সেরে যায়। একবার যে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হবে, তাকে আজীবন আর এই ভাইরাস আক্রান্ত করতে পারবে না। তবে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কেউ যাতে চিকুনগুনিয়া সন্দেহ না করে, সে জন্য কয়েকটি লক্ষণ দেখে ধারণা পাওয়া যাবে। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে অবশ্যই চিকিৎসা নিতে হবে। পাশাপাশি ডেঙ্গু বা টাইফয়েড থেকে রক্ষা পেতে মশার বংশবিস্তার রোধের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

দেশে হঠাৎ করে চিকুনগুনিয়ার এই প্রাদুর্ভাব কেন জানতে চাইলে আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। এখানে গরম অনেক বেড়েছে। বৃষ্টি হয়ে এখানে-সেখানে পানি জমে যাচ্ছে। শহরের বাসায় টব, ফ্রিজ, টায়ার থাকে। এগুলো এডিস মশার বংশবিস্তারে সহায়ক। গ্রামে এগুলো কম বলে সেখানে এই রোগ কম ছড়াচ্ছে।’

সিটি করপোরেশন যে ওষুধ দিচ্ছে, তাতে মশা মরে

না—এমন অভিযোগ সম্পর্কে আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘সিটি করপোরেশনকে বলেছি আমরা বিষয়টি পরীক্ষা করব।’
আইইডিসিআরের পরিচালক মিরজাদি সেবরিনা জানান, গত এপ্রিল থেকে মে মাস পর্যন্ত চিকুনগুনিয়া সন্দেহে তাঁদের কাছে ১৩৯টি পরীক্ষার নমুনা আসে। এর মধ্যে ৮৬টি নমুনায় চিকুনগুনিয়ার অস্তিত্ব মেলে। এসব ব্যক্তির অধিকাংশই রাজধানীর কলাবাগান-কাঁঠালবাগান ও রামপুরার বাসিন্দা। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে ১ হাজার ৪৬০ জন চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্তের খবর আছে জানিয়ে তিনি বলেন, বৃষ্টির পানিতে রাস্তার মশা, ডোবা-নালার মশা মরে যায়। কিন্তু ঘরে থাকা মশা বা লার্ভা মরে না। এ জন্য সবার আগে ঘরে ঘরে মশার বিস্তার রোধে জোর দিতে হবে।

সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক সানিয়া তহমিনা ও চিকিৎসা শিক্ষাবিষয়ক পরিচালক আবদুর রশীদ উপস্থিত ছিলেন। সভায় জানানো হয়, ১ জুন থেকে ৫ জুন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঢাকার ৪৭টি ওয়ার্ডে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র বিষয়ে জরিপ চালায়। এতে ঢাকায় এডিস মশার ব্যাপক উপস্থিতি ধরা পড়ে। এর মধ্যে ধানমন্ডি, কলাবাগান, কাঁঠালবাগানে প্রকোপ বেশি। এডিস মশা নিধন ছাড়া চিকুনগুনিয়া থেকে নিস্তারের কোনো পথ নেই।

সভায় জানানো হয়, চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজনন স্থল ধ্বংস করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শনিবার ঢাকার ৯২টি ওয়ার্ডে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মাঠে নামাবে। তাঁরা এডিস মশা ধ্বংসের পাশাপাশি জমে থাকা পানি অপসারণ, চিকুনগুনিয়া সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার কাজ করবেন।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>