‘চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানকে হারাবে ভারত’

আপডেট : May, 9, 2017, 9:44 pm

ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলী বলেছেন, আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানকে হারাবে ভারত। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির অষ্টম আসরে ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ভারত ও পাকিস্তান। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আগামী ৪ জুন বার্মিংহামে মুখোমুখি হবে বিশ্ব ক্রিকেটে প্রধান দুই চিরপ্রতিন্দ্বন্দি ভারত ও পাকিস্তান। বহুল প্রতীক্ষিত এ ম্যাচ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে গাঙ্গুলী বলেন, ‘আইসিসির টুর্নামেন্টগুলোতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের ফল উৎসাহ জনক। তাই বার্মিংহামের এ ম্যাচেও পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতবে ভারত।’

ক্রিকেটের প্রধান সংস্থা, আইসিসি’র সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি বয়কটের হুমকি দিয়েছিলো ভারত। গত ২৫ এপ্রিল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য দল ঘোষণার শেষ তারিখ নির্ধারিত করেছিলো আইসিসি। নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই সপ্তাহ পরে অবশেষে গতকাল নিজেদের হুমকির পথ থেকে সড়ে গিয়ে গতকালই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য দল ঘোষণা করে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড(বিসিসিআই)। দীর্ঘদিন পর ইনজুরি থেকে সুস্থ হয়ে আবারো ভারতের ওয়ানডে দলে ফিরেন ওপেনার রোহিত শর্মা ও পেসার মোহাম্মদ সামি। এছাড়া ফিরেছেন বাঁ-হাতি ওপেনার শিখর ধাওয়ান। অভিজ্ঞদের নিয়ে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল নির্বাচন করেছে ভারত।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের মিশন শুরু করবে ভারত। আইসিসির ইভেন্টগুলোতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভাল পারফরমেন্সের ধারাবাহিকতা ৪ জুনের ঐ ম্যাচেও অব্যাহত রাখবে বলে মনে গাঙ্গুলী, ‘চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারত আবারো পাকিস্তানকে হারাবে। গেল ৮-১০ বছর ধরে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে খেলার গুনগত মানের অনেক পার্থক্য গড়ে উঠেছে। এর প্রধান কারণ হলো- আইসিসি’র ইভেন্টগুলোতে পাকিস্তানের উপর প্রাধান্য বিস্তার করে খেলেছে ভারত। আমি বিশ্বাস করি, ৪ জুন বার্মিংহামের ম্যাচেও ভারত তাদের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবে। বিশ্বকাপে পাকিস্তানের কাছে কখনোই হারেনি ভারত। বিশ্ব ইভেন্টে ওয়ানডে ও টি-২০ মিলিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১১টি ম্যাচে জয় পেয়েছে ভারত, পক্ষান্তরে জয় হীন পাকিস্তান।’ শুধুমাত্র বিশ্বকাপেই নয়, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের পারফরমেন্স বেশ ভালো। ১৪বারের মুখোমুখিতে ১২বার জয় পেয়েছে ভারত ও দু’বার জিতেছে পাকিস্তান। চাপের মুখে প্রতিবারই ভারত ভালো ক্রিকেট খেলে।

গাঙ্গুলী বলেন, ‘৯০ দশক থেকে বিশ্বের বড় বড় টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের

চেয়ে ভালো ক্রিকেট খেলছে ভারত। এ সময়ে দু’দলের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য ছিলো না। ওয়াসিম, ইউনিস, ইনজামাম, সাঈদ আনোয়ার, জাভেদ মিয়াদাদ ও সেলিম মালিকদের নিয়ে গড়া পাকিস্তান দল ছিলো দুর্দান্ত। তবে ২০০৫ সাল থেকে পাকিস্তান মানসম্পন্ন দল গড়তে পারেনি। গুনগত মান ও শক্তির বিচারে ভারত এগিয়ে থাকায় হারতে হয় পাকিস্তানকে। ২০০৩ সালের বিশ্বকাপে সেঞ্চুরিয়ানে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের স্বাদ এনে দেয়া ভারতীয় অধিনায়ক গাঙ্গুলী বলেন, ‘এছাড়া বড় ম্যাচের চাপ পাকিস্তানের চেয়ে বেশি নিতে সক্ষম হয়েছে ভারত। পাকিস্তান খেলোয়াড়দের চেয়ে ভারতীয় খেলোয়াদের টেকনিকও অনেক বেশি মানসম্পন্ন। পাকিস্তান দলে প্রতিভা আছে। কিন্তু প্রতিবারই তারা চাপের মধ্যে ছিলো এবং লড়াই করার জন্য তারা আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। চাপে ভারতও ছিলো, কিন্তু তারা দল হিসেবে চাপের মধ্যেও ভালো খেলেছে। চাপের মধ্যেও ব্যাটিং-বোলিং-এ ভালো খেলেছে ভারত। কিন্তু পাকিস্তান, প্রতিবারই চাপের মধ্যে খারাপ খেলেছে। ব্যাটিং-বোলিং থেকে ভালো কিছু আদায় করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু তারা সফল হয়নি।’

ভারতের সাবেক অধিনায়ক গাঙ্গুলী বেশ আশাবাদি কোহলির ব্যাপারেও। ভারতের কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্ত কোহলির দিকে চেয়ে আছে। শুধুমাত্র পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ই নয়, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা ধরে রাখায় প্রত্যাশায় ভারতীয় সমর্থকরা। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দলটি শিরোপা ধরে রাখতে পারবে বলে মনে করেন গাঙ্গুলী। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এ সময় এটি ভারতের সেরা দল এবং প্রত্যেক খেলোয়াড়ই তাদেরকে নির্বাচন করেছে। ১৫ সদস্যের দল নির্বাচন করতে নির্বাচকদের কষ্ট করতে হয়নি। লোকেশ রাহুলের বাদ পড়াটা দুঃখজনক। গত দু’বছর দারুণ ক্রিকেট খেলেছে সে। তারপরও আমার মনে হয়, সেরা দলটিই ইংল্যান্ড যাচ্ছে এবং তাদের ক্ষমতা ও সামর্থ্য আছে শিরোপা ধরে রাখার।’

পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে মিশন শুরুর পর ৮ জুন শ্রীলংকা ও ১১ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামবে ভারত। তার আগে দু’টি প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলবে টিম ইন্ডিয়া। ২৮ মে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ও ৩০ মে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ রয়েছে ভারতের। সূত্র: বাসস।

Facebook Comments