ছেলেটি আত্মহত্যা করবে!

জুলাই ০১ ২০১৭, ০৮:৩৬

 

সাঈদ বারীঃশেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তটা নিয়েই ফেলল আদনান সোয়েব অর্থী। পত্রিকায় ইদানিং অনেক আত্মহত্যার খবর আসছে। যার বেশির ভাগই মেয়ে। দেখা যায় ইভটিজিংয়ের শিকার হয়ে কেউ কেউ আত্মহত্যা করছে। আবার কোন কোন মা বিভিন্ন অত্যাচারে পরে সন্তান সহ আত্মহত্যা করছে। তবে ছেলে মানুষের আত্মহত্যা ব্যাপারটা একটু অন্যরকম। কমই শোনা যায়।

একটু চিন্তায় পড়ে যায় আদনান সোয়েব অর্থী। আবার ভাবে আরে আত্মহত্যা কি মেয়েদের সম্পত্তি নাকি। যে কেউ চাইলে তা করতে পারে। এটা ভেবে একটু স্বস্তি লাগে ওর। আবার হাসিও হাসে। আত্মহত্যা করতে পারবে কিনা এটা ভাবছে। মরার যখন সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছে এত ভাবনা কেন?

তারপরও ভাবছে। সবচেয়ে আগে যেটা ভাবছে সেটা হচ্ছে কি খেলে কষ্ট ছাড়া মৃত্যু হবে।

অনেকে ফাঁস দিয়ে মরে। কিন্তু এত সাহস ছিল আদনান সোয়েব অর্থী’র। তবে গতকাল রাতে সে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে আদনান সোয়েব অর্থী।কারন পাশের ঘর থেকে তার ছোট ভাই বিষয়টি দেখতে পেরেছিল বলে। আগেই জানতো সে, আত্মহত্যায় যে বিফল হয় তাকে কেউ ভাল চোখে দেখে না। বিফলে যাওয়ায় তাই হলো।পরিবারের সকলে তাকে চোখে চোখে রাখে সারাদিন। গাল-মন্দ কম করে না পরিবারের সদস্যরা।

গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করার জন্য অনেক আয়োজন করেছিল আদনান সোয়েব অর্থী। আগেই চিন্তা করেছিল ফ্যানের সাথে ঝুলতে হবে। ঠিকমত বাঁধা না হলে নিচে পড়ে হাত পা ভাঙার সম্ভাবনা। তখন বিশ্রী অবস্থা হবে। আত্মহত্যা কারী ব্যক্তির দাবি অনেক জোরালো হয়ে উঠে ওর মৃত্যু দেখে।সুতরাং কোন রিস্ক নেওয়া যাবে না। এক চেষ্টাতেই যাতে মৃত্যু হয় এমন ব্যবস্থা নিতে হবে।

আত্মহত্যার আরো পথের কথা মাথায় রেখেছিল এই অর্থী তার মধ্যে খাবার মনে করে খাবে আর মৃত্যু হবে ব্যাপারটাতে এত ঝামেলা হবে না। এজন্য বেশ কিছু জিনিষও যোগাড় করেছে অর্থী। কীটনাশক, হারপিক, ডেটল, ঘুমের ওষুধ এগুলো ওর খাটের নিচে  ও টেবিলের ড্রয়ারে রাখা। সবচেয়ে কার্যকর কীটনাশক। ছোট একটা শিশিতে রাখা আছে। নাকের কাছে নিয়ে দেখেছে এটা তীব্র গন্ধ। খেতে হলে নাক বন্ধ করে খেতে হবে। এটার সুবিধা হচ্ছে খুব তাড়াতাড়ি মারা যাওয়া যাবে। দরজা ভেঙে ঢুকলেও হাসপাতালে নিতে নিতে মৃত্যু নিশ্চিত। মধ্যখানে আবার পৃথিবীতে এসে অপমানিত হওয়ার ঝুঁকি নেই। তবে ভয়ও করে অর্থী’র কেননা কীটনাশক খেলে বুক জ্বলবে অনেক। তখন সে জ্বলায় যদি চিল্লায় উঠে তবে অন্যরা ছুটে আসবে। জ্বলা সহ্য করবে নাকি অন্যদের ধস্তাধস্তি সহ্য করবে। কিছু চিন্তা করে কীটনাশকের ব্যাপারটা বাদ দিয়ে দেয়।

হারপিক, ডেটল এগুলো বাদ দেয়। বুক জ্বলাপোড়ার ভয়ে। তবে ঘুমের ওষুধ টা নিরাপদ। ঘুমানোর আগে একসাথে অনেক গুলো খেয়ে ফেলবে। ঘুমের মধ্যেই শান্তির মৃত্যু।

এখন দিন ঠিক করার বাকী। একবার ব্যর্থ হওয়ার পড় দ্বিতীয় বার ব্যর্থ হবার কথা চিন্তা করতে পাড়ছেন না অর্থী। আগামী কয়েকদিনের মদ্ধে পরিবারের সবাই হয়তো  গ্রামের বাড়ী যাবে। সেদিনই অর্থী এই দুনিয়া ছাড়ার বিষয় দেখবেন।কারন খালি বাসায় তার আর্তনাদ কেউ শুনবে না। তাই কেউ বাঁচাতেও আসবেন না। তাই আদরের মেঘপরির পথ পরিষ্কার করার উত্তম সময় সেদিনই  হবে। একদিকে নিজের কষ্ট হচ্ছে। আরেক দিকে প্রিয় জন ধিরে ধিরে দূরে সরে যাচ্ছে  এই ভেবে একজন পৃথিবী ছেড়ে স্বেচ্ছায় চলে যাচ্ছে। ব্যাপারটা নাটক নাটক মনে হচ্ছে। হোক নাটক সমস্যা নেই। মেঘপরীকে তো দেখিয়ে দেওয়া যাবে অর্থী তাকে কতটুকু ভালবেসেছিল । কিন্তু আফসোস হচ্ছে  ঐদিনের পড় মেঘপরীকে আর দেখতে পারবে না ভেবে।

আত্মহত্যা চিন্তা করার পর থেকে অদ্ভূত কিছু ভর করছে মাথায়। মনে হচ্ছে পাগল হয়ে গেছি। কিন্তু আত্মহত্যা করার আগে কোন মতেই পাগল হওয়া চলবে না। পাগলরা কখনও আত্মহত্যা করতে পারে না। এই যেমন এখন বিছানার সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করছে।

আর কথা বললে কোথা থেকে যেন উত্তরও চলে আসে।

আচ্ছা পাগলদেরও কি এরকম হয়?

-বিছানা, আর তিন-চারদিন পরই তোকে ছেড়ে চলে যাবো। খারাপ লাগছে। কত রাত তোর উপর থেকেছি। এরপর থেকে আর পারবো না। মাটিতে থাকতে হবে। কি যে কষ্ট হবে। কিন্তু আমি যে নিরুপায়।
বিছানা উত্তরে বললো- আপনি অযথা ইচ্ছা করে চলে যেতে চাচ্ছেন। পরে কিন্তু আফসোস করবেন।

আচ্ছা বিছনা আপনি করে বলছে কেন? সম্মানিত কেউ ভাবছে কি? আর এটা কি সত্যিই বিছানা উত্তর দিচ্ছে। ধূর কি যে হলো। এখন বিছানাকে কারণ ব্যাখ্যা করতে বললে আবার বিছানা উত্তর দিয়ে বসবে। তার চেয়ে চুপ থাকাই মঙ্গল। মাথা এত বেশি আউলায় লাভ নেই।

গত বুধবার রাত থেকেই সব এলোমেলো হতে শুরু করেছে। অনেক আশা নিয়ে বসেছিলাম হয়তো  কিছু হবে না।ভাবছিলাম মেঘপরী হয়তো সব মানেজ করে নিবে।কিন্তু তা পারলো না সে।  সর্বশেষ কাজটা কালকের হয়ে গেল  । তবে আমি চেস্টা করেছিলাম কিন্তু তার জন্য চেষ্টায় সফলতা পেলাম না। দিনে কয়েকবার তার বাসার সামনে যাই কিন্তু তার দেখা পাই না।

একটা কথা কি মেয়েটা আশ্চর্য এক মেয়ে। ওর সাথে কথা বললে মন ভাল হয়ে যায় মুহুর্তে। একটু ও মন খারাপ করে থাকা যায় না। ছেলেটার কি ভাগ্য। এই বয়সে এখন মেঘপরির মত ভাল একটা মেয়ে পাচ্ছে। মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে তার সাথে মজা করে একটু রাগ দেখাই কিন্তু তা এখন আর পারি না কারন দুঃখিত। সে তো এখন অন্য জনের। তার সাথে তো মজা নেওয়া যাবে না। ভুলে যাই মাঝে মাঝে।

 

আগে তাকে ইচ্ছে করে রাগিয়ে আবার রাগ ভাঙ্গাতাম।কিন্তু এখন আর তা হয়ে উঠবে এখন তার রাগ ভাঙানোর দায়িত্ব তো অন্য তার হবহু বর নিয়ে নিয়েছে।

তবে একটা বিষয় কি জানেন মেঘপরী কিন্তু নিজের ইচ্ছায় ঐ ছেলেকে বিয়ে করছে না। সে তার মা বাবার কথা অনুযায়ী ঐ ছেলেটাকেই বিয়ে করছে। হয়তো এখন তার কষ্ট হচ্ছে কিন্তু কয়দিন পরে ঠিকই সব মেনে নিবে সে।

সমস্যা কোথায়? ছেলেটা অনেক সুদর্শন।  হয়তো প্রতিষ্ঠিত। হয়তো অনেক সম্পদের মালিক। কিন্তু বয়সটা একটু বেশি সম্ভবত ৩৫ বছরের বেশি হবে আর মেঘপরীর বয়স ২০ বছর মাত্র। এই পনেরো বছরের বেশি বয়স্ক ছেলের হাতে তুলে দিতে পারলেই যেন তার বাবা মার সব স্বস্তি।কিন হবে টাকা পয়সা দিয়ে ,মানুষের জন্ম, মিরতু এবং বিয়ে তো একবারই হয়। বাকি কিছু বললাম না। একটা কথা না বললেই নয়, কিছু কিছু বাবা মায়ের এসব অতি উৎসাহী সিদ্ধান্তের কারনেই ছেলে মেয়েদের শান্তি নস্ট করে দেয়।ভেঙ্গে দেয় সব আশা।কিন্তু বাবা মা বলেই মেনে নেয় সব চুপচাপ করে।আসলে এতে কি সমাধান হয় ? যাকে জোর করে অন্য আর একজনের হাতে তুলে দিচ্ছেন তাকে আপনার মেয়ে মেনে নিতে পারবে কিনা তাকি একবার ভেবে দেখেছেন ??? যাই হোক এসব বিষয়ে কথা বলে কি লাভ……

নাহ সিদ্ধান্তটা পরিবর্তন করতে হবে।এত তাড়াতড়ি না মেঘপরীর বিয়ের দিন কিংবা বিয়ের একদিন আগে আত্মহত্যা করবে। এটাই ভাল হবে। নাহ থাক তার বিয়ের দিন তার বিয়ে হবে এটা আমি দেখতে কিংবা শুনতে পারবো না।তার চেয়ে বরং তার বিয়ের একদিন আগে চলে যেতে হবে এই ধরাধাম থেকে।

আমার অসহায়ত্ব অবস্থা বুঝার চেষ্টা কখনো করো নি। আর করতেও হবে না। মেঘপরি তোমাকে আর কখনো বিরক্ত করবে না। শুধু তোমাকে না পৃথিবীর আর কাউকেই বিরক্ত করবে না।

 আমি চাই আমি যেভাবে থাকঈ না কেন,মেঘপরি যেন সর্বসময় সুখেই থাকে ভালো থাকে। ভালো থাকুক মেঘপরি,ওই আকাশে চলে যাক অর্থী দুঃখিত আদনান সোয়েব অর্থী।

পরিশেষে সবাইকে বিদায়

বিঃদ্রঃ এই লেখাটি নিতান্তই একটু মজা করে লিখে ফেলেছি। এই লেখার সাথে কোন ব্যক্তি বা বস্তু বা কারো ব্যক্তিগত জীবনের সাথে মিল খুজে পাওয়া কাকতালীয় ।
Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>