ছেলের চেয়েও ভালো ফল মায়ের

জুলাই ২৩ ২০১৭, ২১:১৩

ডেস্ক রিপোর্টঃ নাটোরে ছেলে রাকিব আমিন সবুজের (২০) সঙ্গে এইচএসসি পাস করেছেন মা শাহনাজ পারভীন (৪০)। তাদের সঙ্গে এ বৈতরণী পেরিয়েছেন শাহনাজের ফুফাতো বড়বোন মমতা হেনাও (৪১)। রাকিব পেয়েছেন জিপিএ- ৩.৬৭, শাহনাজ পেয়েছেন জিপিএ- ৪.৮৩ এবং মমতা হেনা পেয়েছেন জিপিএ- ৪.৮৮।

জেলা শহরের মল্লিকহাটী মধ্যপাড়া এলাকায় রাকিবদের বাড়িতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মা-ছেলে ও খালা এক সঙ্গে পাশ করায় আনন্দের বন্যা বইছে পরিবারটিতে। শুভেচ্ছা জানাতে আসা পাড়া-প্রতিবেশীদের চলছে মিষ্টি খাওয়ানো।

পরিবারটির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৯২ সালে মল্লিকহাটী মধ্যপাড়া এলাকার শাহজাহান আলীর মেয়ে শাহনাজের বিয়ে হয় সদর উপজেলার তেলকুপি গ্রামের বই ব্যবসায়ী রুহুল আমিনের সঙ্গে। ১৯৯৫ সালে শাহনাজ এসএসসি পাশ করেন। কিন্তু স্বামীর বইয়ের ব্যবসায় ধস নামায় এক ছেলে ও এক মেয়েকে লেখাপড়া করানোর চিন্তা থেকে শাহনাজ একটি ক্লিনিকে সেবিকা হিসেবে চাকরি নেন। ২০১৫ সালে ছেলে রাকিব আমিন সবুজ এসএসসি পাশ করে নাটোর টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি হয়। আর মেয়ে নাটোর বালিকা বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণীতে পড়ছে। বছর দুয়েক আগে শাহনাজ বুঝতে পারেন, এইচএসসি পাশ করে নার্সিং কোর্স শেষ না করায় তিনি অন্যান্য সহকর্মীদের সমান বেতন পাচ্ছেন না। এরপর ভাই কাওছারের সহযোগীতায় নাটোর মহিলা কলেজে ভর্তি হন।

এদিকে, শাহনাজের কলেজে ভর্তির কথা শোনে একই কলেজে ভর্তি হন তার ফুফাতো বোন মমতা হেনা।

মমতা হেনার স্বামী আব্দুস সালাম একজন বাসচালক। তাদের দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে সুমাইয়া আমিন রুহি গত বছর এইচএসসি পাশ করে বর্তমানে ডিগ্রি কলেজে পড়ছে। অন্য মেয়ে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

শাহনাজের স্বামী রুহুল আমীন জানান, স্ত্রী এবং ছেলে একসঙ্গে পাশ করায় তার খুবই ভালো লাগছে। পরিবারে অভাব-অনটন সত্ত্বেও তারা ভাল ফলাফল করায় তিনি গর্বিত। তার স্ত্রী উচ্চশিক্ষা নিতে চাইলে তিনি সব ধরণের সহযোগিতা করবেন।

মমতা হেনার স্বামী আব্দুস সালাম স্ত্রীর ভাল ফলাফলে আনন্দ প্রকাশ করে জানান, তার স্ত্রী লেখাপড়া চালিয়ে যেতে চাইলে তিনি সহযোগিতা করবেন। নিজে বেশি লেখাপড়া করতে পারেননি, কিন্তু স্ত্রীর পড়াশোনায় তার উৎসাহ ও সহযোগীতা ছিল।

শাহনাজের ভাই কাওছার আলী জানান, দুই বোন আর ভাগ্নে একসঙ্গে এইচএসসি পাশ করায় তিনি খুবই খুশি। তবে শাহনাজের পরিবারটি বর্তমানে অভাব-অনটনে আছে। তাই তিনি ওই পরিবারের সদস্যদের লেখাপড়ায় সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতার আহবান জানান।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন জানান, পড়াশোনার যে কোনও বয়স নেই, তা প্রমাণ করলেন শাহনাজ পারভীন, রাকিব ও মমতা হেনা। অদম্য মনোবলের কারণে তারা আরও এগিয়ে যাবে।

তিনি জানান, গত এসএসসি পরীক্ষায় জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার গালিমপুর এলাকায় মলি রানী কুন্ডু এবং তার ছেলে মৃন্ময় কুমার কুন্ডু একসঙ্গে পাশ করায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সে সময় জেলা প্রশাসক হিসেবে তিনি ছাড়াও স্থানীয় সংসদ সদস্য মলি ও মৃন্ময়ের পাশে দাঁড়িয়েছিল। শাহনাজ, রাকিব ও মমতা হেনার পাশেও তারা দাড়াবেন।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>