জনপ্রতিনিধিদের প্রতি সম্মান দেখাতে ভ্যাট আইন স্থগিত’

জুলাই ১৪ ২০১৭, ০০:১০

ডেস্ক রিপোর্টঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সংসদে এবার বাজেটের উপর ২০৭ জন সংসদ সদস্য আলোচনা করেছেন। বিরোধী দলের চেয়েও এবার সরকারি দলের সদস্যরাই সবচেয়ে বেশি সরকারের, বাজেটের ও অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করেছেন। নিজেদের মতামত প্রকাশে কেউ তাদেরকে বাধা দেয়নি। সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ থাকলেও সংসদ সদস্যদের যে মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে তা এখন প্রমাণিত সত্য। অথচ অনেকে এই ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা করেন।
চলতি দশম সংসদের ষষ্ঠদশ অধিবেশনের বৃহস্পতিবার সমাপনী দিনে সংসদে দেয়া বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। উল্লেখ্য, এটা ছিল বাজেট অধিবেশন। গত ৩০ মে শুরু হওয়া এই অধিবেশনে গত ১ জুন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব করেন যা ২৯ জুন পাস হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যদের আলোচনাকে সামনে রেখে অর্থমন্ত্রী বাজেটের বেশকিছু সংশোধনী এনেছেন। জনগণের প্রতিনিধিদের মতামতের প্রতি সম্মান দেখাতে ভ্যাট আইন স্থগিত রাখা হয়েছে। এতে কিন্তু ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে এবার ২০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় কম হবে। কিন্তু যেভাবেই হোক আমাদেরকে এই ঘাটতি পূরণ করতে হবে। সেক্ষেত্রে সরকারকে হয়তো ব্যাংক ঋণ নিতে হবে, অথবা উন্নয়নবাজেটে কিছুটা কাটছাঁট করতে হবে। ভ্যাট আইন স্থতিগের ফলে রাজস্ব ঘাটতি পূরণে তিনি সবাইকে নিয়মিত আয়কর প্রদানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এতে দেশেরই উন্নয়ন হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, রাস্তা-ঘাট নির্মাণ ও ফলন বৃদ্ধিসহ সবক্ষেত্রে উন্নয়ন হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ’৯৬ থেকে ২০০১ মেয়াদে ৫টি, ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৯টি মিলিয়ে মোট ১৪টি বাজেট দিয়েছে। স্বাধীনতার পর তিনটি বাজেট দিয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে এই বাজেটগুলোর মধ্য দিয়েই জনগণের উন্নতি, আয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক
স্বাবলম্বিতা এসেছে।
তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী দিনরাত পরিশ্রম করেছেন, বাজেটের আগে তিনি নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বিএনপি সরকারের আমলে বাজেট ছিল ৬১ হাজার কোটি টাকার। সেখানে এবার ৪ লাখ কোটি টাকার উপরে বাজেট, এতবড় বাজেট আগে কখনও কেউ দিতে পারেনি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে আমরা কোনো কাটছাঁট করিনি। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চেয়েছি। ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নবাজেটের মধ্যে আমাদের সরকার ১ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু কিছু পত্রিকা বড় বড় হেডলাইন করেছে, অথচ একবারও দেখলা কত উন্নয়নবাজেট আর আমরা কতটা বাস্তবায়ন করেছি। যা অন্য কোনো সরকার করতে পারেনি। এক্ষেত্রে আমরা এবার একটা ইতিহাস সৃষ্টি করেছি।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমনে আমারা জিরো-টলারেন্স নীতিমালা নিয়েছি। বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের স্থান হবে না। দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদ রোধ করে আমরা জনগণের শান্তি-নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি। প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টি করতে পেরেছি।
প্রধানমন্ত্রী তার আগে সমাপনী বক্তব্য দেয়া বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদের বক্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, উন্নয়ন শুধু মুখে নয়, আমরা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেরেছি। বন্যায় অনেক ফসল নষ্ট হয়েছে। আমরা বসে থাকিনি। খাদ্য আছে। সামনে আরও বড় বন্যা হতে পারে। বিদেশ থেকে খাদ্য আমদানি করে মজুদ করছি। যেন  বিপদে মানুষের কষ্ট না হয়। ত্রাণ মন্ত্রণালয় সক্রিয় আছে, ত্রাণমন্ত্রীও দুর্গত এলাকায় যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও সক্রিয় আছে। বন্যার পানি সরে যাওয়ার পর আমরা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করব। হেলিকপ্টারও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে যেন দুর্গত এলাকায় হেলিকপ্টারে করে ত্রাণ পৌঁছানো যায়।
Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>