জমি দখলকে কেন্দ্র করে সহোদরকে কুপিয়ে যখম

আপডেট : July, 3, 2017, 6:16 pm

বরিশাল অফিসঃ নিঃসন্তান ছোট ভাইয়ের সম্পত্তি দখলের লক্ষ্যে তাকে ছুরি দিয়ে জখম করলো বড় ভাই ও তার পরিবার। মুমুর্ষ অবস্থায় ছোট ভাই মাহাবুব হাওলাদারকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছে তাকে বাচাতে হলে জরুরী ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে ভান্ডারিয়া উপজেলার উত্তর শিয়ালকাঠী গ্রামে।
আহতের পরিবারিক সূত্রে জানাগেছে, ওই গ্রামের হোসেন আলীর মৃত্যুর আগে বড় ছেলে সাইদুর রহমান মহারাজ দুষ্ট প্রকৃতির থাকায় তাকে কোন সম্পত্তি দেন নি। পিতার মৃত্যুর পর ছোট ভাই মাহাবুব হাওলাদার মানবিক দৃস্টিতে তার জমির উপর একটি ঘর তুলে বড় ভাই সাইদুর রহমান মহারাজ ও তার পরিবারকে থাকতে দেন। এরপর থেকেই ছোট ভাইয়সহ তার বাকী দুই ভাইয়ের সম্পত্তি দখলের পায়তারা চালিয়ে যায় বড় ভাই সাইদুর রহমান মহারাজ। এ নিয়ে ভাইদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃস্পতিবার (২৯ জুন সকালে বড় ভাই সাইদুর রহমান মহারাজ (৬২) ছোট ভাই মাহাবুব’র ঘরে প্রবেশ করে। এসময় বুঝে উঠার আগেই সাইদুর রহমান মহারাজ’র স্ত্রী ফিরোজা বেগম, ছেলে শাকিল হাওলাদার ও রাসেল হাওলাদার এবং নাতি রাহিদ হাওলাদার ক্ষিপ্ত হয়ে মাহাবুব কে জাপটে ধরে মারধর করে।

এক পর্যায় মাহাবুবের পেটে ছুকিঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে তার ডাক চিকিৎকারের শব্দ শুনে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। আজ বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন আহতের স্ত্রী রেক্সনা বেগম ও আহতের সেঝ ভাই আবদুল আলিম হাওলাদারের ছেলে সজিব হাওলাদার।
এব্যপারে শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, ছুরিকাঘাতে মাহাবুবের পেনের ভূড়ি ছিদ্র হয়ে গেছে। তার একটি অপারেশন করা হয়েছে। তাবে তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। মাহাবুব ও তার স্ত্রী রেক্সনা রাজধানী ঢাকায় গারমেন্টর্স কাজ করেন। তাদের কোন সন্তানও নেই। বর্তমানে মাহাবুবের চিকিৎসা খরচ নেই। ইতো মধ্যে গ্রামবাসীর কাছ থেকে চাদা তুলে চিকিৎসার খরচ চালানো হয়েছে। এ অবস্থায় সমাজের বৃত্তবানদের সহযোগীতা চেয়েছেন তারা।
অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, স্থানীয় ভাবে বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত হামলাকারী সাইদুর রহমান মহারাজ। বেশ কিছুদিন পূর্বে তার বিরুদ্ধে ভেজাল জুস তৈরি করে বিক্রির দায়ে মামলা হয়। সে বেশ কয়েক বছর সাজাও খেটে অতঃপর হাইকোর্টের মাধ্যমে জামিনে বেড় হন তিনি। এরপর থেকেই ভাইদের সম্পত্তি দখলে মরিয়া হয়ে উঠেন। তার মতো তার সন্তানরা বেপরোয়া। ইতো মধ্যে তার এক পূত্রকে ইয়াবাসহ র‌্যাব আটক করে।

Facebook Comments