জীবনানন্দ দাশের অজানা পাঁচ

অক্টোবর ২২ ২০১৭, ১৪:৫১

রূপসির বাংলার কবি, তিমির হননের কবি ও ধূসরতার কবি জীবনানন্দ দাশ ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর ট্রাম দুর্ঘটনায় না ফেরার দেশে চলে যান। আজ (রোববার) কবির ৬৩তম প্রয়াণবার্ষিকী।

মৃত্যুর ছয় দশক পরেও প্রগাঢ় প্রকৃতি প্রেমিক এই কবির সৃষ্টিকর্মের প্রতি মানুষের আগ্রহ তিলার্ধ কমেনি, বরং বেড়েছে। মানুষ তার অজান্তের নিজের মনন, চিন্তা ও দর্শন কবির কাব্যে-সাহিত্যে খুঁজে পাচ্ছে। তাই এই কবির আবেদন শ্বাশত ও ধ্রুব। তবে কবি জীবনানন্দ দাশ সমকালীন বোদ্ধাদের কাছে সামালোচিত হলেও ক্রমশ পাঠকমননে সাড়া জাগিয়েছেন। প্রখ্যাত এই কবি সম্পর্কে কতটুকু জানা আছে? বরিশাল লাইভের সৌজন্যে আরো কিছু জানা যেতে পারে নিচের অংশে-

১. জীবনানন্দ দাশের আসল নাম জীবনানন্দ দাশগুপ্ত। বাংলাদেশের বরিশালের বিক্রমপুরের বাসিন্দা জীবনানন্দ ব্রাহ্ম সমাজ আন্দোলনে যুক্ত হয়ে নাম থেকে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের চিহ্ন বাদ দিয়ে হন জীবনানন্দ দাশ। পরে

এই নামেই বিখ্যাত হন তিনি।

২. প্রেসিডেন্সি কলেজের ইংরাজি সাহিত্যের ছাত্র ছিলেন জীবনানন্দ। স্নাতকোত্তরের পরীক্ষার আগে গভীরভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন তিনি। যদিও সেই ফলাফলের কোনো প্রভাব তার জীবনে। বাংলা কাব্যে তার অবদান তাকে অমরত্ব দিয়েছে।

৩. ‘ব্রহ্মবাদী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় জীবনানন্দের প্রথম কবিতা।

৪. ১৯২৭ সালে প্রকাশিত হয় জীবনানন্দের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ঝরাপালক’। রবীন্দ্রনাথকে গ্রন্থের একটি কপি পাঠিয়েছিলেন কবি। জবাবও দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। তাতে প্রশংসার থেকে সমালোচনাই ছিল বেশি। জবাবে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘তোমার কবিত্ববোধ আছে এতে সন্দেহ নাই। কিন্তু ভাষা প্রবৃত্তি নিয়ে এত জবরদস্তি কর কেন বুঝতে পারি নে। কাব্যের মুদ্রাদোষটা ওস্তাদীকে পরিহাসিত করে।’

৫. সমকালীন কবিদের কাছে হতাশাবাদী বলে চিরকাল সমালোচিত হয়েছেন জীবনানন্দ। অনেকে সম্পাদক তার কবিতা প্রকাশে অসম্মতি প্রকাশ করেন। তবু দমে যাননি জীবনানন্দ। লাগাতার লেখা চালিয়ে গিয়েছেন তিনি।

Facebook Comments