জেলেদের চাল বিতরনে অনিয়মের অভিযোগ চেয়ারম্যান কর্তৃক দুই জেলে প্রহরিত

আপডেট : February, 25, 2017, 8:44 pm

পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃজেলার দশমিনা উপজেলায় জেলেদের মাঝে চাল বিতরন করা হয়েছে এমন অভিযোগ এনে স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছে বিচার চাইতে গিয়ে ইয়াকুব মৃধা (৪০) আল আমিন মৃধা (৩০) নামে দুই জেলে চেয়ারম্যান কর্তৃক মারধোরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার সকালে উপজেলার খাদ্য গুদামে জেলেদের মারধোর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ওই দুই জেলেসহ স্থানীয়রা।

জানা গেছে,দশমিনা উপজেলা সদরের ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের জেলেদের মধ্যে জন প্রতি আশি কেজি করে চাল বিতরন করা হয়েছে এমন খবর শুনে ওই ওয়ার্ডের তালিকা ভুক্ত পুরনো জেলেরা উপজেলা সদরে ছুটে আসেন। এসে দেখেন তাদের নাম বাদ দিয়ে ইউপি সদস্য মোঃ বেল্লাল হোসেন অন্য পেশার লোকজন ওতার কর্মী-সমর্থকদের মাঝে চাল বিতরন করছেন এবং পরিমানে ১৫ কেচি করে চাল কম দিচ্ছেন।

প্রকৃত জেলেদের নাম বাদ দিয়ে অন্য পেশা জীবিদের চাল দেয়া হচ্ছে কেন জেলেরা এমন তথ্য জানতে চাইলে ওই ইউপি সদস্য বেলাল বলেন, তোমরা ভোটের সময় আমার সাপোর্ট করনি। তাই তোমাদেরকে চাল দেয়া হচ্ছেনা।

পরে জেলেরা ক্ষুদ্ধ হয়ে দশমিনা সদর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড.ইকবাল মাহমুদ লিটনের কাছে বিচার চাইতে গেলে তিনিও জেলেদের গাল-মন্দ করেন। এতে জেলেরা ক্ষুব্ধ হয়ে তার মুখের ওপরে কথা বললে,এক পর্যায় ওই চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে ইয়াকুব মৃধা (৪০)

আল আমিন মৃধা (৩০) নামে দুই জেলেকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ফুলা যখম করেন।

এদিকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জন প্রতি চাল গ্রহনে অংশ নেয়া মানুষকে ১৫ কেজি করে পরিমানে কম দেয়া হচ্ছে। এসময় ইউপি চেয়ারম্যানকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। আহত জেলেরা অভিযোগ করে বলেন, আমরা ভাইয়া বাহিনীর সদস্য (চেয়ারম্যান) না হওয়ায় ও বেল্লাল মেম্বারকে ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। যাদের চাল দেয়া হয়েছে তারা সকলে চেয়ারম্যানের লোক তাই তারা চাল পাচ্ছে।

ইউপি সদস্য বেলাল হোসেন জানান, যারা অভিযোগ করেছে তারা চাল বিতরনের সময় আবুল খায়ের নামে কর্মরত এক গ্রাম পুলিশের চৌকিদার) ইউনিফরম ছিরে ফেলেছে। এসময় চৌকিদার তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে কয়েকটি আঘাত করেছেন। চেয়ারম্যান মারধোর করেছে কিনা তা আমি দেখেনি। বেলাল হোসেন আরো জানান, এ ব্যাপারে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে এবং চৌকিদারের গায়ে হাত তোলার অপরাধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে’।

চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ জেলেদেরকে মারধোর করেছেন এমন অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমার চৌকিদারকে উল্টো জেলেরা ধাক্কা দিয়েছে। আর চাল বিতরনের সময় শৃংখ্যলা বজায় রাখতে একটু ধাবার দেয়া হয়েছে মাত্র’। কোন মারধোরের কোন ঘটনা ঘটেনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইসরাইল হোসেন জানান ‘আমি ছুটিতে আছি। জেলেদের মারধোর করা হয়েছে কিনা আমি খোজখবর নিয়ে দেখছি।

Facebook Comments