ঝালকাঠিতে উদ্ধার হওয়া ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়ার শিশুকে পিতার কাছে হস্তান্তর

জুন ২১ ২০১৭, ০০:০৪

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার কলাপাড়া এলাকা থেকে অপহৃত শিশু সাকিব (৫) কে উদ্ধারের পর পিতার কাছে হস্তান্তর করেছে ঝালকাঠি জেলা পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে শিশুটির পিতা ফায়ারসার্ভিস কর্মী জসিম উদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করেন ঝালকাঠি পুলিশ সুপার মো জোবায়েদুর রহমান। এসময় সাকিবের পিতা আবেগাপ্লুত হয়ে শিশুটিতে জড়িয়ে ধরে কান্না ও আদর করতে থাকেন। তিনি পুলিশকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে ঝালকাঠি পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে চির ঋণি বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এসময় অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রকিব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এমএম মাহমুদ হাসান, আশুগঞ্জ থানার এসআই মোঃ সাইফুল। পুলিশ সুপার মো. জোবায়েদুর রহমান জানান, সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে জেলার নলছিটি উপজেলার রায়াপুর বটতলা এলাকার মমতাজ বেগম নামের এক মহিলা আমাকে মোবাইলে জানান এখানে একটি শিশুকে কান্না করা অবস্থায় দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা শিশুটির সাথে থাকা হাসান ওরফে হোসেন (২৫) নামের একজনকে আটক করে। ঘটনাটি শুনে আমি সাথে সাথে অতিরিক্ত সুপলিশ সুপার মাহমুদ হাসানকে তাৎক্ষণিক জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেই। সে নলছিটি থানা পুলিশকে সাথে নিয়ে শিশু সাকিবকে উদ্ধার ও অপহরণকারী হাসান ওরফে হোসেনকে আটক করে। পরে সাকিবের পিতাকে সংবাদ দেয়া হলে তিনি ঝালকাঠির উদ্যেশ্যে রওয়ানা করেন। রাতে সাকিব অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মাহমুদ হাসানের তত্বাবধানে ছিলেন। তিনি শিশুকে নিজ হাতে গোসল করিয়ে, খাইয়ে, নতুন গেঞ্জি, প্যান্ট, জুতা পরিয়ে রাতে নিজের কাছেই রাখেন। আইনী প্রক্রিয়ার বিষয়ে পুলিশ

সুপার বলেন, ১৮ তারিখে শিশু সাকিবকে খুজে না পেয়ে আশুগঞ্জ থানায় একটি সাধারন ডায়েরী (নং- ৭৮৭) করেন করেন সাকিবের পিতা জসিম উদ্দিন। এখন সাকিবকে সেখানে নিয়ে জিডির বরাত দিয়ে একটি মামলা হবে। আটককৃত হাসান ওরফে হোসেনকে ঝালকাঠি থেকে সেখানে নেয়া হবে। শিশু সাকিবের পিতা ফায়ারসার্ভিস কর্মী মোঃ জসিম উদ্দিন জানান, রোববার দুপুর ১ টার দিকে শিশু শ্রেনীর ছাত্র সাকিব ওর মা’র কাছে বলে বাড়ির কাছের দোকানে যায়। সেখানে হাসান তাকে বাবা’র কাছে নেয়ার কথা বলে অপহরণ করে। আধাঘণ্টার মধ্যে সাকিবকে খুঁজে না পেয়ে দোকানের পাশ্ববর্তি পুকুরে ছেলে ডুবে গেছে ভেবে অসংখ্য লোক খুজতে থাকে। এলাকায় রিক্সায় করে মাইকিং এবং মসজিদে মসজিদে সন্ধান চেয়ে মাইকিং করা হয়েছে। কিন্তু কোথাও থেকে কোন সন্ধান আসে নি। সোমবার দুপুরে ঝালকাঠি পুলিশ সুপার আমাকে ফোন দিয়ে ঘটনাটি জানান। ঝালকাঠি পুলিশ সুপারসহ জেলা পুলিশের এ সময়োচিত তৎপরতার কারণে উদ্ধার করা আমার বাবাকে ফিরে পেতে সক্ষম হয়েছি। পুলিশকে ধন্যবাদ বা কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার নেই। আমি তাঁদের কাছে চির ঋণী হয়ে রইলাম। আশুগঞ্জ থানার সাধারন ডায়েরীর তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাইফুল ইসলাম জানান, রোববার (১৮ জুন) দুপুরের দিকে শিশু নিঁখোজের জন্য ডায়েরী করতে আসে সাকিবের বাবা মোঃ জসিম উদ্দিন। আমরা জিডি নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করি। ঝালকাঠিতে উদ্ধারের খবর পেয়ে সাকিবের বাবা’র সাথে আমিও চলে আসি। আমরা সাকিবকে ব্রাক্ষ্মনবাড়িয়ায় নিয়েও পুলিশ সুপার মহোদয়ের সাথে স্বাক্ষাত করাবো। আটককৃত হাসান মৃধা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার কচুয়া গ্রামের খালেক মৃধার ছেলে।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>