ঝালকাঠিতে ঘুষ দাবির অভিযোগে তিন এসআই’র বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : April, 23, 2017, 4:56 pm

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ পঞ্চাশ হাজার টাকা ঘুষের দাবিতে এক যুবক ও তাঁর মাকে মারধরের অভিযোগে ঝালকাঠির নলছিটি থানার তিনজন উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। নির্যাতিত যুবকের মা সেলিনা বেগম বাদী হয়ে আজ রবিবার দুপুরে ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি দমন আইনর ৫(২) ধারায় ঝালকাঠির বিশেষ জজ আদালতে এ অভিযোগ দায়ের করেন। আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. ইখতিয়ারুল ইসলাম মল্লিককে কোন আদেশ না দিয়ে আগামী ২৬ এপ্রিল শুনানীর জন্য দিন ধার্য করেন।
মামলার আসামীরা হলেন, নলছিটি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিপ্লব কুমার মিস্ত্রী, মো. ফিরোজ ও মো. জসিম।
মামলার বিবরণে জানাযায়, গত ৩০ মার্চ রাত তিনটার দিকে নলছিটি থানার তিন এসআই বিপ্লব কুমার, ফিরোজ ও জসিম ৫/৬জন কনেস্টবলসহ নলছিটি উপজেলার তৌকাঠি গ্রামের মৃত ফারুক হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দরজা খুলতে বলেন। ফারুক হোসেনের স্ত্রী সেলিনা বেগমের (৫৩) দরজা খুলতে দেরী হলে তিন এসআই ও পুলিশ দরজা ভেঙ্গে জোড় পূর্বক ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। তাঁরা সেলিনা বেগমের দুই ছেলে দিন মজুর সজিব ও

রাজিবকে মারধর শুরু করে। সেলিনা বেগম ছেলেদের বাঁচানোর চেষ্টা করলে তিন এসআই তাকেও মারধর করে। সেলিনা বেগম মারধরের কারণ জানতে চাইলে তিন এসআই বলেন ‘তোর ছেলেরা মাদকের ব্যবসা করে। এখন আমাদের পঞ্চাশ হাজার টাকা দিবি অন্যথায় তোর ছোট ছেলেকে ধরে নিয়ে মাদক (গাঁজা) মামলায় চালান দেব।’ সেলিনা বেগম টাকা না দেওয়ায় পুলিশ তার ছোট ছেলে রাজিবকে গ্রেপ্তার করে নলছিটি থানায় নিয়ে যায় এবং রাজীবের কাছে এক পুড়িয়া গাঁজা পাওয়া গেছে বলে প্রচারণা চালায়। পরের দিন ৩১ মার্চ সকালে নিরীহ দিনমজুর রাজীবকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, এ খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের কয়েকশত মানুষ নলছিটি থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বিক্ষোভের কারণে নলছিটি থানা পুলিশ রাজীবকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। বিক্ষোভের সময় পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা অভিযুক্ত তিন এসআইসহ কনেস্টবলদের নলছিটি থানা থেকে প্রত্যাহারের আশ্বাস দিলেও প্রত্যাহার করা হয়নি। এ ব্যাপারে সেলিনা বেগম পুলিশের আইজি, ডিআইজি এবং বরিশাল দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করে কোন সুফল না পেয়ে রবিবার আদালতে মামলা দায়ের করেন।

Facebook Comments