ঝালকাঠিতে ভিজিএফ এর গম বিতরন নিয়ে দূর্নীতির অভিযোগ

জুন ৩০ ২০১৭, ১৭:৪২

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলাও চেচরী রামপুর ও আমুয়া ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পবিত্র ঈদ উপলক্ষে সরকারের দেয়া বিজিএফ গম আত্মসাতের উদ্দেশ্যে নানাফন্দি ও তেলেসমতি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। অসহায়-দুস্থ মানুষের জন্য খয়রাতি সাহায্য হিসাবে বরাদ্ধকৃত গম গোডাউন থেকে পুরোটা না আনা, মাষ্টাররোল গোপন করা ও ৩২ বস্তা উদবৃত্ত গম বিক্রির প্রচেষ্টাকালে হাতেনাতে ধরা পরেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি নিয়মানুযায়ী দুস্থ ও অসহায় মানুষদের জনপ্রতি ১৩.৭ কেজি গম দেয়ার কথা থাকলেও এ দুটি ইউনিয়নের জনপ্রতি সাড়ে ৬-৭ কেজি বিতরন করে উব্দৃত্ত এ ৩২ বস্তা গম আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ তুলেন।
গত ২৭ জুন কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডাঃ শরিফ মোঃ সাইদুল আলম গুরুতর এ অভিযোগ পেয়ে সরেজমিন চেচরী রামপুর ইউনিয়নে ১৯ বস্তা ও আমুয়া ইউনিয়নে ১৩ বস্তা গম জব্দ করেছে। এ অবস্থায় ইউপি চেয়ারম্যানদের কাছ থেকে উক্ত ৩২ বস্তা গম আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রশাসনের উপস্থিতিতে বিতরন করবেন মর্মে মুচলেকা নিয়ে পরিষদের গোডাইনে সিলগালা করে রেখে আসেন। আ’লীগ নেতা এ দুই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঈদ উপলক্ষে সরকারের দেয়া খয়রাতি সাহায্যের গম বিতরনে এহেন অনিয়ম হাতেনাতে ধরা পরলেও রহস্য জনক কারনে ইউএনও কোন আইনগত ব্যবস্থা না গ্রহন করেনি। তবে এ দুটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের অভিযোগ, সরকারী বিধিমালা অনুযায়ী ভিজিএফ বিতরন কালে একজন ট্যাগ অফিসারের সার্বক্ষনিক উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও ইউএনও সে ব্যাপারে উদাসিনতা পালন করে অন্যায় ভাবে জনপ্রতিনিধির হয়রানি করছে।
অভিযোগ সূত্রে জানায়, সরকার পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুস্থ-অসহায় মানুষের জন্য বিজিএফ গম বরাদ্দ দিলে কাঠালিয়া উপজেলার চেচরী রামপুর ও আমুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদ্বয় উক্ত গম বিতরনে অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার আশ্রয় নেয়া হয়। বিষয়টি স্থানীয়রা কাঠালিয়ার উপজেলার ইউএনও কে জানালে মঙ্গলবার তিনি সরেজমিন গিয়ে চেচরী রামপুর ইউনিয়নে ১৯ বস্তা ও আমুয়া ইউনিয়নে ১৩ বস্তা গম মজুদ দেখতে পান। এ বিষয়ে চেয়ারম্যানরা তাকে জানায় সোমবার ঈদ হলেও তা্রা শনিবার গম পেয়ে রবিবার বিতরন করলে কিছু লোক অনুপস্থিত থাকায় উক্ত গম ইউনিয়ন পরিষদে রয়ে

গেছে। পরে ইউএনও জব্দকৃতসহ বিতরনের মাষ্টাররোল ও পরিষদের রেজুল্যেশন দেখতে চাইলে আমুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মাষ্টাররোল ও রেজুল্যেশন দেখাতে ব্যর্থ হয়। আমুয়া ইউপি চেয়ারম্যান ফোরকান সিকদার উদবৃত্ত গম থেকে স্থানীয় পল্ট্রি ফিড ব্যবসায়ী মামুনের কাছে ছয় বস্তা ও অপর এক ব্যবসায়ীর কাছে ১বস্তা গম বিক্রি করলেও ইউএনও ডাঃ সাইদুল আলম ইউনিয়ন পরিষদে তদন্তে আসলে তড়িঘড়ি করে চেয়ারম্যান বিক্রিত সে গম ফিরিয়ে আনে।
এ ব্যাপারে চেচরী রামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন ফরাজী জানায়, তার মেয়ের অসুস্থতার করনে বেশ কিছুদিন পূর্ব থেকে ঢাকায় রয়েছেন। তবে প্যানেল চেয়ারম্যান ও সচিব সহ পরিষদের সদস্যরা গত ২৫জুন রবিবার ভিজিএফ গম বিতরনের পর ৬৬জন স্লীপধারী অনুপস্থিত থাকায় তাদের গম বিতরন বাকী থাকলে বিষয়টি রেজুল্যেশন করে পরিষদে তার গম রেখে দেয়া হয়। আমার ইউনিয়নে মোট ১৩.৬টন গম বরাদ্ধ করা হলে জনপ্রতি ১৩.৭ম গ্রাম করে এক হাজার জনের মধ্যে স্লীপ বিতরন করা হয়েছিল। এখানে কোন অনিয়মের ঘটনা না ঘটলেও পুরুষ ইউপি সদস্য জাফর আলী খান ও মহিলা সদস্য তানিয়া বেগম বানোয়াট অভিযোগ তুলে ইউএনওকে ইউনিয়ন পরিষদে এনে উক্ত গম জব্দের নাটক সাজিয়ে আমার সম্মান নষ্ট করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে আমুয়া ইউপি চেয়ারম্যান ফোরকান সিকদারের সাথে আলাপ করতে বহুবার তার সেল ফোন নাম্বারে (০১৭১৬৮৯৬৮৩৬) কল করলেও নাম্বার বন্ধ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে কাঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ডাঃ শরিফ মোঃ সাইদুল আলম জানায়, এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২৭ জুন চেচরী রামপুর ও আমুয়া ইউনিয়নে যাওয়ার পর বিতরন না করা উক্ত গম পাওয়া যায়। তখন ইউপি চেয়ারম্যানরা জানায়, ভিজিএফ বিতরনের দিন স্লীপ দেয়া কিছু লোক অনুপস্থি থাকায় ৩২ বস্তা গম উদবৃত্ত থাকলেও ঈদের পর তাদের গম দিয়ে দেয়া হবে। এ বিষয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রশাসনের উপস্থিতিতে উক্ত গম বিতরন করা হবে মর্মে তাদের কাছ থেকে লিখিত নিয়ে পরিষদের গোডাইনেই গম তালাবদ্ধ করে রেখ দেয়া হয়েছে। তিনি বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে বলে অবহিত করলেও কোন প্রমাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে আরো জানান।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>