ঝালকাঠিতে শিক্ষকের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার দাবি

মার্চ ৩০ ২০১৭, ২০:৩৪

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ  ‘শিক্ষকরা সমাজে দুর্বল তাই ক্ষমতাসীনরা তাদের সঙ্গে সহজেই দাপট দেখান। লাঞ্ছিত করেন, হাত-পা ভেঙ্গে দেন। মানুষ গড়ার কারিগররাই যদি বিপন্ন হয় তাহলে দেশ আগাবে কি করে? শিক্ষকদের ওপর হামলা-নির্যাতন বন্ধ এবং বিচার না হলে দেশের শিক্ষক সমাজ কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।’ ঝালকাঠিতে দুই শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও হাত-পা ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় এমন ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বরিশাল বিভাগীয় এবং ঝালকাঠি জেলা শিক্ষক নেতৃবৃন্দ।
গতকাল বৃহস্পতিবার বরিশাল প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় শিক্ষক কর্মচারী ফ্রন্ট বরিশাল বিভাগীয় শাখা শিক্ষা জাতীয়কারণ ও বৈশাখীভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন দাবীতে অবস্থান ধর্মঘট পালনকালে ঝালকাঠির রাজাপুরে সাতুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুল হককে লাঞ্ছিত ও সদর উপজেলার গোবিন্দধবল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল লতিফ মিয়ার হাত-পা ভেঙ্গে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেন। ফ্রন্টের বিভাগীয় আহ্বায়ক অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল বলেন, ওই দুই শিক্ষকের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিতে হবে। তা না হলে এধরণের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। বরিশাল আঞ্চলিক শিক্ষক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা দাশগুপ্ত আশিষ কুমার বলেন, ঝালকাঠিতে যা ঘটেছে তা জঘন্য বর্বরতা। শিক্ষক নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দেওয়া রাস্ট্রের দায়িত্ব। ঝালকাঠি জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ শামসুল হক শিক্ষক ফজলুল হক ও আবদুল লতিফ মিয়ার ওপর হামলার বিচার দাবী করে বলেছেন হামলাকারীরা ক্ষমতাসীন দলের বলে আইনের উর্ধ্বে থাকতে পারে না। ঝালকাঠি জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ফারুক হোসেন প্রধান শিক্ষক আবদুল লতিফ মিয়ার হাত-পা ভেঙ্গে দেওয়ার ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবী করে

বলেছেন একজন শিক্ষকের হাত-পা ভেঙ্গে দিয়ে উল্টো তার বিরুদ্ধে হত্যা চেস্টার অভিযোগ তোলা হচ্ছে যা নিন্দনীয়। ঝালকাঠিতে দুই শিক্ষকের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি বরিশাল শাখা।
বরিশাল মেডিকেলে চিকিৎসাধীন শিক্ষক আবদুল লতিফ মিয়া ও ব্যবসায়ী উত্তম দাস গতকাল সাংবাদিকদের জানান, তারা সুস্থ্য হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানসহ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবেন। এদিকে ঝালকাঠি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক সুলতান হোসেন খান গতকাল শহরের সানাই কমিউনিটি সেন্টারে সাংবাদিক সম্মেলন করে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন গনমাধ্যমে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছে বলে দাবী করেছেন। তিনি আরো দাবী করেন জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি আরিফ খান, শিক্ষক আব্দুল লতিফ ও তার সমর্থকরা তাকে (সুলতান খান) হত্যার ষড়যন্ত্র করছেন। এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আরিফ খান বলেন তিনি যা বলছেন এবং করছেন তা কোন সুস্থ মানুষের দ্বারা সম্ভব না। কেউ তার বিরোধিতা করলেই তিনি তাকে মারতে চান এটা তার স্বভাবে পরিণত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনের কিছু আগে ৪০/৫০ টি মোটরসাইকেলে শতাধিক যুবক সুলতান হোসেন খানের পক্ষে বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে শহর প্রদক্ষিন করে।
উল্লেখ্য গত সোমবার রাতে ঝালকাঠি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক সুলতান হোসেন খান ও তার সহযোগিরা পিটিয়ে প্রধান শিক্ষক আবদুল লতিফ মিয়ার হাত-পা ভেঙ্গে দেন এবং কীর্ত্তিপাশা বাজারের ব্যবসায়ী উত্তম দাসকে কুপিয়ে আহত এবং তার বোন ও ভাইয়ের স্ত্রীকে মারপিট করা হয়। ২৬ মার্চ রাজাপুরের সাতুরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির মারধর করেন সাতুরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুল হককে।

Facebook Comments