ঝালকাঠিতে সনদ জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বন্ধ

এপ্রিল ২৮ ২০১৭, ১৪:১৭

কে এম সবুজ, ঝালকাঠি ॥ঝালকাঠিতে জালিয়াতির মাধ্যমে একজনের নাম পরিচয় ও যুদ্ধকালীন ওসমানী সনদ ব্যবহার করে মুক্তিযোদ্ধার হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের নামের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা সনদের নাম ও ঠিকানায় মিল না পাওয়ায় সুলতান আহম্মেদ দুয়ারির ভাতা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন। সদর উপজেলার দক্ষিণ পিপলিতা গ্রামের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা সুলতান হোসেনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ নির্দেশ দিয়েছেন।
জানাযায়, দক্ষিণ পিপলিতা গ্রামের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা সুলতান হোসেনের বাড়ির পার্শ্ববর্র্তী নেহালপুর গ্রামে বসবাস করেন মো. সুলতান আহাম্মেদ দুয়ারি। দুইজনের নামের মধ্যে মিল থাকার সুযোগকে কাজে লাগায় সুলতান আহম্মেদ দুয়ারি। প্রতারণার মাধ্যমে সে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা সুলতান হোসেনের কাছ থেকে যুদ্ধকালীন সনদপত্র (ওসমানী সনদ) নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হন।
প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা সুলতান হোসেন অভিযোগ করেন, ২০০৫ সালে ওই প্রতারক তাঁর বাড়িতে এসে যুদ্ধকালীন ওসমানী সনদ কেমন তা দেখতে চায়। এসময় মুক্তিযোদ্ধার ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তাঁর কাছ থেকে সনদটি নিয়ে যায় সুলতান আহম্মেদ দুয়ারি। পরে তিনি জানতে পারেন সনদপত্রে প্রতারণার মাধ্যমে তাঁর নাম ও বাবার নাম জালিয়াতি করে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেট ভুক্ত করেন। যার মুক্তিবার্তা নং-০৬০২০১০৬৮২। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা

হিসেবে বিষয়টি শুনে তিনি সুলতান দুয়ারীর কাছে জানতে চাইলে হত্যাসহ ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয় সে। এ ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনে ঊর্ধ্বতন কর্র্তপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, আমার যুদ্ধকালীন সনদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সুলতান দুয়ারি তাঁর নামে ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা ভোগ করছেন। শুনেছি মন্ত্রণালয় থেকে আমার নামের স্থানে তাঁর নাম ও তাঁর বাবার নাম দিয়ে সনদপত্র জাল করেছে। এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিচার চাই। আমাকে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেট ভুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।
ঝালকাঠি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন বলেন, সুলতান হোসেনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সুলতান আহম্মেদ দুয়ারির কাছে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র ও মুক্তিযোদ্ধার সনদ নিয়ে আসতে বলা হয়। তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রের নাম ও ঠিকানার সাথে মুক্তিযোদ্ধা সনদের নাম ঠিকানায় কিছুটা অমিল ধরা পড়ে। আপাতত চলতি মাস থেকে তাঁর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
ঝালকাঠির মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটির সভাপতি এম আলাউদ্দিন বলেন, সুলতান আহম্মেদ দুয়ারির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমানিত হওয়ায় তাঁর ভাতা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সুলতান আহম্মেদ দুয়ারি বলেন, আমার বিরুদ্ধে সুলতান হোসেন ষড়যন্ত্র করছে। আমিই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>