ঝালকাঠির রাজাপুরে পানিবন্দী শতাধিক পরিবার, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে খাল দখলের অভিযোগ

জুলাই ২৩ ২০১৭, ১৯:১৬

রহিম রেজা, রাজাপুরঃ ঝালকাঠির রাজাপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আ’লীগের সহ সভাপতি আনোয়ার হোসেন মজিবর মৃধার বিরুদ্ধে সদরের বাজারের উত্তর পাশের খাল বরাট এবং রাজাপুর ডিগ্রি কলেজ রোডের মন্দির এলাকার একটি ভারানী খাল বালু ফেলে পুরোপুরি ভরাট করে প্লোট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কলেজ রোডের মন্দির এলাকার ভারানী খাল বালু ফেলে পুরোপুরি ভরাট করে প্লোট তৈরি করায় কলেজ রোড ও পুরাতন জেল খানা এলাকার সামনের এলাকার শতাধিক পরিবার পানি বন্দী হয়ে পড়েছে। কলেজ রোড ও পুরাতন জেলা থানার সামনের বাসিন্দা আব্দুল বারেক, মুসা হোসেন ও মনিরুজ্জামানসহ ক্ষতিগ্রস্থরা অভিযোগ করে জানান, কলেজ রোডের সার্বজনিন বারোয়ারী শ্রীশ্রী কালিমন্দির থেকে পূর্ব দিকের সুশীলদাসের বাড়ির দিকের ইটের রাস্তা রয়েছে। মন্দির এলাকার সেই রাস্তার ডান পাশে স্থানীয় জাকারিয়ার কাছ থেকে পরিত্যক্ত একটি ডোবার ১৫ শতাংশ জমি ক্রয় করে সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আ’লীগ নেতা মো. আনোয়ার হোসেন মজিবর মৃধা। ওই জমির পূর্ব পাশে ক্রয় করেছে। ওই জমির পূর্বপাশে খাল ছিল কিন্তু ক্রয়কৃত ওই ডোবার জমি ভরাট করায় সময় খালটিও ভরাট করে বিক্রির জন্য প্লট তৈরি করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মজিবর মৃধা। তখন স্থানীয়রা এলাকার পানি নিষ্কাশনের একমাত্র খালটি ভরাটের প্রতিবাদ করলে তিনি তাদের ওপর চড়াও হয়। পানিবন্দী এলাকায় বসবাসকারী সদর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. শাহজাহান হাওলাদার জানান, এলাকার মানুষদেরকে পানি বন্ধির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ২০১৪ সালে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে সদর চেয়ারম্যানের বালু দিয়ে ভরাট করা ওই স্থানের রাস্তা কেটে একটি বক্স ড্রেন নির্মান করে দিয়েছিলাম। অন্য কোন জায়গা থেকে কেউ পানি নিষ্কাশনের জন্য জমি দিতে রাজি না হওয়ায় ওই খালের জমি খসরকারি বলে শোনা কথায় ড্রেন নির্মান করি। তবে জমিটা সঠিক

কার সেটা কাগজ না দেখে বলা যাবে না। ওই স্থানে বালু দিয়ে ভরাট করায় আমি নিজেসহ এলাকার শতাধিক পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির সময় পুরো এলাকা পানিতে ডুবে ময়লা আবর্জনায় একাকার হয়ে যায়। শিশুদের পানিতে পড়া নিয়েও চিন্তাগ্রস্থ এবং সাপসহ নানা আক্রমাত্ম প্রানীর ভয়েও রয়েছে ওই এলাকার বাসিন্দারা। অপরদিকে রাজাপুর সদরের মূল বাজারের উত্তর পাশের মাছ বাজারের জাঙ্গালিয়া নদীর শাখা খালটির দক্ষিণপাশ রাজাপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবন ভাঙা ইটের খোয়া পলেস্তরারা টুকরো ও পরিত্যক্ত বালু মাটি দিয়ে ভরাট করে জমি দখলে করেছে সদর ইউপি চেয়ারম্যান মজিবর। এতে খালটি সরু হয়ে গেছে। ওই খালটি দিয়ে এখনও ভান্ডারিয়া ও কাউখালিতে যাতায়াত করছে নৌকা ও বিভিন্ন ছোট নৌ যান। বিভিন্ন সময়ে ভূমিদস্যুরা বিভিন্ন কায়দায় খালটির বিভিন্ন অংশষ দখল করে নিচ্ছে, তার মধ্যে একজন জরনপ্রতিনিধি এমন খালদখলে লিপ্ত হওয়ায় ওইসব ভূুিমদস্যুরা বেশি উৎসাহী হয়ে দখলে মেতেছে বলে সুশীলসমাজ মনে করছেন। ইতোমধ্যে এর পূর্বে সাবেক আইনপ্রতিমন্ত্রী শাহজাহান ওমর বীর উত্তমের একটি জমি দখলে নিতে গিয়ে সমালোচনায় পড়েন সদর ইউপি চেয়ারম্যান মজিবর। এসব ঘটনা নিয়ে পুরো এলাকাজুড়ে তোলপাড় চললেও বাস্তবিক পক্ষে প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। যদিও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ইউএনও। অভিযুক্ত সদর ইউপি চেয়ারম্যান আ’লীগের সহ সভাপতি আনোয়ার হোসেন মজিবর মৃধার মতামত জন্য মোবাইলে (০১৭১৬৩৫৮৩৮৭) যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, শারিরীক চিকিৎসার জন্য কয়েকদিন ধরে ভারতে অবস্থান করছেন।
ইউএনও আফরোজা বেগম পারুল জানান, বাজার এলাকার খাল দখলের স্থান পরিদর্শন করে সদর চেয়ারম্যানকে তাৎক্ষনিক দখলমুক্ত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনগতব্যবস্থা নেয়া হবে। মন্দির-জেলখানার সামনের এলাকার খাল ভরাট ও পানিবন্দির বিষয়ে, ওই এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>