ঝালকাঠির শারমিনকে সংবর্ধনা দিয়েছে জেলা পুলিশ

জুন ২১ ২০১৭, ১৬:২৮

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ মায়ের বিরুদ্ধে মামলা করে নিজের বাল্য বিয়ে ঠেকিয়ে অনন্য সাহসের পরিচয় দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ‘সেক্রেটোরি অব স্টেটস ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অব কারেজ ২০১৭’ এর আর্ন্তজাতিক পুরস্কার পাওয়া ঝালকাঠির শারমিন আক্তারকে সংবর্ধনা দিয়েছে ঝালকাঠি জেলা পুলিশ। আজ বুধবার সকালে ঝালকাঠি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে তাকে এ সংবর্ধনা দেয়া হয়। ঝালকাঠি পুলিশ সুপার মো. জোবায়েদুর রহমান শারমিনের হাতে ফুলের তোড়া এবং সম্মাননা ক্রেষ্ট তুলে দেন। এসময় ঝালকাঠি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুর রকিব, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) মাহামুদ হাসানসহ পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্কুল ছাত্রী শারমিন আক্তার এ বছরের ৩০ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রে সেক্রেটারি অব স্টেটস ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অব কারেজ ২০১৭’ সাহসি নারীর পুরস্কার লাভ করে শারমীন। ন্যায়বচিার, মানবাধকিার, জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নে ব্যতিক্রমী সাহসকিতা এবং জীবনের ঝুঁকি প্রর্দশন করায় বিশ্বের বিভিন দেশের মোট ১৩ নারীর মধ্যে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। মার্কিন ফ্রাস্ট লেডি মেনালিয়া ট্রাম্প ও পররাষ্ট্র দপ্তরের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি থমাস শ্যারনের হাত থেকে সে এ পুরস্কার গ্রহণ করেছিল।
নবম শেণিতে পড়া অবস্থায় ২০১৫ সালে জোর করে মায়ের কথিত প্রেমিকের সঙ্গে শারনিকে বাল্য বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা

হয়েছিল। মামলায় শারমিনের মা ও মায়ের কথিত প্রেমিক বাল্য বিয়ে আগ্রহী ব্যক্তিতে আসামী করা হয়। এ ঘটনায় ওই বছরের ১৬ আগস্ট রাতে শারমিন আক্তার বাদী হয়ে রাজাপুর থানায় একটি মামলা করেন। শারমিন রাজাপুরের বাগড়ি এলাকার প্রবাসী কবির হোসেনের মেয়ে।
এ ঘটনায় শারমিনকে নিয়ে কালের কণ্ঠসহ দেশের বেশ কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। শারমিনের পাশে এসে দাঁড়ায় বিভিন্ন সংগঠন ও নানা শেণি পেশার মানুষ। স্বর্ণ কিশোরী ফাউন্ডেশন তার লেখা পড়ার দায়িত্ব নেয়। ওই সংগঠন তাকে সম্মাননাও দেয়। নিজের বাল্য বিয়ে ঠেকিয়ে শারমিন শুধু দেশেই নয়, বিদেশে সুনাম অর্জন করেছে। তাঁর সাহসিকতার জন্য বিদেশেও তাকে পুরস্কৃত করা হয়।
শারমিন জানায়, অল্প বয়সেই আমাকে নানা প্রতিকূলতা পাড়ি দিতে হয়েছে। লেখা পড়া করে আমি একজন আইনজী হতে চাই। আইনজীবী হয়ে দেশের নির্যাতিত নারীদের পাশে দাঁড়াতে চাই। বাল্য বিয়ে নামের কলঙ্ক দেশ থেকে মুছে দেওয়া লড়াই চালিয়ে যাবো আমৃত্যু।
ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মো. জোবায়েদুর রহমান বলেন, শারমিন শুধু ঝালকাঠিরই নয়, সে এখন দেশের গর্ব। সে এখন বিশ্বমুখ। পুলিশ তাঁর মামলা থেকে শুরু করে সার্বিক সহযোগিতা করেছে। তাকে সম্মাননা দিয়ে আমরা সকল নারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলাম।

Facebook Comments