ডিবি কার্যালয়ে সাফাত-সাকিফ

মে ১২ ২০১৭, ১৪:৫৮

বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে ঢাকায় আনার পর ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে। গতকাল সিলেটে গ্রেপ্তারের পর রাতেই তাদের ঢাকায় আনা হয়। এরপর আজ সকালে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের তত্ত্বাবধানে তাদের গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের উপকমিশনার মো. শাজাহান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, জিজ্ঞাবাসাদ শেষে দুপুরের দিকে তাদের ঢাকা মহানগর হাকিমের আদালতে তোলা হবে। তবে গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়া হবে কি না সে ব্যাপারে তিনি কিছু জানাননি।

সাফাত আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে। এবং সাদমান পিকাসো রেস্তোরাঁর অন্যতম মালিক ও রেগনাম গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে।

গতকাল রাতে সিলেট জেলা পুলিশ ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ ও পুলিশ সদর দপ্তরের সমন্বয়ে গঠিত একাধিক দল যৌথ অভিযান চালিয়ে সাফাত ও সাদমান সাকিবকে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে এই দুই আসামিকে রাতেই তাদের ঢাকায় আনা হয়।

সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার গোলাম কিবরিয়া গতকাল জানিয়েছিলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেট শহরের একটি বাড়ি থেকে সাফাত ও সাকিফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে রাতেই তাদের ঢাকায় পাঠিয়ে

দেওয়া হয়।

গত ২৮ মার্চ বন্ধুর সঙ্গে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে ধর্ষণের শিকার হন দুই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণী। সেদিন রাত নয়টা থেকে পরদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত একটি কক্ষে আটকে রেখে সাফাত ও নাঈম তাদের একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই সময় আসামি সাফাত গাড়িচালক বিল্লালকে দিয়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করেন। পরে বাসায় দেহরক্ষী পাঠিয়ে তাদের ভয়ভীতি দেখান।

ঘটনার ৪০ দিন পর ভুক্তভোগী ওই দুই ছাত্রী গত ৬ মে সন্ধ্যায় বনানী থানায় ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।

তারা হলেন আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে শাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, শাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল ও তাঁর দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ।

মামলার প্রধান আসামি সাফাতকে ধরতে পুলিশ তাদের গুলশানের বাসায় দুই দফা অভিযান চালায়। কিন্তু তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি। অবশেষ গতকাল রাতে তাকে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। মামলার অন্য তিন আসামি এখনো পলাতক আছেন।

মামলার পর ওই শিক্ষার্থীদের পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নেয়া হয় এবং বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম নুরুন্নাহার ইয়াসমিন তাঁর খাসকামরায় দুইজনের জবানবন্দি নেন। বেলা একটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত বিচারক তাদের জবানবন্দি নেন।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>