ডেইলি মেইলে হ্যাপির ‘আমাতুল্লাহ’ হওয়ার গল্প

আপডেট : June, 22, 2017, 11:36 am

মডেল ও অভিনেত্রী নাজনীন আক্তার হ্যাপি বাংলাদেশের মিডিয়া জগতের এক আলোচিত নাম। ২০১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপের আগে ক্রিকেটার রুবেল হোসেনের সঙ্গে স্ক্যান্ডালে জড়িয়েই মূলত সেই আলোচনা। যা নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। হ্যাপি দাবি করেছিলেন, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রুবেল তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। এমনকি রুবেলকে পেতে আদালতের দারস্থও হয়েছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত রুবেল-হ্যাপির সম্পর্ক আর টিকেনি। এরপর রুবেলের বিয়ের খবর জানার পর নিজের ‘লাইফস্ট্যাইল’ই পাল্টে ফেলেন এই অভিনেত্রী।

এক সময় রুপালি পর্দা কাঁপানো হ্যাপির আগের জীবনের সঙ্গে এখনকার জীবনের কোনো মিল নেই। এক কথায় সম্পূর্ণ বিপরীত। বিয়ে করে ইসলামি বিধান মেনেই এখন পুরোদস্তুর জীবনযাপন করছেন। ধর্মীয় জ্ঞান লাভের জন্য এখন পড়াশুনা করছেন মাদ্রাসায়। বিদায় জানিয়েছেন সিনেমাকে। তাবলীগ জামায়াতে যোগ দেয়ার সংকল্প করেছেন। চলাফেরা করেন বোরকা পরে। ফেসবুক থেকে মুছে দিয়েছেন সব ছবি। মিডিয়ার আলোচিত হ্যাপি এখন নাম পরিবর্তন করে রেখেছেন ‘আমাতুল্লাহ’ (আল্লাহর দাসী)। এমনই তথ্য দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপিকে উদ্ধৃত করে হ্যাপির অতীত এবং বর্তমান জীবন নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে লন্ডনের ডেইলি মেইল।

হ্যাপির সেই বদলে যাওয়া জীবন নিয়ে একটি বই লিখেছেন সাদেকা সুলতানা সাকী এবং  স্বামী আবদুল্লাহ আল ফারুক। বইটিতে তাঁর বদলে যাওয়া জীবনের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। ‘হ্যাপি থেকে আমাতুল্লাহ’ নামের বইটি প্রকাশ করেছে ধর্মীয় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মাকতাবাতুল আযহার। বইটি প্রকাশের পর

পাঠকরা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন বাজারে একটি কপি সংগ্রহ করতে। জুনে প্রকাশের পর বিক্রি হয়েছে কয়েক হাজার কপি। প্রকাশকের ওপর চাপ পড়ছে পুনর্মুদ্রণের জন্য।

মাকতাবাতুল আযহার এর মালিক মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ বলেছেন, বইটি ক্রয় করতে দেশের সব অঞ্চল থেকে অর্ডার পাচ্ছি। সবাই জানতে চাইছেন কি কারণে এই নায়িকা সেলিব্রেটি জীবন ত্যাগ করে ইসলামী জীবনধারায় ফিরে গেলেন।

ঢালিউডে ২০১৩ সালে ‘কিছু আশা কিছু ভালোবাসা’ ছবির মাধ্যমে খ্যাতি পান নাজনীন আক্তার হ্যাপি। কিন্তু পরের বছর জতীয় দলের তারকা পেসার রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনার পরই ক্রিকেটপাগল বাংলাদেশজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠেন হ্যাপি। নিজের লাইফস্ট্যাইল পরিবর্তনের পর শেষ ছবি ‘রিয়েল ম্যান’-এর মুক্তি ঠেকাতে এক রকম লড়াই করেছেন হ্যাপি। তবে এক্ষেত্রে ব্যর্থ হন তিনি।

‘হ্যাপি থেকে আমাতুল্লাহ’ বইটির সহ লেখক আবদুল্লাহ আল ফারুকি বলেন, সাক্ষাৎকারের দিনের রাতেই হ্যাপি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে হাজার হাজার ছবি মুছে ফেলতে শুরু করেন। তারপর শোবিজ অঙ্গনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন।

তিনি আরও বলেন, হ্যাপি তার নাম পরিবর্তন করে রেখেছেন আমাতুল্লাহ। তখন থেকেই তিনি সম্পূর্ণ শরীর ঢাকা বোরকা পরতে শুরু করেন। এমনকি এখন তার হাত ও পায়ের পাতাগুলোও ঢাকা থাকে।

ওই বইয়ে বোরকা পরা ছবি ও নাম পরিবর্তন সম্পর্কে হ্যাপি সাক্ষাৎকারে বলেন, এখন সদ্য জন্ম নেওয়া শিশু মতো লাগছে আমার। পূর্বের জীবনের সঙ্গে আমার আর কোনো সম্পর্ক নেই। সেটা অন্য কোনো মানুষের গল্প।

 

Facebook Comments