ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে অাসছে অত্যাধুনিক ৫ লঞ্চ

এপ্রিল ০৪ ২০১৭, ১৮:১৭

বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটে দিবা ও রাতের সার্ভিসে সংযোজন হতে যাচ্ছে বিলাসবহুল পাঁচটি লঞ্চ। পাশাপাশি এগুলো আসন্ন ঈদ-উল-ফিতরের আগেই চলাচলের উপযোগী করে নদীতে ভাসানো হবে বলে জানিয়েছেন বরিশালে দু’টি শিপ বিল্ডার্স কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের কর্তাব্যক্তিরা।তাদের দাবি অনুযায়ী, এ লঞ্চগুলো সর্বাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ও আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর হবে।

কীর্তনখোলা নদীর দপদপিয়া পযেন্টে অ্যাডভেন্সার শিপবিল্ডার্স নামে একটি জাহাজ নির্মাণ ইয়ার্ডে তৈরি হচ্ছে ৩টি আধুনিক জাহাজ। এর মধ্যে ক্যাটারমান টাইপ ভেসেল রয়েছে ২টি। ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটে দিনের বেলায় চলাচল করবে এ দু’টি জাহাজ। আর ৩শ ফুটের উপরের দৈর্ঘ্যের অন্য জাহাজটি চলবে রাতের সার্ভিসে। পাশাপাশি আড়াইশো ফুটের উপরের দৈর্ঘ্যের এই কোম্পানিরই আরও ১টি জাহাজ ঢাকার একটি শিপইয়ার্ডে তৈরি হচ্ছে।

এ চারটি জাহাজই ঈদের আগে বরিশাল-ঢাকা রুটে দিবা-রাত্রিকালীন সার্ভিসে সেবা দিতে নামানো হবে। এমনই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও অ্যাডভেন্সার শিপিংয়ের স্বত্ত্বাধিকারী মো. নিজাম উদ্দিন।

তিনি বলেন, সবগুলো জাহাজই নতুন লোহার পাত দিয়ে তৈরি। পাশাপাশি ক্যাট্যারম্যান জাহাজ দু’টির ইঞ্জিন, প্রপেলারসহ সবকিছুই নতুন আমদানি করা হয়েছে। সব জাহাজগুলোতেই আধুনিক গিয়ারবক্স, ইকোসাউন্ডার থাকবে, যেখানে ২শ মিটার সামনের নদীর গভীরতা মাপা যাবে। পাশাপাশি এগুলোতে আধুনিক ওয়াইফাই জোন সুবিধা, ডেকরেশন, কেবিন ও আলোকসজ্জায় নতুনত্ব, প্রশস্ত বারান্দা, আধুনিক অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা, প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা, ক্যান্টিন থাকছে।

তিনি বলেন, সবেচেয়ে নতুন বিষয় হলো ছোট

হেলিকপ্টার জরুরি অবতরণের জন্য রাত্রীকালীন সার্ভিসের এমভি অ্যাডভেন্সার ৯-এ রাখা হবে হেলিপ্যাড। এটাই আভ্যন্তরীণ রুটের লঞ্চের সর্বশেষ আধুনিক সংযোজন। পাশাপাশি লিফট, শপিং কর্নারের ব্যবস্থা থাকছে জাহাজটিতে। অন্যদিকে, ঢাকায়ও তৈরি হচ্ছে রাত্রীকালীন সার্ভিসের জন্য এমভি অ্যাডভেন্সার ১০। সেখানেও রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া।

‘ক্যাটারম্যান টাইপ সার্ভিসের অ্যাডভেন্সার ৫ ও ৬-তে বিলাসবহুল স্লিপিং চেয়ারের পাশাপাশি, ২টি ভিআইপি কেবিন থাকছে। যা দিবা সার্ভিসে কারও নেই। এছাড়া যাত্রা আরও উপভোগ্য করতে পুরো জাহাজের চারপাশে প্রশস্ত বারান্দা রাখা হয়েছে। খাবারের ক্যান্টিন তো থাকছেই। সবকিছু ঠিক থাকলে সরকারি নিয়ম মেনে এ লঞ্চদু’টি পাঁচ ঘণ্টা মধ্যে তার গন্তব্যে যাত্রী নিয়ে যাবে।

এফবিসিসিআই’র পরিচালক ও অ্যাডভেঞ্চার শিপইয়ার্ডের মালিক নিজাম উদ্দিন জানান, বরিশালে জায়গার ভাড়া ও শ্রমিকের মজুরি কম। সব মিলিয়ে এখানে জাহাজ নির্মাণ খরচ কম। দক্ষ শ্রমিকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় খুব সহজেই আধুনিক জাহাজ নির্মাণ সম্ভব হচ্ছে।

অন্যদিকে, কীর্তনখোলা নদীর বেলতলায় বাগেরহাট শিপবিল্ডার্স নামে ইয়ার্ডে তৈরি হচ্ছে কীর্তনখোলা লঞ্চ কোম্পানির নতুন জাহাজ কীর্তনখোলা ১০। এটি ৩০৫ ফুট দীর্ঘ ও ৫৯ ফুট প্রস্থ। এ জাহাজটিও ঈদের আগেই যাত্রীসেবায় নামানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সহকারি জেনারেল ম্যানেজার মো. রিয়াজুল করিম।

আর লঞ্চের মালিক মঞ্জুরুল আহসান ফেরদৌস জানান, নতুন নৌযানটিতে লিফট ছাড়াও থাকছে নাব্যতা পরিমাপক ইকোসাউন্ডার, স্যাটেলাইট টিভি সংযোগ এবং একাকী (সিঙ্গেল) নারী, পুরুষ ও ছাত্রীদের জন্য পৃথক জোন।

সূত্রঃ বাংলানিউজ২৪ ডট কম

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>