ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটে আসছে দেশের প্রথম চলন্ত সিঁড়িযুক্ত সর্ববৃহৎ লঞ্চ

সাঈদ বারীঃ দক্ষিনের জনপ্রিয় বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটে দেশে প্রথমবারের মতো চলন্ত সিঁড়িযুক্ত বিলাসবহুল কীর্তনখোলা-১০ যাত্রী পরিবহনের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। অত্যাধুনিক এই লঞ্চটিতে চলন্ত সিঁড়ি ছাড়াও প্লে-গ্রাউন্ড, ফুড কোর্ট এরিয়া, অত্যাধুনিক চিকিৎসা সুবিধার পাশাপাশি ডেক ও কেবিনের সকল যাত্রীদের জন্য থাকছে ওয়াইফাই সুবিধা ।

 

শুধু অত্যাধুনিক সুবিধা আর বিলাসবহুল যাত্রী সেবা নয়,এটি হতে যাচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ যাত্রীবাহী নৌ-যান।এছাড়া জাপান থেকে আমদানিকৃত দুটি ইঞ্জিন পূর্ণ শক্তিতে (৬৬০০ অশ্ব শক্তি) চালালে ৪ ঘণ্টার মধ্যে বরিশাল থেকে ঢাকায় পৌঁছান যাবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ ।

মের্সাস সালমা শিপিং লিমিটেড’র কীর্তনখোলা-১০ নামের এই জাহাজটি আগামী ঈদ-উল আযহাকে টার্গেট করে নির্মিত হচ্ছে। নগরীর বেলতলা ফেরীঘাটের নিজস্ব ডকইয়ার্ডে এ জাহাজটির নির্মাণ কাজ প্রায় শেষের পথে।

 

লঞ্চ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মের্সাস সালমা শিপিং লিমিটেড’র কর্ণধর মাঞ্জারুল আহসান ফেরদাউস  জানান, যাত্রীদের সার্বিক দিক বিবেচনায় রেখে এবারে মেসার্স সালমা শিপিং কর্পোরেশন লিমিটেড এর নতুন সংযোজন কীর্তনখোলা ১০।এটি খুব দ্র্রুতই বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটে যুক্ত হতে যাচ্ছে। যার প্রতিটি স্তরে রুচিশীল ও আধুনিকতার ছোয়া রাখা হবে। যাত্রীদের জন্য তিনটিতলা থাকলেও লঞ্চের মাষ্টারব্রিজ থাকবে চারতলায়। দৈর্ঘ্য-প্রস্থ উভয় দিক থেকেই এটি হচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ নৌযান। ফলে এটি সর্বোচ্চ যাত্রী ধারনক্ষমতা সম্পন্ন হবে।

 

তিনি আরো জানিয়েছেন, এ লঞ্চটিতে প্রায় ২৫ শত যাত্রী ধারনক্ষমতা সম্পন্ন হবে।যা এ রুটের কোন লঞ্চেরই নেই। প্রথমবারের মতো দেশের কোন লঞ্চে যুক্ত হবে চলন্ত সিঁড়ি। যার ফলে বয়োজেষ্ঠ্যরা কোন কষ্ট ছাড়ায় ওপরের তলাগুলোতে উঠতে পারবেন।

 

লঞ্চটির ও যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য লঞ্চের নীচতলার ডেকের নীচে লোয়ার ডেক দুই পার্টের তৈরি করা হয়েছে। যাতে লঞ্চের তলার এক অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হলে অপর অংশ প্রটেকটিভ হিসেবে কাজ করে।

 

গতির দিক মাথায় রেখে ইঞ্চিনও রাখা হয়েছে দুটি। জাপান থেকে আমদানিকৃত ইঞ্জিনের প্রতিটিতে রয়েছে ৩৩০০ অশ্ব শক্তি। দুটো ইঞ্জিনে দুটো প্রপেলর থাকবে। আর পুরো জাহাজ মাষ্টারব্রীজ থেকে ম্যানুয়াল ও অটোমেটিক সিস্টেমে নিয়ন্ত্রন করা যাবে। পাশাপাশি লঞ্চটি ম্যানুয়াল, হাইড্রোলিক ও ইলেক্ট্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত করা যাবে।

 

এছাড়া কুয়াশার মধ্যে চলার জন্য ঢাকা-বরিশাল নৌ রুটের প্রথম এই লঞ্চে ফগ লাইট ব্যবহার করা হবে। এর

সাথে ইকোসাউন্ডার, রাডার তো থাকছেই।

 

আগামী ঈদ-উল আযহাকে টার্গেট করে নির্মিত এই লঞ্চটির পুরোটা থাকবে ওয়াইফাই জোনের আওতায়, যাতে করে ডেক ও কেবিনের সকল যাত্রীরা ফ্রি ইন্টারনেট সেবা গ্রহন করতে পারবেন। পাশাপাশি স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ও ইন্টারকম ব্যবস্থা থাকছে। সিসি ক্যামেরা দ্বার নিয়ন্ত্রিত এ জাহাজে সর্বাধুনিক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের ব্যবহার করা হবে, থাকবে  পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, বয়াসহ নিরাপত্তামূলক বিভিন্ন সরঞ্জাম।

 

দক্ষিনাঞ্চলে প্রতিটি নৌ-যান গত কয়েকবছর ধরে যাত্রীদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে রোগী বহনের জন্য বিভিন্ন সেবা দিচ্ছে। যারমধ্যে সিসিইউ সেবা প্রদানও করা হচ্ছে। কীর্তনখোলা ১০ নামের এ নৌ-যানেও থাকবে সিসিইউ’র বাবস্থা, পাশাপাশি এটির দায়িত্বে দুইজন চিকিৎসক ও একজন সেবক নিয়োজিত থাকবে।

 

বিলাসবহুল যাত্রীসেবায় রুচিশীল খাবার ও সেবার মান বজায় রাখতে নৌ-যানটিতে তিনটি ফুডকোট খাকবে। যার একটি ডেকে অপর দুটি দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার কেবিনে থাকবে।এছাড়া আছে আলাদা স্নাক্সের বাবস্থা। অর্ডার অনুযায়ী যে কোন ধরনের চাইনিজ এবং ফার্স্ট ফুড আইটেম তৈরি করে দেয়া যাবে নৌযানে বসেই। ফুডকোট ছাড়াওয় ২ টি রেষ্ট্ররেন্ট থাকবে যার একটি ডেকে অন্যটি কেবিনের জন্য।পাশাপাশি কেবিনের যাত্রীদের খাবারের জন্য আলাদা ডাইনিংয়ের ঝামেলা  এড়াতে কেবিনের ভিতর খাবার খাওয়া ও পরিবেশনের জন্য বিশেষ বাবস্থা রাখা হবে লঞ্চটিতে।

 

লঞ্চের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার সামনে রাখা হবে বাচ্চাদের খেলাধুলার জন্য বেবিজোন।

 

২০৮ কেবিন ও তৃতীয় শ্রেনীর ২ টি ডেকের জন্য লঞ্চে মোট ৩২ টি বাথরুম থাকবে। যারমধ্যে ২০ টি হাইকমোড। বাকি ১০ টি সাধারণ।

 

প্রথম শ্রেনী, বিজনেস ক্লাস ও ভিআইপি‘র জন্য সেন্ট্রাল এসি ও রুম এসির বাবস্থা থাকবে। ২০৮ টি কেবিনের মধ্যে সিঙ্গেল বেডের১১০ টি, ডাবল বেডের কেবিন ৮০ টি কেবিন (কক্ষ) থাকবে। এছাড়াও বিজনেস ক্লাস ১০ টি, ফ্যামিলি ভিআইপি ও সিঙ্গেল ভিআইপি ৪ টি করে মোট ৮ টি কেবিন থাকবে।

 

লঞ্চের ডেকরেশন ও লাইটিং ব্যবস্থার জন্য ভিয়েতনাম, ব্যাংকক এবং থাইল্যান্ড থেকে আমদানিকৃত ফিটিংস ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

 

সরকারী ও বেসরকারি মিলিয়ে ১২ জন নিরাপত্তাকর্মী থাকবে। একই সাথে লঞ্চটিতে যাত্রীদের সেবাদানের জন্য ৯০ জন সদস্য থাকবে। আর এই সদস্যদের নিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেবে লঞ্চ মালিক।

 

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>