তথ্যমন্ত্রীর অপসারণ দাবিতে ৩০ জুলাই সাংবাদিকদের অবস্থান কর্মসূচি

আপডেট : July, 27, 2017, 8:35 pm

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর অপসারণ দাবিতে ৩০ জুলাই অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা। এদিন তারা মন্ত্রণালয়ের সামনে এই কর্মসূচি পালন করবেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভা কক্ষে এক মতবিনিময় সভায় তারা এই কর্মসূচির ডাক দেন।

মত-বিনিময় সভায় অংশ নেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) ও প্রেস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা।

সভায় সাংবাদিক নেতারা বলেন, ‘আমরা মনে করি, দীর্ঘদিন ধরে ৯ম ওয়েজবোর্ড ঘোষণা আটকে আছে গণমাধ্যমের শত্রু তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর কারণে। সংসদে বসে তিনি তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার পক্ষে কথা বলেছেন, মিধ্যাচার করেছেন। তিনি মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে সাংবাদিকদের কোনও দাবি মেনে নেওয়া হয়নি। উল্টো সাংবাদিকদের ওপর ক্রমাগত অত্যাচার করা হচ্ছে। অনেক হয়েছে, আর সহ্য করা যায় না।’

বিএফইউজের মহাসচিব ওমর ফারুক বলেন, ‘এই তথ্যমন্ত্রী যখন এসেছেন, তখন থেকেই খেয়াল করেছি, তিনি সাংবাদিকদের অবজ্ঞা করেন। তিনি এখন পর্যন্ত আমাদের একটি কথাও শোনেননি। তিনি শুধু মন্ত্রী হয়েই বসে আছেন কিন্তু কোনও কাজই করছেন না। নবম ওয়েজবোর্ড গঠনের কথা অনেক আগে, তিনি তা করেননি। তিনি আমাদের ন্যায্য দাবি মানেন না। ফলে তাকে আর সময় দেওয়া হবে না। তিনি তথ্যমন্ত্রী থাকলে আমাদের দাবি পূরণ হবে না। এ কারণে তার অপসারণ চেয়ে আমরা আগামী ৩০ জুলাই রাস্তায় নামব।’

ডিইউজের সভাপতি শাবান মাহমুদ বলেন, ‘৫৭ ধারা একটি

কালো আইন, অসভ্য আইন। এই আইন নিয়ে চারদিকে এত সমালোচনা কিন্তু মন্ত্রী নিজে এই আইনের পক্ষ নেন। আমি ৫৭ ধারা বাতিল চেয়েছি কিন্তু সেই ৫৭ ধারা বাতিল করার পরিকল্পনা করে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের ১৯ ও ২০ ধারায় তা আবার আনা হচ্ছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। আমরা তথ্যমন্ত্রীর অপসারণ চাই।’

ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘আমরা শুনেছি, ৯ম ওয়েজবোর্ড গঠন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা থাকলেও তথ্যমন্ত্রী নিজে তা পাশ কাটিয়ে যান।’ তিনি বলেন, ‘৯ম ওয়েজবোর্ড নাকি ম্যাচিউরড হয়নি। এর মানে তিনি সাংবাদিকদের সুযোগ-সুবিধা দিতে চান না। এছাড়া সরকার সর্বশেষ বেতন স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন দ্বিগুণ করেছে। কিন্তু সাংবাদিকদের বেতন কানাকড়িও বাড়েনি। অন্যদিকে একজন সম্পাদকের বেতন স্কেল ও মর্যাদা বর্তমানে একজন স্পিকারের সমান হওয়ার কথা কিন্তু বর্তমানে তা যুগ্ম সচিবেরও নিচে চলে গেছে। এ সবের কলকাঠি নাড়ছেন তথ্যমন্ত্রী নিজেই। ফলে, আমরা তার অপসারণ চাই।’

ডিআরইউ’রসভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, ‘সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে রিপোর্টার্স ইউনিটি সবসময় আন্দোলনে শামিল ছিল। এবারও তথ্যমন্ত্রীর অপসারণ দাবিতে সবার সঙ্গে রাস্তায় নামব। আমরা এ আন্দোলনের সঙ্গে আছি, থাকব। যদি এখনই তথ্যমন্ত্রীকে অপসারণ করা না হয়, তাহলে আমাদের দাবি পূরণ কঠিন হয়ে পড়বে। আমরা বুঝে গেছি, তথ্যমন্ত্রী আমাদের দাবি আগ্রাহ্য করেন।’

মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ, ডিআরইউয়ের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, সাংবাদিক নেতা মৃণাল চক্রবর্তী প্রমুখ।

Facebook Comments