তরমুজময় বরিশালের মৎস্য অবতরণকেন্দ্র

এপ্রিল ০২ ২০১৭, ১৫:৩৬

নিষেধাজ্ঞার কারণে নদীতে ইলিশ ধরা বন্ধ রেখেছেন জেলেরা। চলছে অবৈধ ইলিশ শিকারিদের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান। সেইসঙ্গে চলছে জেল, জরিমানা। আর তাই দক্ষিণের জনপদের মাছের আড়ত কিংবা মৎস অবতরণকেন্দ্রগুলোতে তেমন একটা মাছের দেখা মিলছে না।

বিশেষ করে ইলিশনির্ভর বরিশালের পোর্টরোডের একমাত্র মৎস অবতরণকেন্দ্রটি দিনের বেশিরভাগ সময়ই মাছবিহীন থাকছে। তাই বলে এখানে শ্রমিকরা মোটেই কর্মহীনভাবে সময় পার করছেন না। তারা রুটি রুজির জন্য বেছে নিয়েছে মওসুম অনুযায়ী অন্য কাজ।মানে তরমুজ বেচা-কেনা।

সব মাছের আড়ত এখন মাছ নয়, বরং তরমুজময়। মাছের বদলে এখানে চলছে তরমুজের বেচা-বিক্রি। মৎস্য ব্যবসায়ীরাও তাদের টাকা এখন খাটাচ্ছেন তরমুজের পেছনে। আর এভাবেই মাছের আড়তে তরমুজের জমজমাট ব্যবসা চলবে এপ্রিল মাসের শেষ পর্যন্ত। অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞার শেষ দিনটি পর্যন্ত।

গড়ম বাড়তে থাকায় দিনে দিনে দক্ষিণের হাটবাজারগুলোতে রসালো আর স্বাদু তরমুজের আমদানি বাড়ছে। এতে করে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানের তরমুজ বরিশাল সদর হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে।
তবে মৌসুমের শুরুতে শিলাবৃষ্টি আর খেতে জলাবদ্ধতার কারণে দক্ষিণের অনেক ফসলিখেতের তরমুজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবার শুরুতে আমদানি অনেকটাই কম বলে জানিয়েছেন আড়তদাররা।

বরিশাল নগরের পোর্ট রোড ঘুরে দেখা গেছে, এখানকার একমাত্র সচল ও বৃহৎ মৎস্য অবতরণকেন্দ্রটির বেশিরভাগ আড়তের সামনের জায়গা মাছের বদলে তরমুজের দখলে চলে গেছে।

যেখানে প্রতিদিন ছোট-বড় বহু নৌযানে মাছ আসতো, এখন সেখানে প্রতিদিন আসছে তরমুজ আর তরমুজ। এখানকার আড়তদাররা তরমুজের এই ব্যবসা আরো একটি মাস দিব্যি চালিয়ে যাবেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, ইলিশের অভয়াশ্রম কর্মসূচির(সংরক্ষণ কর্মসূচি)আওতায় গত ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ইলিশ ও জাটকা ধরার ওপরে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আর এ সময়ে বরিশালের একমাত্র মৎস্য অবতরণকেন্দ্রটি মাছশূন্য থাকে বললেই চলে। ইলিশ বাদে স্থানীয় জেলে ও চাষীদের যে মাছ আসে তা খুচরোভাবেই বিক্রি হয়ে যায়।

তাই এই পুরো মৌসুমজুড়েই এখানকার আড়তদাররা তরমুজের ব্যবসা করে থাকেন। যে ব্যবসা প্রায় ২০ দিন আগে শুরু হয়েছে এবং চলবে আরো এক থেকে দেড় মাস। অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞার শেষ দিন পর্যন্ত।

পোর্টরোডের

আড়তদার সুমন মোল্লা জানান, খেতেই তরমুজ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এবছর তরমুজের আমদানি শুরু থেকেই কম।এর পাশাপাশি এবছর বাউফলের ধূলিয়ায় ডাকাতের উপদ্রব বেড়ে গেছে। তাই সেখান থেকে ফল আনাটাও ঝুকিপূর্ণ হয়ে গেছে। দাম না চড়ায় সবমিলয়ে এখনো হতাশা তরমুজচাষিরা। এবাজারে এ-মুহূর্তে আকার বা ওজন অনুয়ায়ী তরমুজ শতপ্রতি ৩ হাজার থেকে ২০ হাজার  টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এখানে বিট ফ্যামিলি, জাম্বু জাগুয়া, ড্রাগন, ওয়ার্ল্ডকুইন নামের তরমুজই বেশি আসছে।

অবতরণকেন্দ্রটি ঘুরে দেখা যায়, অবতরণকেন্দ্র ও এর আশপাশের ফলের আড়তগুলোতে গ্রামাঞ্চল থেকে নৌ-পথে বেপারি ও চাষিরা তরমুজ নিয়ে আসছেন এবং এই অবতরণকেন্দ্রের বিভিন্ন স্থানে তা সাজিয়ে রাখছেন। আর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা এসে সড়ক ও নৌ-পথে তরমুজ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

তরমুজ আনা-নেওয়ার ব্যয় কিছুটা কম হওয়ায়, পাশাপাশি নদী তীরবর্তী স্খানে জায়গা বড় হওয়াসহ সার্বিক সুযোগ-সুবিধা থাকায় বরিশালের পোর্টরোডকেই বেছে নিচ্ছেন স্খানীয় চাষি ও দাদনব্যবসায়ীরা।

আড়তদার ভরৎ সাহা জানান, প্রতিবছর এমন সময়ে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ, টুঙ্গিবাড়িয়া, বুখাইনগর, ভোলার চরফ্যাশন, চরকাজী, লালমোহন, পটুয়াখালীর গলাচিপা, রাঙাবালিসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রচুর তরমুজ আসে। তবে বিরূপ আবহাওয়াজনিত(প্রচুর শিলাসহ বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে খেত তলিয়ে যাওয়া) ক্ষতির কারণে তরমুজের পরিমাণ গত বছরের চেয়ে এবছর কমে গেছে। ফলে দিনে ৮/১০টি ট্রাকের জায়গায় মাত্র ২/৩ ট্রাক তরমুজ বরিশাল থেকে দেশের অন্যত্র পাঠানো যাচ্ছে।

বরিশাল জেলা মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের ইজারাদার নীরব হোসেন টুটুল জানান, এ সময়টা ইলিশের সংরক্ষণ ও প্রজননের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জেলেদের বেশিরভাগই আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি সচেতন। অসাধুরা ছাড়া কেউই এখন আর ইলিশ সম্পদের ক্ষতি করতে চান না। ব্যবসায়ীরাও চান না। এসময়ে তাই মাছের পেছনে, বিশেষ করে ইলিশের পেছনে, কোনো রকম বিনিয়োগ করতে রাজি নন তারা। তাই এ সময়টায় মাছের আমদানি কম থাকায় আড়তদাররা যাতে অলস সময় না কাটান সেজন্য বেছে নিয়েছেন বিকল্প আয়বান্ধব ব্যবস্থা। বছর কয়েক ধরে এসময়টায় তরমুজের ফলন বেশি হচ্ছে আর এ সুযোগে মাছের বদলে তরমুজেই পুঁজি খাটাচ্ছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>