তানভিরের শোকে তানভিরের দাদাও চলে গেলেন!

আপডেট : June, 15, 2017, 11:03 pm

খবরটা শুনে তিনি অস্থির হয়ে পড়েছিলেন। বারবার সবাইকে অনুরোধ করছিলেন ঢাকায় নিয়ে যেতে। শেষবারের মতো নাতিকে দেখতে চেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত নিজেও ঢলে পড়লেন মৃত্যুর কোলে।

প্রবল বর্ষণে রাঙামাটিতে পাহাড়ধসের সময় উদ্ধারকাজ করতে গিয়ে গত মঙ্গলবার নিহত হয়েছেন তাঁর নাতি সেনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন মো. তানভীর ছালাম ওরফে শান্ত। প্রিয় নাতির মৃত্যুর খবর পেয়ে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান দাদা মো. আবদুল আজিজ মোল্লা (৯০)।

নিহত তানভীরের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালিশুরি ইউনিয়নের সিংহেরাকাঠি গ্রামে। তাঁর ছোট চাচি ঝর্ণা বেগম (৩৫)  জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে তানভীরের দাদা মো. আবদুল আজিজ মোল্লা মারা যান। ঝর্ণা বেগম জানান, তানভীরের মৃত্যুতে তাঁর দাদা শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েন। বারবার আহাজারি করে শুধু বলছিলেন, ‘তোরা আমাকে ঢাকায় নিয়ে চল। আমি আমার কলিজার টুকরা নাতিটাকে শেষ দেখা দেখব। আল্লাহ, তুমি আমার নাতিকে না নিয়ে আমাকে নিতে।’

আজ বেলা ১১টার দিকে সিংহেরাকাঠি গ্রামের ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে শত শত মানুষ সেখানে উপস্থিত। বাড়ির ভেতর থেকে আসছে কান্নার আওয়াজ। ওই মুহূর্তে ঝর্ণা বেগম ছাড়া বাড়িতে অন্য কোনো নিকটাত্মীয় নেই। সব স্বজন ঢাকায় গেছেন তানভীরকে শেষ বিদায় জানাতে। আজ বেলা সাড়ে ১১টার

দিকে বনানীর সামরিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। প্রিয় নাতির দাফনের আগেই মারা গেলেন দাদা।

প্রতিবেশী মো. বাচ্চু ফকির (৪৩)  বলেন, ‘তানভীরকে ঢাকায় দাফন করেছেন তাঁর স্বজনেরা। এখন তাঁরা আবার ছুটছেন তানভীরের দাদাকে দাফন করার জন্য। বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক।’

তানভীরের বাবা আবদুস ছালাম মোল্লার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হয়।  তিনি বলেন, ‘সুখের সংসার বলতে যা বোঝায়, এর সবই ছিল আমার সংসারে। একমাত্র আদরের ছেলেকে হারালাম। সেই শোকে বাবাও চলে গেলেন। এই শোক কেমন করে সহ্য করব।’ এ কথাগুলো বলতে বলতে তিনি হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন।

তানভীরের ছোট চাচা মোজাম্মেল হক বলেন, ‘সবার আদরের ছেলে তানভীরের আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে পুরো পরিবার। তানভীরের বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া একমাত্র বোন সেতু নির্বাক হয়ে গেছে। আমার বাবার বয়স হলেও তিনি সুস্থ ছিলেন। তানভীরের মৃত্যুর শোক সহ্য করতে না পেরে আমার বাবাও মারা গেছেন। শোকে সবাই যেন এখন পাথর হয়ে গেছেন।’

বাড়ির লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজিজ মোল্লার চার ছেলে ও পাঁচ মেয়ে। দুই মেয়ে ও ছোট ছেলে এলাকায় থাকেন। বাকি তিন মেয়ে ও তিন ছেলে পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন। বাড়িতে সবাই পৌঁছানোর পর কাল শুক্রবার তানভীরের দাদার দাফন হতে পারে।

Facebook Comments