তাপপ্রবাহে হিট স্ট্রোক ঝুঁকিতে বরিশালবাসী!

মে ২৩ ২০১৭, ০৮:৪০

বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে ২০ দিন ধরে অতিমাত্রার তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। তাপমাত্রা ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়। এতে পরিস্থিতি আরও অসহনীয় করে তুলেছে।

বরিশালের অধিকাংশ এলাকায় ২৪ ঘণ্টার বিদ্যুৎ থাকে না ১২ ঘণ্টাও। বিদ্যুতের জন্য বাড়ছে মানুষের ক্ষোভ।

বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকার লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ২২ দিন ধরে অব্যাহত অসহনীয় তাপপ্রবাহের পাশাপাশি ভয়াবহ বিদ্যুতের লোডশেডিং মারাত্মকভাবে ভোগাচ্ছে তাঁদের। দিন-রাত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় কোথাও ১২ ঘণ্টা আবার কোথাও ৩ থেকে ৫ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না গ্রাহকেরা। এতে তীব্র গরমে ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে জীবন। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, কলকারখানায় উৎপাদনে মারাত্মক ধস নেমেছে। এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে জনস্বাস্থ্যের ওপর। অনেক এলাকায় ডায়রিয়া ও গরমে অসুস্থ (মৃদু হিট স্ট্রোক) হয়ে পড়ার প্রবণতা বেড়েছে।

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক আবুল খায়ের মাহমুদ জানান, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ৬০ জন রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১১ জন, ৩ জন গরমে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তীব্র গরমে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব কয়েক দিনে অনেক বেড়েছে। এমন বৈরী আবহাওয়া আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটতে পারে।

আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের ২২ দিনে বরিশালে তাপমাত্রা বেশির ভাগ সময়ই ৩৫ ডিগ্রি ছুঁই ছুঁই এবং বেশ কিছুদিন ওপরে ছিল। ১৯ মে তা বেড়ে ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রিতে পৌঁছায়।

বরিশাল আবহাওয়া কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মো. ইউসুফ  বলেন, তাপমাত্রার এই অস্বাভাবিক অবস্থা আরও ৪-৫ দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

পশ্চিমাঞ্চলীয় বিদ্যুৎ

বিতরণ কর্তৃপক্ষের (ওজোপাডিকো) বরিশাল সার্কেলের সূত্র জানায়, এই সার্কেলের আওতায় বরিশাল নগর, ঝালকাঠি, নলছিটি, পিরোজপুর ও ভান্ডারিয়া সাব-স্টেশনের আওতায় ১ লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। এ ছাড়া ছোট-বড় মিলিয়ে ১ হাজার ৫০টি কলকারখানা রয়েছে। এই গ্রাহকদের জন্য বরিশাল সার্কেলের বিদ্যুতের চাহিদা ১২০ মেগাওয়াট। কিন্তু সেখানে পাওয়া যাচ্ছে প্রতিদিন ৬০-৭০ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বিদ্যুতের জোগান হওয়ায় এখন বরিশাল নগর ও বিভাগের জেলা শহরগুলোতে ২৪ ঘণ্টায় ১২ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। আর গ্রামের পল্লী বিদ্যুতের সরবরাহ ব্যবস্থা আরও নাজুক। গ্রামাঞ্চলের পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকেরা দিনে ৪-৫ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। আর এতে অসহনীয় হয়ে উঠছে জনজীবন।

বরগুনা শহরে বিদ্যুতের দাবিতে দুই দিন ধরে গ্রাহকেরা বিক্ষোভ ও বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করছেন। ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহ আলম গতকাল সোমবার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গত ১৫ দিন ধরে ২৪ ঘণ্টায় আমরা তিন-সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাই না।

ওজোপাডিকোর বরিশাল সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইকতিয়ার উদ্দীন বলেন, ‘তাপমাত্রা যত বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদাও তত বাড়ছে। শীত না এলে এই চাহিদা কমার কোনো সম্ভাবনাও নেই। তা ছাড়া চলতি মাসের প্রথম দিকে জাতীয় গ্রিডে দুটি বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর এই চার বিভাগের ৩৮টি জেলায় বিদ্যুতের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এ জন্য চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের সার্কেলে ১২০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে কিন্তু আমরা সেখানে প্রতিদিন ৬০-৭০ মেগাওয়াটের বেশি পাচ্ছি না। এই ঘাটতি নিয়েই আমাদের বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে হচ্ছে।’

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>