তেঁতুলিয়ায় বিরল পাখি কালো দোচরা’র সন্ধান

আগস্ট ০৯ ২০১৭, ১০:৫৬

তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর এলাকায় দেখা মিলেছে বিরল প্রজাতির পাখি কালো কাস্তে চরা’র। ঠোঁট নিচের দিকে কাস্তের মতো বাঁকানো বলে তাদের এই নাম। পাখিটি বাস করে সীমান্তের ওপারে। শুষ্ক মৌসুমে তারা খাবারের সন্ধানে চলে আসে আমাদের দেশে। কৃষকের বন্ধু হিসেবে খ্যাত এই পাখিটির আরেক নাম কালো দোচরা। ইংরেজিতে ডাকা হয় ‘ইন্ডিয়ান ব্লাক ইবিস’ (Indian Black Ibis or Red-naped Ibis) বলে। কালো দোচরার বৈজ্ঞানিক নাম Pseudibis Papillosa. সারাবিশ্বে এই পাখির প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ২৫ হলেও বাংলাদেশে মাত্র ২টির প্রজাতির দেখা মেলে।
আগে কখনো দেখা না গেলেও গত কয়েক বছর ধরে তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় দেখা মিলছে এই পাখির। সম্প্রতি এ পাখির ছবি তুলেছেন পঞ্চগড়ের বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী ফিরোজ আল সাবা। তিনি জানান, কালো দোচরা এ অঞ্চলে খাবারের সন্ধানে আসে। বাসা বাঁধে না। তবে পরিবেশ অনুকূলে থাকলে তারা প্রজননও করতে পারে এই এলাকায়। বাংলাবান্ধার ধাইজান, তেঁতুলিয়ার কালান্দিগঞ্জ, সদর উপজেলার আমতলা, দর্জিপাড়া এবং শারিয়ালজোতসহ আরো বেশ কয়েকটি গ্রামের মাঠ, খেত ও নদীর চরে দেখা মিলেছে এই বিরল পাখির।
কালো দোচরা সাধারণত জলা জায়গার পরিবর্তে শুকনো খোলা মাঠে থাকতে বেশি পছন্দ করে। এরা দল বেঁধে বাসা বাঁধে । অন্য জাতের পাখিদের সাথে বাসা বাঁধে না। গাছের ওপর বড় বাটির আকারের বাসা বানায়। তবে মাঝে মাঝে শকুন বা ঈগলের পরিত্যক্ত বাসাতেও থাকতে দেখা যায়। বক ও পানকৌরীর দলেও তারা থাকে। সাধারণত অগভীর জলাশয়, মোহনা বা কৃষি জমিতে একা অথবা দল বেঁধে ঘুরে বেড়ায়।
ভারিক্কি চালে পা ফেলে খেত-খামার চষে
বেড়ায় কালো দোচরা। ক্ষতিকর পোকামাকড়, ইঁদুর ইত্যাদি খেয়ে উপকার করে কৃষকের। আকারে বেশ বড়োসড়ো এ পাখি এদেশে পরিযায়ী হয়ে আসে। শান্ত স্বভাবের পাখিটি দেখতে চমত্কার বর্ণময়। উচ্চৈঃস্বরে না ডাকলেও কণ্ঠস্বর কর্কস । কখনো কখনো ওড়ার সময় নাকি স্বরে চিত্কার করে। এরা দ্রুত এবং অনেক উঁচুতে উড়তে পারে।
এদের গড়দৈর্ঘ্য ৬০-৬৮ সেন্টিমিটার। প্রসারিত ডানা ১০০-১১৫ সেন্টিমিটার। স্ত্রী-পুরুষ পাখির চেহারায় তেমন তফাত্ নেই। মাথার উপর আঁচিল এবং লাল প্যাঁচ দেখা যায়। পিঠ গাঢ় বাদামি। ডানা ও খাটো লেজে থাকে নীল-সবুজের সঙ্গে কালোর মিশ্রণ। দেহতল খয়েরি-বাদামি। লম্বা পা লালচে গোলাপি। অপ্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে রঙে সামান্য তফাত্ রয়েছে। প্রধান খাবার জলজ পোকামাকড়, ইঁদুর, কেঁচো, ব্যাঙ, ছোট সাপ, পচা মাংস, টিকটিকিসহ বিভিন্ন ধরনের সরীসৃপ। মাঝে মধ্যে মাছও শিকার করে।
কালো দোচরার প্রজনন মৌসুম অক্টোবর। তবে অঞ্চলভেদে সময়ের হেরফের দেখা যায়। প্রজনন ঋতুতে ডানার নিচে রক্তলাল পট্টি দেখা যায়। এসময় কালো মাথায় নীলাভ আভা লক্ষ্য করা যায়। পা চকচকে কালো হয়ে ওঠে। জলাশয়ের কাছাকাছি গাছের উঁচু ডালে (ছয় থেকে বারো মিটারের মধ্যে) সরু কাঠি, নলখাগড়া বা ডালপালা দিয়ে বাসা বাঁধে এরা। ডিম পাড়ে ২-৮টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ২৫-২৭ দিন। বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস ও থাইল্যান্ড পর্যন্ত এদের বৈশ্বিক বিচরণ।
এ বিষয়ে বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এই কালো দোচরা ছাড়াও এ অঞ্চলে আরো অনেক বিরল প্রজাতির পাখি আসে। আমরা যদি এদের বিরক্ত না করে সংরক্ষণ করার চেষ্টা করি তাহলে এরা স্থায়ী ভাবে থাকবে।
Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>