দক্ষিণাঞ্চলে কৌশলে নির্বাচনী মাঠ গোছাচ্ছে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা

বিশেষ প্রতিবেদকঃ  সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের শেষদিকে অথবা ২০১৯ সালের প্রথমদিকে অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় নির্বাচন। আগামী নির্বাচন বর্তমান সরকারের অধীনে নাকি সহায়ক সরকারের অধীনে হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে জোর আলোচনা। এরমধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ে মাঠ জরিপ শুরু করে দিয়েছে। বিএনপি গত নির্বাচন বর্জন করলেও এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা বলে আসছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে আসনভিত্তিক সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকাও করছে দলটি। প্রাথমিকভাবে তিনশ’ আসনের জন্য নয় শতাধিক প্রার্থীর তালিকাও করেছে দলটি। ওই তালিকায় চলবে আরও সংযোজন বিয়োজন। দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্যা জানা গেছে।
সূত্রমতে, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ২১টি সংসদীয় আসনের সম্ভাব্য তালিকায় স্থান প্রাপ্তরা গত রমজান মাসে ইফতার মাহফিলে অংশগ্রহণ করা, ঈদের সময় নেতাকর্মীদের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ের নামে গণসংযোগের পর এবার কৌশলে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন ফরম বিতরনের নামে নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে মাঠ গোছাচ্ছেন। তবে তালিকায়স্থান প্রাপ্ত অধিকাংশরাই দীর্ঘদিন থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছেন।
দলের বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির সম্ভাব্য তালিকায় স্থান প্রাপ্তরা হলেন-বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া): সাবেক সাংসদ ও সম্প্রতি ১০ বছর পর বিএনপিতে ফেরা সংস্কারবাদী নেতা এম. জহির উদ্দিন স্বপন, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান ও নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান। এরমধ্যে দলের দুর্দীনে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রাম থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় কর্মসূচী পালনে নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে থাকলেও অন্য দুই নেতা দীর্ঘদিন থেকে মাঠে অনুপস্থিত রয়েছেন। বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া): নির্বাহী কমিটির সদস্য এস সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টু, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক কাজী রনকুল ইসলাম টিপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য দুলাল হোসেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, সাবেক এমপি ও যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা গিয়াস উদ্দিন মামুন। বরিশাল-৩ (মুলাদী-বাবুগঞ্জ): দলের ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, সাবেক এমপি মোশাররফ হোসেন মঙ্গু। বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা): সাবেক এমপি জেলা উত্তর বিএনপি সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ, সাবেক অর্থ প্রতিমন্ত্রী শাহ্ মোহাম্মদ আবুল হোসেইন, যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক হাওলাদার, কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন, ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান। বরিশাল-৫ (সদর): সাবেক এমপি ও দলের যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার, বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন। বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ): সাবেক এমপি ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন খান, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সহসভাপতি আলহাজ মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী নান্নু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিকদার খলিলুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সদস্য আব্দুর শুক্কুর নেগাবান বাচ্চু, যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা নুরুল ইসলাম খান মাসুদ, যুবদল দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, নির্বাহী কমিটির সদস্য

ড. শহীদ হাসান।

বরগুনা-১ (সদর, আমতলী ও তালতলী): সাবেক এমপি লে. কর্নেল (অব.) আব্দুল খালেক, জেলা বিএনপির সভাপতি মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক এসএম নজরুল ইসলাম, সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ফিরোজ-উজ জামান মামুন মোল্লা, মতিউর রহমান তালুকদার। বরগুনা-২ (বামনা, পাথরঘাটা ও বেতাগী): দলের ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মনি। ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া): বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামাল, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট রফিক হাওলাদার। ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি): জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মিঞা আহমেদ কিবরিয়া, সাবেক এমপি ইলেন ভুট্টো, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু, নির্বাহী সদস্য জেবা আহমেদ খান ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর।

ভোলা-১ (সদর): জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর ও সাবেক যুবদল নেতা জামাল উদ্দিন লিটন। জোটগত নির্বাচন হলে এ আসনে বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ রয়েছেন ভাবনার তালিকায়। ভোলা-২ (দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন): সাবেক এমপি হাফিজ ইব্রাহিম ও সাবেক ফুটবলার আমিনুল ইসলাম। ভোলা-৩ (তজুমদ্দিন ও লালমোহন): দলের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও আক্তারুজ্জামান টিটু। ভোলা-৪ (মনপুরা ও চরফ্যাশন): সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আলম ও যুবদেলর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন।

পটুয়াখালী-১ (সদর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকি): বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বিশিষ্ট শিল্পপতি ডাঃ আতাহার উদ্দিন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন মৃধা ও জেলার সাবেক আহবায়ক আব্দুর রশিদ চুন্নু মিয়া। পটুয়াখালী-২ (বাউফল): বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক মনির হোসেন ও জেলার সিনিয়র সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার একেএম ফারুক আহমেদ তালুকদার। পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা): সাবেক সাংসদ শাহজাহান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাসান আল মামুন, গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ গোলাম মোস্তফা। পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী): বিএনপির প্রশিক্ষণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি মনিরুল ইসলাম, অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান।

পিরোজপুর-১ (সদর, নাজিরপুর ও নেছারাবাদ): বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আলমগীর হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি গাজী নুরুজ্জামান বাবুল, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ফকরুল আলম, সহসভাপতি নজরুল ইসলাম খান, এ্যাডভোকেট আবুল কালাম আকন, আমেরিকা প্রবাসী জাহিদ এফ সরদার সাদী ও এ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান দুলাল। পিরোজপুর-২ (কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও ইন্দুরকানী): বিএনপির সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম মঞ্জুর ছেলে আহমদ সোহেল মনজুর সুমন, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ যুক্তরাজ্য শাখার যুগ্ম-আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার একেএম রেজাউল করিম, উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আহসান কবীর ও আব্দুল লতিফ হাওলাদার। শেষপর্যন্ত জোটগতভাবে নির্বাচন হলে এখানে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে ইন্দুরকানী উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ বিন সাঈদী আছেন ভাবনার তালিকায়। পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া): জেলা বিএনপির সদস্য কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) শাহজাহান মিলন, রুহুল আমীন দুলাল, জামাল উদ্দিন মিলন, রফিকুল ইসলাম মাহতাব, এমএজি আলীম ও এজাজ আহম্মেদ আছেন বিএনপির সম্ভব্য প্রার্থীর তালিকায়।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>