দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত সেই দুই শিশুকে বরগুনা জেলা প্রশাসনের সহায়তা

ফেব্রুয়ারি ২৫ ২০১৭, ২১:৫২

আমতলী প্রতিনিধিঃদুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে বরগুনার আমতলী হাসপাতালে ভর্তি দুই ভাই কে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন বরগুনা জেলা প্রশাসক ডঃ মহাঃ বশিরুল আলম শনিবার বিকালে আমতলী হাসপাতালে ছেলে দুটিকে দেখতে যান তিনি ।এ সময় তিনি দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত শিশুদের পরিবার কে জেলা প্রশাসন থেকে অব্যাহত সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দেন।এছাড়াও সরকারী অন্যান্য সহায়তা ও খাস জমি বরাদ্দ দেয়া হবে মর্মে নিশ্চয়তা দেয়া হয়।
উল্লেখ্য এ বিষয় ১৩ জানুয়ারী বিভিন্ন পত্রিকায় “ অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত দু’ভাই আমতলীর হাসপাতালে ভর্তি” শিরোনামে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর প্রহর গুনছে মরণব্যাধী রোগে আক্রান্ত আমতলীর দু’ভাই শিপন (১৫) ও সোলায়মানকে (৮) শনিবার আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা দু’ভাইকে গভীর পর্যবেক্ষনে রেখেছেন। অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত দু’ভাই ” শিরোনামে গত কয়েকদিন যাবৎ বিভিন্ন পত্রিকায় এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয় ওই প্রতিবেদন গুলো চোখে পরে সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও স্বাস্থ্য বিভাগের ডাইরেক্টর জেনারেল হেলথ সার্ভিসেস ডাঃ আবুল কালাম আজাদের।
তারা এ দু’ভাইয়ের খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বরগুনা জেলা প্রশাসক ড. বশিরুল আলম ও সিভিল সার্জন ডাঃ জসিম উদ্দিন হাওলাদারকে নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের নির্দেশ মোতাবেক বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বরগুনা সিভিল সার্জন ডাঃ জসিম উদ্দিন ও আমতলী উপজেস্বাস্থ্য প্রশাসক ডাঃ মোঃ আবদুল মতিন ওই দু’ভাইয়ের খোঁজ খবর নিতে তাদের গ্রামের বাড়ী কালিবাড়ী যায় এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির পরামর্শ দেয়। শনিবার ওই দুই ভাইকে আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, বরগুনার আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের কালিবাড়ী গ্রামের ফকু তালুকদারের চার পুত্র স্বপন, রিপন, শিপন ও সোলায়মান। স্বপনের বয়স যখন আট বছর তখন তার শরীরের পরিবর্তন দেখা দেয়। তার দু’পায়ের হাটু মোটা হয়ে আস্তে আস্তে হাত পা শুকিয়ে রগ খিচুনী দিয়ে পঙ্গুত্ববরণ করে। তিনি তার সাধ্যমত চিকিৎসা করিয়েছেন কিন্তু কোন চিকিৎসাই কাজে আসছে না। ডাক্তাররা এ লক্ষণ দেখে রোগ সনাক্ত করতে পারছে না । পঙ্গুত্ব অবস্থায় ৯ বছর বিছানায় থেকে ২০০৮ সালে স্বপন মারা। এরপর ছোট ভাই

রিপন ও শিপনের আট বছর হওয়ায় সাথে সাথে একই লক্ষণ দেখা দেয়। সন্তানদের বাচাঁনোর জন্য বহু চিকিৎসক ও ওঝার কাছে ধর্না দিয়ে কোন কাজ হয়নি।
৮ বছর ধরে বিছানায় পড়ে থাকে শিপন ও রিপন। গত বছর নবেম্বর মাসে একই অবস্থায় রিপন মারা যায়। বর্তমানে শিপন বিছানায় পরে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। শিপনের হাত-পা চিকন হয়ে শুকিয়ে গেছে। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বাঁকা হয়ে পরে আছে। বিছানায় শুয়ে শুয়ে খাওয়া দাওয়া করতে হয়। পিতা-মাতা হাল ছেড়ে দিয়ে ছেলের মুত্যু দেখার অপেক্ষায় আছে। শেষ ও ছোট সন্তান সোলায়মান তালুকদার তৃতীয় শ্রেনীর ছাত্র। তারও শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। তার পায়ের হাটু মোটা হয়ে যাচ্ছে। তাদের উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন কিন্তু অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না।
এক এক করে দুরারোগ্য রোগে দু’ছেলের মৃত্যু এবং দু’ছেলের এ ব্যাধীতে আক্রান্ত হওয়ায় বাবা মা দিশেহারা। কান্না যেন তাদের নিত্য দিনের সঙ্গী। বৃহস্পতিবার চিকিৎসকদের বাড়ীতে দেখে মা খুশি বেগম খুশিতে আত্মহারা। শনিবার আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। মা আশায় বুক বেঁধে আছে তার ছেলেরা ভালো হবে। শনিবার বিকালে আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, দু’ভাইকে চিকিৎসক শাহাদাত হোসেন চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করছেন। মা খুশি বেগম কেঁদে বলেন “মোর পোলা দুইডা দ্যাহার জন্য ডাক্তার বাড়তে আইছে, মোর পোলাগো আল্লায় বাচাইবে, সরকার মোর পোলাগো চিকিৎসা হরবে”।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক ডাঃ আবদুল মতিন বলেন এটি একটি বিরল ও জীন গঠিত রোগ। বংশানুক্রমিকভাবে এ রোগ হয়। এ রোগের নাম ডিএমডি (ডুচেন্স মাসকুলার ডিসট্রেফি)। প্রথমতঃ রোগীর মাংশপেশীগুলো গলে যায় এবং আস্তে আস্তে চামড়া হাড্ডির সাথে লেগে যায়। তিনি আরো বলেন বংশানুক্রমিক এ রোগ ৬/৭ বছর বয়সে লক্ষণ ধরা পড়ে, ১২/১৩ বছর বয়সে জটিল আকার ধারন করে, ১৬/১৭ বছর বয়সে পঙ্গু হয় এবং ২০/২১ বছর বয়সে অবধারিত মৃত্যু। তবে পুষ্টিকর খাবার খেলে ৩০/৪০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে। তিনি আরো বলেন দু’ভাইকে গভীর পর্যবেক্ষনে রাখা হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>