দেশের অগ্রযাত্রা যেন কেউ ব্যাহত করতে না পারে:প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : July, 27, 2017, 11:40 pm

ডেস্ক রিপোর্টঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা যাতে কেউ ব্যাহত করতে না পারে সেজন্য সবার সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আর যেন কেউ জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে।
বৃহস্পতিবার ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তনে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন স্কিলস ফর দ্য ফিউচার ওয়ার্ল্ড অফ ওয়ার্ক এন্ড টিবিইটি ফর গ্লোবাল কম্পিটিটিভনেস’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি আরো বলেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে মানুষের কল্যাণ ও বাসযোগ্য শান্তিময় বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে আমাদের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হবে।
আইডিইবি ও আন্তঃদেশীয় রাষ্ট্রীয় সংস্থা কলম্বো প্ল্যান স্টাফ কলেজ (সিপিএসসি) ম্যানিলা, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল’র সহোযোগিতায় এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
দেশের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষে জ্ঞানভিত্তিক ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে সন্নিবেশিত করে দেশের গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষ জনশক্তিই একটি দেশ ও জাতির সামষ্টিক উন্নয়নকে এগিয়ে নেয়ার প্রধান হাতিয়ার। জ্ঞানভিত্তিক দক্ষতা ও প্রায়োগিক দক্ষতার সমন্বয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নে শিক্ষাকে ঢেলে সাজাতে হবে। তাই কারিগরী শিক্ষাকে পর্যায়ক্রমে মূল ধারার শিক্ষায় সম্পৃক্ত করতে হবে।
বাংলাদেশের জনসংখ্যা নিয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি- দেশের জনসংখ্যা বোঝা নয়। ১৬ কোটি মানুষ আমাদের এক অমূল্য সম্পদ। সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে পারলে জনশক্তিই হবে
দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। আর দক্ষ মানবসম্পদের চেয়ে কোন সম্পদই বড় নয়। আমরা জনশক্তিকে জনসম্পদে পরিণত করার জন্য বিজ্ঞান এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণ ও মানোন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি। সরকারি উদ্যোগে দেশে তিনটি মহিলা পলিটেকটিক ইনস্টিটিউটসহ ৪৯টি সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং বেসরকারি পর্যায়ে সরকার অনুমোদিত ৪৬৭টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স পরিচালনা করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্যগুলোর অন্যতম হলো- কর্মজগতের চাহিদা অনুযায়ী মানসম্পন্ন জাতীয় শ্রেণিবদ্ধ কর্মী সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের মধ্যে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও গবেষণায় জ্ঞান আদান প্রদানে ‘টিভিইটি’ নেটওয়ার্ক স্থাপন।
 তিনি বলেন, ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট গবেষক, অনুশীলনকারী, শিক্ষাবিদ, উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকদের ভবিষ্যত্ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে এই সম্মেলন একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।’ আইডিইবি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগকে যৌথভাবে উদ্যোগী হয়ে এই প্ল্যাটফর্ম গঠনে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানান তিনি।
ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি)’র প্রেসিডেন্ট ও সম্মেলনের আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান এম এ হামিদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সিপিএসসি মহাপরিচালক এবং স্টিয়ারিং কমিটির কো-চেয়ারম্যান ড. রামহরি লামিছানে, আইডিইবি এবং সম্মেলন আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
Facebook Comments