দোয়া, ভালোবাসা এবং নৌকায় ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : March, 15, 2017, 1:15 am

আওয়ামী লীগের ওপর আস্থা রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের দোয়া চাই, ভালোবাসা চাই। আর প্রতিটি নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট চাই।’

লক্ষ্মীপুর স্টেডিয়ামে আজ মঙ্গলবার বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘এই নৌকা বিপদে মানুষকে রক্ষা করে…নৌকায় ভোট দিয়েই তো ’৭০ সালে জনগণ আওয়ামী লীগকে জয়যুক্ত করেছিল। আর সে জন্যই আজ আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।’

আওয়ামী লীগ উন্নয়ন করতে ক্ষমতায় আসে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেন উন্নয়ন করে? করে একটাই কারণ, আওয়ামী লীগই জাতির পিতার নেতৃত্বে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। তাই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই দেশের উন্নয়ন হয়। আর আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় ছিল না, তখন দেশের কোনো উন্নয়ন হয়নি।’ শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘প্রয়োজনে জীবন দিয়েও এই বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে যাব। সেটাই আমার প্রতিজ্ঞা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্যই দেশকে উন্নত করা। কিন্তু বিএনপি কী করেছে? ২০০১ সালের নির্বাচনের পর তারা এখানে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। আওয়ামী লীগের একজন নেতা-কর্মীও সে সময় ঘরে থাকতে পারে নাই। তারা ক্ষমতায় আসা মানে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করা। তারা ক্ষমতায় আসা মানেই জনগণের জীবনে নাভিশ্বাস ওঠা।’

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রশ্নে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পুনরুল্লেখ প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকতে

সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছিল।

সরকারপ্রধান বলেন, ‘প্রত্যেকটি মসজিদের ইমাম, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, অভিভাবক, ওলামা মাশায়েখ ও সব শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের কাছে আমার আহ্বান থাকবে, আপনারা নিজেরা নিজ নিজ এলাকায় লক্ষ রাখবেন, কারও ছেলেমেয়েই যেন ওই জঙ্গিবাদের পথে না যায়।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লক্ষ্মীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরউদ্দিন চৌধুরীর পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

২৭টি প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
জনসভা মঞ্চে ওঠার আগে প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ১০টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১৭টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রতিটি প্রকল্পের নামে তৈরি করা ফলক রাখা হয়েছিল মঞ্চের পাশে। প্রধানমন্ত্রী একে একে সব ফলকের পর্দা সরিয়ে প্রকল্পগুলোর উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

উদ্বোধন ঘোষণা করা প্রকল্পগুলোর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো রামগতি ও কমলনগর মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্প (প্রথম পর্যায়), মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালত ভবন, যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সদর উপজেলা পরিষদ ভবন ও উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম এবং কমলনগর উপজেলা পরিষদ ভবন ও উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা প্রকল্পগুলোর মধ্যে কয়েকটি হলো ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতাল, প্রশাসনিক ভবন ও নাবিক নিবাস, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, মজু চৌধুরীর হাট, পুলিশ অফিসার্স মেস, লক্ষ্মীপুর সদর পুলিশ ফাঁড়ি, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস ভবন।

Facebook Comments