দ্রুত এগিয়ে চলেছে পায়রা সেতুর কাজ

মে ২৩ ২০১৭, ১০:৩৭

বরিশাল থেকে সড়কপথে পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় যেতে আগে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় লাগত। ১০৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কপথের পাঁচটি পয়েন্টে ছিল ফেরি। এ কারণে ঘাটে ঘাটে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হতো যাত্রীদের। গত কয়েক বছরে চারটি পয়েন্টে সেতু নির্মিত হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সহজ হয়েছে। বেঁচে গেছে অর্ধেক সময়। এর পরও বাকি থাকা একমাত্র লেবুখালী ফেরিঘাট পয়েন্টে দুর্ভোগ নিত্যসঙ্গী পরিবহন চালক ও যাত্রীদের। বাসচালক মো. মোশারফ হোসেন বলেন, সারা পথ ভালো চালিয়ে আসেন। ফেরিঘাটে এলেই যত ভোগান্তি। ফেরি পারাপারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। সেতু নির্মিত হলে আর ঘাটে অপেক্ষা করতে হবে না। কম সময়ে গন্তব্যে যেতে আর কোনো বাধা থাকবে না। মো. রুবেল মিয়া নামে এক ট্রাকচালক বলেন, ‘সেতু হলে আর ঘাটে দেরি হবে না। আসব আর চলে যাব। এতে সময়ের অনেক সাশ্রয় হবে। এখন কবে সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হবে সেই অপেক্ষায় আছি। ’ ব্যস্ততম এই মহাসড়কে জনদুর্ভোগ কমাতে গত বছর লেবুখালী পয়েন্টের পায়রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রণালয়। দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে সেতু নির্মাণের কাজ। আর এতেই উন্নয়নের হাওয়া লেগেছে ওই এলাকায়। বেড়েছে জমির দাম। শিল্প করার জন্য জায়গা খুঁজছেন উদ্যোক্তারা। সেতুর উত্তর প্রান্তের বাকেরগঞ্জের ভরপাশা ইউপি চেয়ারম্যান মো. আসাদুজ্জামান খান বলেন, স্বপ্নের পায়রা সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হলে কুয়াকাটা এবং নির্মাণাধীন পায়রা বন্দরের সঙ্গে বরিশালসহ সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সহজ হবে। সাশ্রয় হবে সময়। তিনি বলেন, পায়রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হতেই সেতুর দুই প্রান্তসহ আশপাশ এলাকায় জমির দাম বেড়ে গেছে হু হু করে। উদ্যোক্তারা শিল্প-কলকারখানা স্থাপনের জন্য সুবিধাজনক জমি খুঁজছেন। বরিশাল

থেকে কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কের ২৬তম কিলোমিটারে লেবুখালী পয়েন্টে পায়রা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয় গত বছর ২৪ জুলাই। ১ হাজার ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৪৭০ মিটার দীর্ঘ এবং ১৯.৭৬ মিটার প্রস্থ সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে পর্যটনের কথা মাথায় রেখে তৃতীয় কর্নফুলী সেতুর আদলে ‘এক্সট্রা ডোজ কেবল স্টেট’ পদ্ধতিতে। কুয়েত সরকারের আর্থিক সহায়তায় চার লেনবিশিষ্ট সেতু নির্মাণের কাজ করছে চীনের প্রকৌশল সংস্থা লং জিয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লি.। সেতু নির্মাণে কাজ করছে চীন-ভারতসহ বিদেশি অর্ধশতাধিক প্রকৌশলী ও কারিগর। তাদের মতে, বাংলাদেশের কর্মপরিবেশ খুবই ভালো ও নিরাপদ। এখানকার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট তারা। লং জিয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ কনস্ট্রাকশন কোম্পানির দোভাষী চীনা নাগরিক চ্যাং জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তারা খুশি। এখনকার কর্মপরিবেশও বেশ ভালো। তার মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন প্রকল্পের ভারপ্রাপ্ত টিম লিডার ভারতীয় নাগরিক পি সি দিনেশ এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক চীনা নাগরিক চেন উইসহ অন্য বিদেশিরা। সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পায়রা সেতু প্রকল্পের কনসালট্যান্ট আবাসিক প্রকৌশলী মনোজিৎ কুমার সাহা জানান, এক্সট্রা ডোজ কেবল স্টেট পদ্ধতিতে চার লেনবিশিষ্ট নান্দনিক সেতুটি দাঁড়িয়ে থাকবে ৩৫০টি পাইলের ওপর। ইতিমধ্যে সেতুর দুই প্রান্তে ৯০টি পাইল নির্মিত হয়েছে। সেতুর মোট কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৭ ভাগ। সবকিছু ঠিক থাকলে নির্ধারিত ৩৩ মাসের মধ্যে ২০১৯ সালের এপ্রিলে পায়রা সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে। পায়রা সেতু প্রকল্পের ব্যবস্থাপক সড়ক যোগাযোগ ও সেতু বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ শরীফ সজীব বলেন, দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে পায়রা সেতুর নির্মাণ কাজ। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটলে ২০১৯ সালের ২৩ এপ্রিল পায়রা সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>