ধানের শীষে ভোট চাইলেন খালেদা জিয়া

জুন ১৫ ২০১৭, ০০:২৩

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ধানের শীষে ভোট চাইলেন খালেদা জিয়া।

তিনি দলের ঢাকা মহানগর কমিটির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘ঢাকা সিটি, আপনারা আরও ঐক্যবদ্ধ হোন। আমি বলব—আসুন সামনে আসছে শুভ দিন, ধানের শীষেরই হবে বিজয় ইনশাল্লাহ। ধানের শীষকে আমরা ভোট দিয়ে বিজয়ী করি, এদেশের মানুষকে আবার শান্তি-উন্নতি-গণতন্ত্র-উন্নয়নের পথে নিয়ে যাবে।’

বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে ঢাকা মহানগর বিএনপির উত্তর শাখার ইফতার অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া একথা বলেন। ইফতারের আগে হলরুমে প্রবেশ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

আগামী নির্বাচন ‘একতরফা’ হতে দেওয়া হবে না হুঁশিয়ারি দিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নির্বাচনকে সবচেয়ে বেশি ভয় পায়। তারা ভাবছে, আগামী নির্বাচনেও তারা চুরি করে ক্ষমতায় বসবে। না, তাদের এবার আর চুরি করে ক্ষমতায় বসতে জনগণ দেবে না।

আওয়ামী লীগ চাইবে বিএনপির নেতাকর্মীদের এরকম মামলা-হামলা ও হয়রানি করে একতরফা নির্বাচন করবে। আমি বলতে চাই, আওয়ামী লীগকে এবার একতরফা নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। একতরফা নির্বাচন এদেশে আর হবে না। সেটা কারও কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না।’

এবারের নির্বাচন সবার অংশগ্রহণে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘হাসিনা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে, কিন্তু ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করাতে পারবে না। হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। মানুষ বুঝে গেছে, হাসিনা ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করলে ফলাফল কী হয়।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ”নির্বাচন হবে সহায়ক সরকারের অধীনে, সেখানে সকল রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে। ইনশাল্লাহ এই লুটেরা, খুনি, চোর, জনগণের হত্যাকারী, মা-বোনদের নির্যাতনকারী, ছাত্র-ছাত্রীদের অত্যাচারকারী এই সরকারকে জনগণ নির্বাচনে কেমনভাবে প্রত্যাখান করে, তাদের

পরিণতি কী হয়, সেদিন তারা নিজেরা দেখে নিতে পারবে।’

পার্বত্য জেলায় পাহাড় ধসে চার সেনা সদস্যসহ শতাধিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করে আহতদের সুচিকিৎসার দাবি জানান খালেদা জিয়া।

নরসিংদীর ছাত্রদলের নেতা সিদ্দিকুর রহমানের ছবি দেখিয়ে বিএনপিপ্রধান অভিযোগ করেন, ‘এই সরকার পবিত্র রমজান মাসেও বিএনপির নেতাকর্মী গুম করছে।

তিনি বলেন, ‘আমি পুলিশ বাহিনীর উদ্দেশে বলতে চাই, আপনারা জনগণের সেবক, আপনাদের দায়িত্ব হলো জনগণের নিরাপত্তা দেওয়া। আওয়ামী লীগের গুণ্ডা-সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করেন, জেলখানায় নিন। ভবিষ্যতে আপনারা ভালো থাকবেন। আপনাদের জন্য আমাদের অনেক কর্মসূচি আছে।’

মূল মঞ্চে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল, উত্তরের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু, সাধারণ সম্পাদক আহসানউল্লাহ হাসান, সহসভাপতি আব্দুল আলী নকি, মো. সাহাবুদ্দিনসহ উত্তরের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ইফতার করেন খালেদা জিয়া।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ইনাম আহমেদ চৌধুরী, রুহুল আলম চৌধুরী, আতাউর রহমান ঢালী, ফরহাদ হালিম ডোনার, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সানাউল্লাহ মিয়া, নুরী আরা সাফা, আমিনুল হক, সাইফুল ইসলাম নিরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, হাফেজ এম এ মালেক, শাহ নেসারুল হক, উত্তরের নেতৃবৃন্দের মধ্যে আতিকুল ইসলাম মতিন, মাসুদ খান, নবী সোলায়মান, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, আবুল হোসেন, আবুল হাশেম, শাহিনুর আলম মারফত, আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, এজিএম শামসুল হক, কফিলউদ্দিন আহমেদ, শামীম পারভেজ, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, ইউনুস মৃধা, মোশাররফ হোসেন খোকন প্রমুখ ইফতারে ছিলেন।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>