ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৃথিবী দ্রুত ছাড়তে হবে এ গ্রহ

জুন ২৩ ২০১৭, ১৫:০১

পৃথিবীর সামনে বিপদ। কারণ পৃথিবীর ধ্বংস যে অনিবার্য! তাই পৃথিবী ছাড়তে হবে মানুষকে! টিকে থাকতে হলে মানবসভ্যতাকে চলে যেতে হবে- আগেই এ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন স্টিফেন হকিং। সম্প্রতি জানালেন, কোথায় যেতে হবে। অর্থাত্ মানবসভ্যতার ‘নেক্সট ডেস্টিনেশন’ বা পরবর্তী ঠিকানা কোথায়। তার মতে, অন্তত আরও ১০ লক্ষ বছর টিকে থাকার জন্য যেতে হবে চাঁদ আর মঙ্গলে। তল্পিতল্পা গুটিয়ে পৃথিবীকে বিদায় জানানোর সময়ও বলে দিলেন। হকিংয়ের হিসেবে ৩০ বছরের মধ্যে চাঁদে আর আগামী ৫০ বছরের মধ্যে ‘লাল গ্রহ’ মঙ্গলে আমাদের গড়ে তুলতেই হবে পরবর্তী সভ্যতা।

নরওয়ের ট্রন্ডহিমে স্টারমাস সায়েন্স ফেস্টিভ্যালে প্রবাদপ্রতিম পদার্থবিদ, কসমোলজিস্ট হকিং বলেছেন, ‘আমি নিশ্চিত, হাতে আর খুব বেশি সময় নেই আমাদের। এই পৃথিবীটাকে আমাদের ছেড়েছুড়ে অন্যত্র চলে যেতেই হবে। এখানে জায়গাটা খুব দ্রুত ছোট হয়ে আসছে আমাদের টিকে থাকার জন্য। বেঁচে থাকার জন্য যে সব প্রাকৃতিক সম্পদ দরকার, তা খুব তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে আসছে উদ্বেগজনক হারে।’

কেন সভ্যতার জন্য তার এই হুঁশিয়ারি, সেই কারণগুলোও জানিয়েছেন হকিং।

গ্রহাণু আছড়ে পড়তে চলেছে

হকিং বলেছেন, পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আর খুব বেশি দেরি নেই। আমাদের এই গ্রহের খুব কাছে থাকা (নিয়ার-আর্থ অবজেক্ট) গ্রহাণু বা অ্যাস্টারয়েড একের পর এক আছড়ে পড়তে চলেছে পৃথিবীর ওপর। এই পৃথিবীটাকে ধ্বংস হয়ে যাওয়ার রাস্তাগুলো আমরাই এত দিন ধরে তৈরি করেছি, করে চলেছি। আমাদের জন্যই উদ্বেগজনক হারে বদলে যাচ্ছে জলবায়ু। পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম ও সূত্র সেটাই বলছে।

ইতিহাস এই ভাবেই বাঁক নেয়, পথ বদলায়। সভ্যতাকে

বাঁচানোর জন্য নতুন নতুন ঠিকানা খুঁজে নেয়, অতীতে বহু বার নিয়েছে। কিন্তু পৃথিবীতে যে অন্য কোথাও গিয়ে এই সভ্যতা একটু ‘নিরাপদ’ কোনও ‘ছাতার তলায়’ দাঁড়াবে, তেমন কোনও জায়গা আর নেই আমাদের এই বাসযোগ্য গ্রহে- এমনটাই মনে করছেন হকিং।

পুরোপুরি ফুরিয়ে গেছে পৃথিবী

হকিংয়ের ভাষ্যমতে,‘এর আগে যখনই সভ্যতা অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে, বেঁচে থাকা, মাথা গোঁজার জায়গাটা যখন সংকুচিত হয়ে এসেছে মানবসভ্যতার সামনে, তখনই সে নতুন নতুন জায়গা আবিষ্কার করে নিয়েছে। এখানে আমাদের জায়গাটা ছোট হতে হতে পুরোপুরিই ফুরিয়ে গিয়েছে। তাই যেতে হবে অন্য মুলুকে।

যেতে হবে চাঁদে, তারপর মঙ্গলগ্রহে

হকিং বলেন, কাছেপিঠে রয়েছে বলে  প্রথমে চাঁদে। তার পর ‘লাল গ্রহ’ মঙ্গলে। টার্গেট রাখতে হবে যাতে ৩০ বছরের মধ্যেই চাঁদে গড়ে তোলা যায় সভ্যতার পরবর্তী উপনিবেশ। আর ৫০ বছরের মধ্যেই উপনিবেশ গড়ে তুলতে হবে, তুলতেই হবে মঙ্গলে। ওখানে গিয়ে আমাদের নতুন করে ইকো সিস্টেম গড়ে তুলতে হবে, সব প্রাণী, উদ্ভিদ, ব্যাকটেরিয়া, অ্যামিবা, শৈবাল, ছত্রাক, পতঙ্গদের নিয়ে।’

গন্তব্য হতে পারে সেনটাওরি-বি’ও

চাঁদ আর মঙ্গল ছাড়াও ব্রহ্মাণ্ডে মানবসভ্যতার আরও একটি ‘নেক্সট ডেস্টিনেশন’ বেছে দিয়েছেন হকিং। সেটা হলো, আমাদের সবচেয়ে কাছে, এই সৌরমণ্ডলের ‘পাঁচিল’টা টপকালেই যে ‘আলফা সেনটাওরি’ নক্ষত্রমণ্ডল রয়েছে, তারই একটি গ্রহ আলফা সেনটাওরি-বি’তেও আমাদের খুব তাড়াতাড়ি পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা চালাতে হবে। কাজটা খুব কঠিন হবে না, যেহেতু আমাদের থেকে সেই ভিন গ্রহটি রয়েছে মাত্র ৪ আলোকবর্ষ দূরে। মানে, আলোর গতিতে ছুটলে আলফা সেনটাওরি-বি’তে পৌঁছতে সময় লাগবে মাত্র ৪ বছর।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>