নগরীতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা

মে ২৫ ২০১৭, ১৪:৪৮

লিটন বাশার,অতিথি প্রতিবেদকঃ নগরীতে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে অবৈধ জুতা তৈরির কারখানা। ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে শিল্প এলাকায় কারখানা গড়ার নিয়ম থাকলেও তা অধিকাংশ কারখানা মালিকই মানছেন না। অনেকের ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স থাকলেও নেই অগ্নিনির্বাপক গ্যাস সিলিন্ডার। ফলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সচেতন নগরবাসী।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় উন্নত একটি জুতা তৈরির কারখানা অবস্থিত। যার সকল প্রকার কাগজপত্র রয়েছে। এর বাইরে নগরীর বিভিন্নস্থানে কমপক্ষে অর্ধডজন জুতা তৈরির অবৈধ কারখানা রয়েছে। যার সবগুলোই আবাসিক এলাকায় এবং অনুমোদনহীন। কেবল মাত্র সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স দিয়েই চলছে ওইসব কারখানা।

 

সূত্র মতে, নগরীর নথুল্লাবাদ ফিশারি রোডে একটি আবাসিক ভবনের নিচ তলায় এমএন্ডপি ডিজাইন, ভাটার খাল ঈদগাহ-সংলগ্ন বস্তির বিভিন্ন বাড়িতে মেসার্স নিউ শাহীন সু, বান্দরোড ডায়াবেটিক হাসপাতালের পেছনে মাহাবুব সেন্ডেল কারখানা ও হাটখোলার আগে মসজিদ মার্কেটে মেসার্স শাহেদ-সু নামের জুতার কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, জুতা তৈরিতে ব্যবহূত গাম এক প্রকার দাহ্য পদার্থ। কোনোক্রমে আগুনের সূত্রপাত ঘটলেই ওই গামের কারণে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যে কারণে আবাসিক এলাকার মধ্যে
জুতার কারখানা করলে ফায়ার লাইসেন্স কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র দেওয়া হয় না। এছাড়া জুতা তৈরিতে ব্যবহূত গাম নাকে শুঁকে অনেকে নেশাও করে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, জুতা তৈরির কারখানার মালিকরা বেশি পরিমাণে গাম কিনে নেশাগ্রস্তদের কাছে বিক্রি করে থাকেন।

 

কাগজপত্রের বিষয়ে শাহীন সু’র মালিক শাহীন বলেন, তার ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স আছে কিন্তু অগ্নিনির্বাপক গ্যাস সিলিন্ডার ক্রয় করেননি। তবে ফায়ার সার্ভিসের ইন্সপেক্টর ফিরোজ আহমেদ বলেন, শাহীন সু আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠায় লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। পূর্বে কোনো কর্মকর্তা দিয়ে থাকলেও শিল্প এলাকায় স্থানান্তর না করা পর্যন্ত লাইসেন্সের মেয়াদ বর্ধিত করা হবে না। এমএন্ডপি ডিজাইন কারখানার মালিক বলেন, ট্রেড লাইসেন্সই যথেষ্ট। আর কোনো অনুমোদনের দরকার নেই।

 

পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আরেফীন বাদল বলেন, ছাড়পত্রবিহীন জুতার কারখানার পরিবেশ যাচাই করে যোগ্যদের ছাড়পত্র প্রদান এবং অযোগ্য কারখানা বন্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের ইন্সপেক্টর ফিরোজ আহমেদ বলেন, সামনে ঈদ উপলক্ষে জুতার কারখানায় কাজের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে লাইসেন্সবিহীন সকল কারখানায় অভিযান চালিয়ে লাইসেন্স এবং অগ্নিনির্বাপক গ্যাস নিতে বাধ্য করা হবে। আর আবাসিক এলাকায় অবস্থিত কারখানা সরাতে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>