নগরীর আলোচিত হৃদয় হত্যা মামলার চার্জশীট আদালতে

আপডেট : May, 31, 2017, 10:11 pm

প্রেম বিরোধের জের ধরে নগরীর শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র এসএসসি পরীক্ষার্থী সাইদুর রহমান হৃদয় হত্যা মামলায় টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ৭ সহপাঠি ছাত্রকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট জমা দিয়েছে পুলিশ। সম্প্রতি দোষীপত্রটি আদালতে উপস্থাপন করতে তা কোতয়ালি মডেল থানার জিআরও এসআই প্রদীপ মিত্র’র কাছে জমা দেয়া হয়। আজ বুধবার তদন্তকারি কর্মকর্তা কোতয়ালি মডেল থানার এসআই মো. মহিউদ্দিন আহাম্মেদ দোষীপত্রটি জমা দেন। দোষীপত্রে শিশু অভিযুক্তরা হলো, বাকেরগঞ্জ বাদলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও বর্তমানে নগরীর দক্ষিন আলেকান্দা এলাকার আশরাফ মেকারের বাড়ীর ভাড়াটিয়া মোশারফ খানের ছেলে মো. মুরাদ খান (১৬), বাকেরগঞ্জ পুর্ব বাগদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও নবগ্রাম রোডের ভাড়াটিয়া মো. সানাউল হক মীরের ছেলে সাইদ আবেদিন আবদুল্লাহ রাহাত (১৭), পটুয়াখালি জেলার দুমকি জনাতা কলেজ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন গাজির ছেলে মো, গোলাম রাব্বি (১৬), ঝালকাঠি জেলার বেরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা ও খোকার গ্রেজের হুদা কুটির এর ভাড়াটিয়া সৈয়য়দ আহসান হাবিবের ছেলে মো. ইয়াছিন শান্ত (১৭), নলছিটি শ্রীরামপুরগ্রামের বাসিন্দা ও ইছাকাঠি শাহপড়ান সড়কের মৃধা ভিলার ভাড়াটিয়া আনিচুর রহমান মাঝির ছেলে রাজু হোসেন মাঝি, সদর উপজেলার বকশিরচর গ্রামরে বাসন্দিা ও নিউ কলেজ রো এলাকার ডা. কবির হোসেনের ভাড়াটিয়া ইসমাইল হোসেন সিকদারের ছেলে ইমন সিকদার এবং মির্জাগঞ্জ ছোলাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও দক্ষিন আলেকান্দা জব্বার মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া কবির উদ্দিন সিকদারের ছেলে নুরুন নবী নাহীদ। অভিযুক্তরা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের এসএসসি পরিক্ষার্থী ছিলো। মামলা সুত্রে জানা গেছে, সাইদুর রহমান ওরফে হৃদয়

গাজী (১৫) পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার নদমুল্লাহ ইউনিয়নের চিংগড়িয়া ভিটাবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ভান্ডারিয়া সদরের গার্মেন্টস ব্যবসায়ী শাহীন গাজীর ছেলে। সে নগরীর শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র ছিলো। ২০১৩ সালে ৮ম শ্রেনীতে গোল্ডেন এ প্লাস পাওয়ার পর হৃদয় বরিশাল এসে শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভর্তি হয় এবং জর্ডন রোডের একটি বাসায় ভাড়া থেকে মামনি কোচিং সেন্টারে পড়তো। একই বিল্ডিংয়ে অবস্থানরত কাউনিয়া সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পিয়ন সাব্বির হোসেনকে ঘটনার মাস খনেক পূর্বে ট্রাউজার উল্টা পড়া নিয়ে রাহাত তাকে কটুক্তি করে। হৃদয় ঘটনার প্রতিবাদ করলে তার সাথে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এছাড়া একই মেয়েকে হৃদয় ও রাহাত পছন্দ করায় রাহাত ও তার বন্ধুদের সাথে হৃদয়ের বিরোধ প্রকাশিত হয়ে আসে। বিরোধের জের ধরে ঘটনার দিন ২৮ জানুয়ারী বিদ্যালয়ে এসএসসি পরিক্ষার বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পুর্ব বিরোধে এবং প্রেমের বিষয় নিয়ে রাহাত তার বন্ধুদের সহযোগিতায় হৃদয়কে শিক্ষা দেয়ার পরিকল্পনা করে। সেই পরিকল্পনানুযয়ি হৃদয় সকাল সাড়ে ৮ টায় পরেশ সাগর মাঠ সংলগ্ন শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে অভিযুক্তরা তাকে তুলে নেয়। পরে মাঠের পুর্ব পাশে নিয়ে মারধর করে এক পর্যায় ধারালো চাকু দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা হৃদয়কে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা শাহীন গাজি বাদী হয়ে ওই দিনই নামধারি রাহাতসহ অজ্ঞাত ৬ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন।

Facebook Comments