নগরীর সকল পানির পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছে বিদ্যুৎ বিভাগ!

মার্চ ৩১ ২০১৭, ১০:২০

চরম অর্থনৈতিক সংকটের কবলে থাকা বরিশাল সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীলদের দুর্ভাবনা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। প্রায় ২৭ কোটি টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ব্যর্থতার দায়ে গত বুধবার সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণাধীন মহানগরীর ৫টি পানির পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। ১৫ দিনের সময় চেয়ে ঐদিন সন্ধ্যায় পুনঃসংযোগ লাভের পরে এখন সময় ও ক্ষণ গুনছে বিদ্যুৎ বিভাগের পাশাপাশি নগর ভবনও। বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি- ওজোপাডিকো’র দায়িত্বশীল মহলের দাবি, নগর ভবন থেকে বকেয়া পরিশোধে ১৫ দিন সময় চাওয়ার পাশাপাশি, নগরবাসীর দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করেই শুধুমাত্র মানবিক কারণে পানির পাম্পগুলোতে বিদ্যুতের পুনঃসযোগ দেয়া হয়েছে। বকেয়া আদায়ে এর পরে আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পথেই হাঁটছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
বরিশাল নগরীর প্রায় দেড়শ’ কিলোমিটার রাস্তায় ১৬ হাজার স্ট্রিট লাইট ছাড়াও ৩৫টির মতো পানির পাম্প, নগর ভবন, কয়েকটি পার্ক ও বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বাবদ সিটি করপোরেশনের কাছ বিদ্যুৎ বিভাগের ১৬ কোটি টাকা বকেয়া নিয়ে দীর্ঘদিন যাবতই এ চাপান উতর চলে আসছিল। সর্বশেষ পনের দিনের সময় দিয়ে সিটি করপোরেশনকে নোটিশ পাঠায় ওজোপাডিকো। যার মেয়াদ শেষ হবার পর গত বুধবার ৫টি পানির পাম্পের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বিদ্যুৎ বিভাগ। কিন্তু পনের দিনের মধ্যে অর্থের সংস্থান করে তা পরিশোধে অঙ্গীকার করায় কয়েক ঘণ্টা পরে তাতে পুনঃসংযোগও দেয়া হয়। এর আগে নগর ভবনের দায়িত্বশীল মহল
‘মন্ত্রণালয় থেকে তহবিল সংগ্রহ করে সরাসরি বিদ্যুৎ বিভাগকে তা পরিশোধের কথা জানান হলেও সে উদ্যোগ গ্রহণের আগেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযানে নামে ওজোপাডিকো।
কিন্তু কবে, কীভাবে ও কোথা থেকে এত বিপুল অর্থ সংগ্রহ করে সিটি করপোরেশন বিদ্যুৎ বিভাগের টাকা পরিশোধ
করবে তা খোদ নগর ভবনের দায়িত্বশীল মহলেরও জানা নেই। এ ব্যাপারে বরিশাল সিটি করপোরেশন-(বিসিসি)র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, মন্ত্রণালয় থেকে থোক বরাদ্দ নিয়ে যত দ্রæত সম্ভব বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যা সরসরি বিদ্যুৎ বিভাগকে পরিশোধ করা হবে। পাশাপাশি চলতি বিদ্যুৎ বিল যাতে পরিশোধ করা যায় সে লক্ষেও বিসিসি চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।
অপরদিকে ওজোপাডিকো’র বরিশাল অঞ্চলের ডিজিএম পরিচালন ও সরক্ষণ জানান, বার বার নোটিস দিয়েও বিসিসি থেকে আমরা বকেয়া আদায় করতে পারিনি। এতদিন নগরবাসীর দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করেই ছাড় দেয়া হলেও এখন আর তা সম্ভব নয়। পশ্চিম জোনের ২১টি জেলার মধ্যে বরিশাল সিটি করপোরেশনই সর্বোচ্চ বিল খেলাপি বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বকেয়ার পরিমাণ ২৭ কোটি টাকা। যা পুরো পশ্চিম জোনের বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিটির অর্থনৈতিক বুনিয়াদকেই নরবড়ে করে দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের নির্বাচনে সরকারি দলের মেয়র প্রার্থী পরাজিত হবার পর থেকেই বিসিসি’র সরকারি থোক বরাদ্দের পরিমাণ ক্রমশ হ্রাস করা হয়। যা এখন প্রায় শূন্যের কোটায়। উপরন্তু সাবেক নগর প্রশাসনের ১৫৪ কোটি টাকার বকেয়া ও দায়দেনা বহন করে বরিশাল সিটি করপোরেশনের আর্থিক কার্যক্রম ইতোমধ্যে চরম বিপর্যয়ের কবলে। অর্থের অভাবে প্রায় ২হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দৈনিক মজুরিভিত্তিক পরিচ্ছন্ন কর্মীদের বেতন ভাতাও পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। নিজস্ব আয়ে বছরের ছয় মাসের প্রশাসনিক খরচও মেটাতে পারছে না বরিশাল সিটি করপোরেশন।
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বকেয়া বিল পরিশোধে বিসিসি কতটুকু সফলকাম হবে এবং তা সম্ভব না হলে বিদ্যুৎ বিভাগ কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে সে বিষয়ে প্রতিক্ষা করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>