নতুন জোট একটাও টিকবে না: ওবায়দুল কাদের

ডেস্ক রিপোর্টঃ নতুন জোট একটাও টিকবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘সামনে নির্বাচন, এখন অনেক অ্যালায়েন্স হবে। অনেক নতুন নতুন ধারার সৃষ্টি হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে গণতন্ত্রের এ দিকটাকে স্বাগত জানাই। এগুলো গণতন্ত্রের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এই কালচার স্বাভাবিক ধারায় চলতে থাকুক। আমরাও এটা চাই। তবে এই অ্যালায়েন্সের ক্ষেত্রে যে ঐক্যই হোক, শেষ পর্যন্ত একটাও টিকবে না। শেষ বিষয়টা এরকম। ..কোথায় গিয়ে ঠেকবে। নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু …। আমরা না চাইলেও বিএনপি আসবে।’

শুক্রবার বিকালে আওয়ামী লীগের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সঙ্গে সম্পাদকমণ্ডলীর জরুরি সভায় এবং সভা শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

শোকের মাস আগস্টের ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে নেতাকর্মীদের তা পালনের পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, এ মাসের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যেন কোনো চাঁদাবাজি না হয়। কোনো ভুইফোঁড় সংগঠন যেন শোকের কর্মসূচির নামে চাঁদা না তুলতে পারে তা সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।

ব্রিফিংকালে শোকাবহ আগস্টের মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেন ওবায়দুল কাদের। ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে নেতাকর্মীদের কর্মসূচির প্রস্তুতি এবং তা পালন করার অনুরোধ করেন তিনি। একই সঙ্গে পোস্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ডে সবাইকে ১৫ আগস্টের ভাবগাম্ভীর্য, চেতনা ও আবেগের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রচার-প্রকাশনার নির্দেশনা দেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানান, কিছু ভুইফোঁড় সংগঠন যাতে বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করতে না পারে সে দিকে সতর্ক থাকার জন্য বৈঠকে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন। কেউ জোর করে এসব করার চষ্টো করলে প্রয়োজনে ধানমণ্ডিতে দলীয় সভাপতির কার্যালয়ে অবহিত করবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর দেশবিরোধী কোনো ষড়যন্ত্র কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি জানি না, ষড়যন্ত্র দেশের বাইরে গিয়ে করতে হবে কেন? আর আজকাল টেকনোলজি-ডিজিটাল-ইন্টারনেটের যুগ। কনস্পিরেসি করতে হলে দেশের বাইরে যেতে হবে কেন? দেশের বাইরে গিয়ে যদি দেশের বিরুদ্ধে তিনি কিছু বলেন বা করেন,

সেটা তো গোপন থাকবে না। যদি তেমন কিছু হয় তখন রিঅ্যাকশন দেব, এখন কেন? উনি তো যাচ্ছেন। সরকার তো বাধা দিচ্ছে না। পারলে তো তারা বলে ফেলে, সরকার বাধা দিচ্ছে।’

বৃহস্পতিবার আ স ম আবদুর রবের বাসায় বৈঠকে পুলিশি বাধা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, আমি এখন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আ স ম রব ভাই ছাত্রলীগের নেতা ছিলেন। তেমন কোনো ঘটনা যদি হয়ে থাকে, তার সঙ্গে আমার মোবাইলে যোগাযোগ আছে। তিনি আমাকে জানাতেন। কোনো অপ্রীতিকর কিছু ঘটেছে, সভা করতে পারেননি- এ ধরনের কোনো নিউজ আমি কোথাও দেখিনি। তারপরও আমরা খোঁজ নেব। দরকার হলে আমি কথা বলব। এখন আমি অন্ধকারে ঢিল ছুড়তে চাই না।

বিএনপির রূপকল্প বা ভিশন-২০৩০ মানেই বিভিন্ন জেলায় নিজ দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ভীষণ মারামারি বলে মন্তব্য করেন কাদের। তিনি বলেন, সদস্য সংগ্রহের নামে তারা জেলায় জেলায় যেভাবে বিশৃঙ্খলা করছে তাতে করে দলটির নেতাকর্মীদের গায়ে কাপড় থাকে না, এগুলো দেখে হাসি পায়। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয় সেগুলো দেখার পর বিএনপি তা নকল করে করতে গিয়েই বিপাকে পড়ে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর আমরা স্লোগান দিয়েছিলাম, এক মুজিব লোকান্তরে, লক্ষ মুজিব ঘরে ঘরে। পরে জিয়াউর রহমান হত্যার পরও বিএনপিকে দেখেছি ‘এক জিয়া..।’ এগুলো খুব বেশি দিনের ইতিহাস নয়।

ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, শ্রম সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সবুর, উপ-দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসার, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ, ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসেইন প্রমুখ।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>