নিম্নচাপের প্রভাবে বরিশাল-পটুয়াখালীতে বৃষ্টি

নিম্নচাপের প্রভাবে পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকাসহ বরিশালে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। পাশাপাশি নদীর পানিও বেড়েছে। টানা বৃষ্টিপাতের কারণে স্বাভাবিক জন-জীবনের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি গরমের তাপমাত্রা অনেকটাই কমেছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের ৩ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে সোমবার (১২ জুন) সকাল ৬টায় ভোলা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিলো।

যা আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে স্থলভাগের দিকে অগ্রসর হতে পারে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

তাই দেশের অন্যান্য সমুদ্রবন্দরের পাশাপাশি পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ০৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

নিম্নচাপটির প্রভাবে উপকূলীয় অন্যান্য জেলার পাশাপাশি বরিশাল বিভাগের বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি জেলার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১-২ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে।

অপরদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

কুয়াকাটা-আলীপুর মৎস্য বন্দরের মাছ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আনছার উদ্দিন মোল্লা জানান, উপকূলে বৈরি আবহাওয়া বিরাজ করছে। তাদের সমিতির পক্ষ থেকে সব ট্রলার মালিক ও জেলেদের বিভিন্ন মাধ্যমে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনেক ট্রলার ইতোমধ্যে কিনারে পৌঁছে গেছে।

পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গভীর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমী নিম্নচাপের কারণে পটুয়াখালীতে ভারী ও হালকা

বৃষ্টি শুরু হয়েছে শনিবার রাত থেকে। সে সময় থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর‌্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে ৭৪ দশমিক ৯ মিলিমিটার। আর গত ২৪ ঘণ্টায় হয়েছে ৪১ দশমিক ৫ মিলিমিটার। বৃষ্টির আগে এ জেলায় ৩৬ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকলেও এখন তা কমে ৩০ ডিগ্রির কাছাকাছি রয়েছে।

এদিকে পটুয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলে নদ-নদীর পানি বেড়েছে চরাঞ্চল (নিম্নাঞ্চল) প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে চরের ঘরবাড়ি, মাছের ঘের ও পুকুর পানিতে তলিয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গাবালী উপজেলার উত্তর চরমোন্তাজ, চরনজির, উত্তর কাউখালী, গঙ্গিপাড়া, চরকাশেম, কলাগাছিয়া এলাকাসহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের বাইরের কয়েকটি চরের ঘরবাড়ি, মাছের ঘের ও পুকুর পানিতে তলিয়ে গেছে।

অপরদিকে বাউফল, দশমিনা, কলাপাড়ার বেশ কিছু নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। কখনো গুঁড়ি গুঁড়ি কখনো মুষলধারে বৃষ্টি হছে ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলার বিভিন্ন স্থানে।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক আব্দুল কুদ্দুস ভূঁইয়া জানান, বরিশালে সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৭৭ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এরমধ্যে রোববার (১১ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৫ ঘণ্টায় ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ঘণ্টায় বাতাসের গতিবেগ ৪৫ কিলোমিটার পর‌্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে।

তিনি জানান, নিম্নচাপের প্রভাবে এ ধরনের ভারী বৃষ্টিপাত আরও ২/১ দিন হতে পারে। আর নিম্নচাপ ও বৃষ্টিপাতের কারণে নদীর পানি বেড়েছ এবং বরিশালের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়াটা স্বাভাবিক।

তীব্র গরমের পর এ বৃষ্টিতে স্বস্তি ফিরে আসলেও নগরবাসীর যাতায়াত ও চলাচলে কিছুটা সমস্যাও তৈরি হচ্ছে।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>