নীরব ঘাতক কৃমি

মে ১০ ২০১৭, ১৬:৩৭

মানুষের দেহের গ্রহণ করা খাবারের অর্ধেকই অপচয় করে দিতে পারে শরীরে বহণ করা নানারকম কৃমি। এমনকি কৃমির কারণে সারা পৃথিবীর খাদ্যভাণ্ডারের একটি বড় অংশও অপচয় হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট চিকিতসক, গবেষক এবং দায়িত্বশীলদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কৃমি হলে কিছু কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন-বমি বমি ভাব, পেট ব্যথা, পেট মোটা বা ভারি হওয়া, খাবারে অরুচি, মুখে থুথু ওঠা এবং কোনো কোনো কৃমিতে পায়খানার রাস্তার পাশে চুলকানি হতে পারে। কৃমি হলে সাধারণত অপুষ্টি দেখা দেয়। রক্তশুন্যতা দেখা দেয়।

শিশুদের নাক, মুখ দিয়েও অনেক সময় কৃমি পড়তে দেখা যায়। পেটে কৃমির আধিক্যে অন্ত্রনালীর পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া অন্ত্র ফুটো করে মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে।

সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের পরিচালক ডা. সানিয়া তাহমিনা  বলেন, সাধারণভাবে কৃমিকে খুব সাদা সাপটাভাবে দেখা হয়। মনে হতে পারে যে কৃমি তেমন কোনও ভয়াবহ কিছু নয়। কিন্তু প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে কৃমি খুবই ভয়ংকর।

তিনি জানান, কৃমি কি পরিমাণ খাবার ধ্বংস করে তার গড় কোনও পরিসংখ্যান আমাদের দেশে নেই। তবে এই পরিমাণটা বিশ্বব্যাপী কিছু পরিমাপ আছে। সে হিসাবে মানুষের দেহে কৃমি তাকলে মানুষের গ্রহণকরা খাদ্যের পুষ্টিমাণের অর্ধেক পরিমাণ দিক কৃমি গ্রহণ করে নিতে পারে।

চিকিতসকরা জানান, এক এক কৃমির ক্ষেত্রে ক্ষতির ধরণ এক এক রকম। রাউন্ড ওয়ার্ম ধরণের কৃমি খাবারের হজমকৃত অংশটি খেয়ে ফেলে। যা ভিটামিন এ এর ঘাটতি তৈরী করে। এতে করে মানুষ চোখের নানাবিধ সমস্যাসহ রাতকানা রোগে ভুগতে পারে।

আর একটা কৃমি রক্ত খায়। যার দাঁত আছে। একে হুকওয়ার্ম বলা হয়। এসব কৃমি চামড়ার মাধ্যমে শরীরে ঢুকে। গায়ে ফোঁটা করে রক্ত চোষে। শরীরের এক জায়গা থেকে আর এক জায়ঘায় যায়। ফলে রক্তক্ষরণ হয়। একটি কৃমি দশমিক শুণ্য ২

এমএম রক্ত শোষণ করে। ফলে রক্তশুন্যতা থেকে এনিমিয়া তৈরী করে।

আর ফিতা কৃমি ভিটামিন বি হজমের এনজাইম নষ্ট করে। একে ফিস ফেকোয়ামও বলা হয়।

এ প্রসঙ্গে খ্যাতিমাণ পরিপাকতন্ত্রবিদ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল  বলেন, সাধারণত আমরা বলি কৃমি পেটের সব খাবার খেয়ে নেবে। আসলে বিষয়টা তা নয়। এক এক কৃমি খাবার হজমের নানান অসুবিধা এবং রক্ত খেয়ে টিকে থাকতে চায়। কৃমি সমস্যা হালকাভাবে না নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলেও তিনি মনে করেন।

চিকিতসকরা জানান, কোনও কোনও কৃমি সার্জিক্যাল গুরুতর জটিলতা তৈরী করে। রামান্ডোয়াম ধরণের কৃমি জীবননাশের কারণও হতে পারে। খাদ্যনালীকে বন্ধ করে দিতে পারে। এতে করে মৃত্যু হতে পারে শিশুদের। একটি শিশুর শরীরে যদি ১৪/১৫টা থাকে তাহলে সে ধরণের শিশু মারাত্মক হুমকিতে পড়তে পারে। কৃমির কারণে গলব্লাডার জটিলতা এবং এপ্যান্ডেসাইটিস জটিলতা হতে পারে বলেও তারা জানান।

কৃমি না হওয়ার জন্য কী করতে হবে 

*কৃমি যাতে না হয় সেজন্য নিম্নলিখিত স্বাস্হ্যবিধিগুলো মেনে চলতে হবে। যেমন-

*স্বাস্হ্যসম্মত পয়ঃপ্রণালী ব্যবহার করতে হবে। অর্থাৎ জলাবদ্ধ (ওয়াটার সিল ্ল্যাব ল্যাট্রিন) পায়খানা ব্যবহার করতে হবে।

*খাবার আগে ও মল ত্যাগের পর ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে।

*নিরাপদ পানি পান করতে হবে।

*শাক-সবজি, ফলমুল ভালোভাবে ধুয়ে খেতে হবে।

*যেখানে সেখানে মল ত্যাগ করা যাবে না। খালি পায়ে না হেঁটে স্যান্ডেল ব্যবহার করা উচিত।

*ভালোভাবে সিদ্ধ করা মাংস খেতে হবে।

 কৃমি হলে কী করবেন 

 কৃমি একটি সাধারণ সমস্যা মনে হলেও এটি মোটেও সাধারণ সমস্যা নয়। তাই কৃমি হলে চিকিৎসা করাতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ওষুধ খেতে হবে। বাজারে কৃমির চিকিৎসার জন্য নানা রকম ওষুধ আছে। যেমন-মেবেনডাজল, অ্যালবেনডাজল, লেভিমাজল ইত্যাদি। বড়দের জন্য বড়ি এবং শিশুদের জন্য সিরাপ পাওয়া যায়। এসব ওষুধের দামও খুব বেশি নয়।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>