নেত্রকোনায় কিশোরী ধর্ষণ মামলার দুই আসামি গ্রেপ্তার

সেপ্টেম্বর ১২ ২০১৭, ২৩:৫২

নেত্রকোনা সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনায় এক কিশোরীকে (১৪) গণধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি কৌশিক সরকার ওরফে অপু (২৩) ও দুই নম্বর আসামি মামুন মিয়া আকন্দকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ মঙ্গলবার রাত পৌনে নয়টার দিকে অপুকে এবং গতকাল সোমবার গভীর রাতে মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলার অপর আসামি সুলতান মিয়া (২২) এখনো পলাতক।

নেত্রকোনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন জানান, মঙ্গলবার রাত পৌনে নয়টার দিকে অপুকে শহরের নাগরা এলাকার মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি একটি মাইক্রোবাসে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

কৌশিক সরকার অপু জেলা ছাত্রলীগের কৃষিবিষয়ক উপসম্পাদক। তাঁর বাবা কাজল সরকার। অপু ঠাকুরাকোনা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাকের ভাইয়ের দোকানের কর্মচারীও।

এর আগে সোমবার রাত পৌনে তিনটার দিকে মামুন মিয়া আকন্দকে দুর্গাপুরের বিরিশিরি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা ও মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ-এ নুর আলম। তিনি জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও মডেল থানা-পুলিশের যৌথ একটি দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। মামুন ওই এলাকার আকঞ্জিপাড়ায় তাঁর ভগ্নিপতি আসাদ মিয়ার ভাড়া বাসায় পালিয়ে ছিলেন।

মামুন ঠাকুরাকোনা গ্রামের আবদুল গফুর

আকন্দের ছেলে ও ঠাকুরাকোনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর আলী মাতুব্বরের ভাগনে।

৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে তিন আসামি ওই কিশোরীকে বাড়ির পাশে মাছের খামারে একটি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে মামুন তাদের ঘরে গিয়ে হুমকি দেন, ঘটনাটি কাউকে জানালে মেরে ফেলা হবে। কিন্তু স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জেনে ফেলেন। এ ঘটনার পর দিন লোকলজ্জার ভয়ে কিশোরী আত্মহত্যা করে। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার প্রথম আলোতে ‘নেত্রকোনায় ধর্ষণের পরদিন কিশোরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

এ ঘটনায় ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় নেত্রকোনা মডেল থানা-পুলিশ প্রথমে গণধর্ষণের ঘটনা গোপন করার চেষ্টা করেছিল। পরে নেত্রকোনা পুলিশ সুপারের (এসপি) নির্দেশে গত রোববার রাতে মামলা নিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ওই দিন মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাক আহম্মদকে সরিয়ে পুলিশ লাইনসে নেওয়া হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ-এ নুর আলম বলেন, কিশোরীর লাশ উদ্ধারের পর হত্যা না আত্মহত্যা, জানতে চেয়ে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছিল। সেই প্রতিবেদন এখনো আসেনি। মৃত্যুর আগে সে ধর্ষণের শিকার হয়েছে কি না, তা জানতে গত সোমবার পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে লাশ উত্তোলনের জন্য অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে আবেদন করা হয়েছে। অনুমতি পেলেই লাশ উত্তোলন করা হবে।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>