নৌ রুটের লঞ্চগুলোয় পর্যাপ্ত নেই ‘লাইফ বয়া’

এপ্রিল ২৭ ২০১৭, ১৮:৩০

নৌ রুটের লঞ্চগুলোয় অতিরিক্ত যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম না থাকার পাশাপাশি ডেকযাত্রীদের নাম-ঠিকানাও লিপিবদ্ধ করা হয় না। ফলে লঞ্চ দুর্ঘটনায় পড়ে কোনও যাত্রী মারা গেলেও তার লাশ বেওয়ারিশ হয়ে যায়।

জানা গেছে, দুর্ঘটনা কবলিত লঞ্চের বিপন্ন যাত্রীদের জীবন বাঁচাতে অন্যতম উপায়-‘লাইফ বয়া’। এটি মানুষকে ভাসিয়ে রাখতে সাহায্য করে। সদরঘাট টার্মিনালে ঢাকা-আমতলী রুটের সুন্দরবন-৫ প্রবেশমুখে লেখা লঞ্চটির যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ৪০০ জন। তাদের নিরাপত্তার জন্য অন্য সরঞ্জামের সঙ্গে লাইফ বয়া রয়েছে ১০৪টি।

সুন্দরবন-৫ লঞ্চের সুপারভাইজার আসাদুজ্জামান অপু বলেন, ‘চারজন যাত্রীর জন্য থাকে একটি বয়া। সে অনুযায়ী আমরা বয়া রেখেছি। তবে যাত্রীসংখ্যা যাই হোক, নিরাপত্তা সরঞ্জাম এগুলোই।’

তিনি বলেন, ‘ঝড়ের সময় যাত্রীরা এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করলে লঞ্চটি দুলতে থাকে। এ সময় যাত্রীরা লঞ্চের ডেকের পর্দা নামিয়ে দেয় বৃষ্টির পানি ঠেকাতে। এতে বাতাসের গতি বাধাগ্রস্ত হয়। বাতাস

তখন লঞ্চটিকে ধাক্কা দিতে থাকে। পরিস্থিতি সামলাতে যাত্রীদের স্থির থাকতে বলি ও জানালার পর্দা তুলে দেই। যেন সহজেই বাতাস চলাচল করতে পারে। এ ছাড়া আবহাওয়া বেশি খারাপ হলে মাস্টার তার লঞ্চটি পার্শ্ববর্তী তীরে ভিড়িয়ে রাখেন। এরপর পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে যাত্রীরা লাইফ বয়া নিয়ে টানাটানি শুরু করে দেন।’

ঢাকা-বরগুনা রুটের এমভি প্রিন্স আওলাদ-২ লঞ্চের টিকিট মাস্টার মিজান বলেন, ‘ধারণক্ষমতা অনুযায়ী আমাদের লাইফ বয়া আছে। একটি বয়ায় চার-পাঁচ জন মানুষ ভেসে থাকতে পারে। অতিরিক্ত যাত্রীদের জন্য এমন কিছু রাখা হয় না।’

লঞ্চ চলাচলের সার্টিফিকেটদাতা সরকারি সংস্থা সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের সার্ভেয়ার মির্জা সাইফুর রহমান বলেন, ‘যেকোনও লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন একদম নিষিদ্ধ। বেশ কয়েকটি সভায় মালিকদের বলেছি, কখনও অতিরিক্ত যাত্রী উঠলে তাদের জন্য যেন লাইফ বয়া রাখা হয়। কিন্তু তারা তা করছেন না। -বাংলা ট্রিবিউন

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>