পঙ্কজের বিরুদ্ধে গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে ফায়দা লুটছে বিএনপি

মে ২৯ ২০১৭, ১৫:৩৭

সাগর আনোয়ার: বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মইদুল ইসলামের বক্তব্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে আওয়ামী লীগে।

বিএনপি বলছে, ২০১৩ সালে বিএনপির শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে নস্যাৎ করার জন্য সরকার সমর্থকরাই যে গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করেছে তা এখন আওয়ামী লীগের লোকেরাই তা স্বীকার করছে।

মইদুল ইসলাম গত ২৪ মে বরিশাল জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেছেন, ২০১৩ সালে বিএনপি-জামায়াত সারা দেশে জ্বালাও-পোড়াও চালিয়েছিল। ওই বছরের ২ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় বিহঙ্গ পরিবহনে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয় ১১ জনকে। প্রধানমন্ত্রীর সহানুভূতি আদায় করে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য বিহঙ্গ পরিবহনের চেয়ারম্যান আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথের নির্দেশেই ১১ জনকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

বরিশাল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মইদুল ইসলামের এমন অভিযোগ এখন সারাদেশের রাজনীতিতে ঝড় তুলেছে। নিজের দলীয় নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে বিস্মিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাও। তবে, তারা একে নিতান্তই ব্যক্তিগত ক্ষোভ হিসেবেই দেখছেন। মইদুলে বক্তব্যকে স্থানীয় রাজনীতির কোন্দলের কারণে রাগে-ক্ষোভে বেঁফাস মন্তব্য মনে করছেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ  বলেন, ‘মইদুল ইসলাম নিজেই বলেছেন বিহঙ্গ পরিহন আগুনে পোড়ার কারণে পঙ্কজ দেবনাধ সুবিধা পেয়েছেন। আর গণমাধ্যমে উল্টোভাবে সংবাদ আসছে। এ বিষয়ে আমরা কিছু বলবো না। বরিশালের স্থানীয় আওয়ামী লীগকে জিজ্ঞাসা করুন।’

এ বিষয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ সাংবাদিকদের বলেন, ‘উনি কেনো এসব বললেন তা আমি জানি না। আমি জানি না, উনি বুঝে

বলেছেন না কি, না বুঝে বলেছেন। এসব নিয়ে এখন আর কথা বলতে চাই না। উনাকেই জিজ্ঞাসা করুন।’

এদিকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মইদুল ইসলাম বলেন, ‘বিহঙ্গ পরিবহন জামায়াত-বিএনপির রোষানলের শিকার হয়ে পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় পঙ্কজ মনোনয়ন লাভ করেন। আমার বক্তব্য ছিল এ রকম। এ বক্তব্যটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে বিএনপি ইস্যু সৃষ্টি করছে, যা অনভিপ্রেত ও অনাকাত।’

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়  বলেন, ‘আওয়ামী লীগ তো সারাজীবনই নিজেরা ঘটনা ঘটিয়ে অন্যের উপর চাপিয়ে দেয়। দুঃখজনক হলেও সত্যি, এক্ষেত্রে তারা মিডিয়ার সমর্থনও কম পায় না। যাই হোক, এতোদিন পর হলেও আওয়ামী লীগের লোকেরাই স্বীকার করছে ২০১৩ সালে তারাই গাড়িতে পেট্রলবোমা মেরে মানুষ হত্যা করেছে। এখন তারা জনগণকে কি বলবে? মিথ্যার রাজনীতির মুখোশ একসময় উন্মোচন হবেই।’

জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু  বলেন, ‘আমাদের প্রিয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অনেক আগেই বলেছিলেন, বিএনপি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করে। সারাদেশে গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আওয়ামী লীগ জড়িত। দীর্ঘদিন পড়ে হলেও আওয়ামী লীগের লোকজনই স্বীকার করছে তারাই বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করেছে।’

ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি ও বাস পোড়ানো শতাধিত মামলার আসামী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আরও বলেন, ‘বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগ নেতার বক্তব্যে পরিষ্কার হয়েছে আমাদের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে মামলা দেয়া হয়েছে। আমরা আমাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার চাই। এবং নিরীহ মানুষদের হত্যাকারী পঙ্কজ দেবনাথসহ প্রকৃত দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানাই।’

সূত্রঃদ্য রিপোর্ট

Facebook Comments