পঙ্কজ-মইদুলে বিব্রত বরিশাল আ.লীগ

মে ২৮ ২০১৭, ০৯:২৭

২০১৩ সালে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের সময় সরকারদলীয় সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথের নির্দেশে বাসে আগুন দিয়ে ১১ জনকে পুড়িয়ে মারা হয়—আওয়ামী লীগ নেতা ও বরিশাল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মইদুল ইসলামের এমন তথ্য উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজনীতিতে।
কথা বলে জানা গেছে, দলীয় সাংসদ পঙ্কজের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে মইদুল ইসলামের এই বক্তব্য এবং পঙ্কজের পাল্টা বক্তব্যে বরিশাল ও মেহেন্দীগঞ্জ আওয়ামী লীগ বিব্রত।
এ নিয়ে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় সরকারি দলের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গতকাল শনিবার আওয়ামী লীগের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন সাংসদ পঙ্কজের সমর্থকেরা। স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজের নির্বাচনী এলাকা মেহেন্দীগঞ্জ। মইদুলের বাড়িও একই এলাকায়।
মইদুল ইসলাম গত মঙ্গলবার বরিশাল জেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২০১৩ সালে বিএনপি-জামায়াত সারা দেশে জ্বালাও-পোড়াও চালিয়েছিল। ওই বছরের ২ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় বিহঙ্গ পরিবহনে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয় ১১ জনকে।
প্রধানমন্ত্রীর সহানুভূতি আদায় করে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য বিহঙ্গ পরিবহনের চেয়ারম্যান পঙ্কজের নির্দেশেই ১১ জনকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।
এই বক্তব্যের পক্ষে কোনো প্রমাণ আছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তখন মইদুল ইসলাম বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি ওই সময় ফেসবুকে দেখেছি এবং পড়েছি।’
এরপর বৃহস্পতিবার সাংসদ পঙ্কজ মেহেন্দীগঞ্জে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে প্রশ্ন তোলেন, বিতর্কিত প্রশ্ন তুলে মইদুল ইসলাম কার স্বার্থ রক্ষা করছেন? তিনি বলেন, মইদুলের বক্তব্য অসত্য ও ভ্রান্ত। এটা তাঁর (পঙ্কজ) রাজনৈতিক ভাবমূর্তি বিনষ্টের অপচেষ্টা।
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, পঙ্কজ ও মইদুলের বিরোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে ২৩ মে অনুষ্ঠিত মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ১১ নম্বর চানপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে। মইদুল ইসলাম চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেন মাহে আলম ঢালীকে। বিদ্রোহী প্রার্থী হন সাংসদ পঙ্কজের অনুসারী বাহাউদ্দিন। নির্বাচনে জয়ী হন বাহাউদ্দিন। কেন্দ্র দখল ও এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ করে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মাহে আলম নির্বাচন বর্জন করেন।
ওই দিনই বরিশালে সংবাদ সম্মেলন করে পঙ্কজের বিরুদ্ধে মানুষ পুড়িয়ে মারার অভিযোগ

তোলেন মইদুল। এ সময় মাহে আলমও উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে মইদুল দলীয় সাংসদ পঙ্কজের বিরুদ্ধে হাওয়া ভবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা, জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাসীদের দিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ গঠন, এলাকায় দখল, সরকারি অর্থ লুট করা, সর্বশেষ ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করানোর অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাংসদ পঙ্কজ গতকাল শনিবার  বলেন, ‘মইদুল ইসলাম সিনিয়র রাজনীতিক। আমি জানি না, তিনি এটি বুঝে বলেছেন, নাকি না বুঝে বলেছেন। এটা ঠিক যে বিহঙ্গ পরিবহনের মালিকদের একজন আমি। বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের সময় এমন দিন ছিল না যে আমাদের গাড়ি পোড়ানো হয়নি বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।’
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, মইদুলের বক্তব্য আওয়ামী লীগকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। এ অবস্থায় মইদুল কিছুটা চাপে পড়েছেন। গতকাল তাঁর অফিস ও বাসায় যোগাযোগ করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ ছিল।
অবশ্য গতকাল বিকেলে মইদুল ইসলাম উপজেলা আওয়ামী লীগের প্যাডে গণমাধ্যমে তাঁর বক্তব্যের বিষয়ে একটি ব্যাখ্যা পাঠান। তাতে তিনি দাবি করেন, ‘…বিহঙ্গ পরিবহন জামায়াত-বিএনপির রোষানলের শিকার হয়ে পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় পঙ্কজ ওই পরিবহনের চেয়ারম্যান হিসেবে সহানুভূতি পেয়ে হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জের মনোনয়ন লাভ করেন। আমার বক্তব্য ছিল এ রকম। এ বক্তব্যটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে বিএনপি ইস্যু সৃষ্টি করছে, যা অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত।’
এদিকে মইদুল ইসলামের বক্তব্যের পর বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে বলেছে, আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করেছে। দোষ চাপিয়েছে বিএনপির ওপর।
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার  বলেন, বিরোধী দলের আন্দোলন দমন করার জন্য ২০১৩ সালে সরকারি মদদে গাড়িতে যে অগ্নিসংযোগ এবং মানুষ পুড়িয়ে মারা হয়েছে, এখন মইদুলের বক্তব্যে তা-ই প্রমাণিত হয়।
স্থানীয় রাজনীতিতে মইদুলের পক্ষের হিসেবে পরিচিত মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র কামালউদ্দিন খান বলেন, মইদুল ইসলামের বক্তব্যে দল বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। তাঁর এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া সমীচীন হয়নি।

সূত্রঃ প্রথম আলো

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>