পটুয়াখালীতে আলু চাষে বাম্পার ফলন

এপ্রিল ১৭ ২০১৭, ১৫:০০

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা থেকে পানপট্টি যাওয়ার পথে মুরাদনগর গ্রামের রাস্তার দুই পাশ জুড়ে দেখা মিলে আলু চাষীদের ব্যাস্ততা। কেউবা ক্ষেত থেকে তুলছেন। আবার কেউ তা মাথায় নিয়ে এক জায়গায় জড়ো করছেন। সবার মুখেই খুশীর ঝিলিক।

জেলার আটটি উপজেলায় গড়ানুপাতে আলুর উৎপাদন ভাল হলেও মুরাদনগরে বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলে সাধারন মানুষের কাছে মুরাদনগর গ্রামটি আলুর গ্রাম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে জেলায় আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২৯০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চলতি বছরে পটুয়াখালীতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪৩০ হেক্টর বেশি জমিতে আলু উৎপাদন হয়েছে।

এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৬০ হেক্টর, বাউফল উপজেলায় ২২৫ হেক্টর, গলাচিপায় ১ হাজার হেক্টর, কলাপাড়ায় ১০২ হেক্টর, দশমিনায় ৭০ হেক্টর, মির্জাগঞ্জে ১০৫ হেক্টর, দুমকীতে ৫৮ হেক্টর এবং রাঙ্গাবালীতে ১০০ হেক্টর জমিতে গোলা আলুর আবাদ হয়েছে। তবে গলাচিপার

মুরাদনগর গ্রামে আলুর উৎপাদন হয়েছে বেশি। চাষীরা জানান, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ঢাকার মুন্সিগঞ্জের পরে গলাচিপা উপজেলা আলু চাষে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করতে পারবে।

গলাচিপা উপজেলার মুরাদনগর গ্রামের আলু চাষী মোস্তফা খান জানান, চলতি বছরে তিনি ৩৫ একর জমিতে আলু চাষ করেছেন। বীজ বপনের ৬০ দিনের মাথায় ক্ষেত থেকে আলু উত্তোলন শুরু করেছেন।

স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ, অনুকুল আবহাওয়া এবং আলু উৎপাদনে মাটি উপযোগী হওয়ায় উৎপাদন ভাল হয়েছে। যদি ৯০ দিন পরে ক্ষেত থেকে আলু উত্তোলন করা যেত, তাহলে এর দাম দেড় গুন বেশি পাওয়া যেত। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা আর আলু সংরক্ষনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় অল্প দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নজরুল ইসলাম মাতুব্বর জানান, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চলতি বছরে জেলায় আলুর বাম্পার উৎপাদন হয়েছে। তবে জেলার গলাচিপা উপজেলার মুরাদনগর গ্রামে আলুর বেশি উৎপাদন হয়েছে।

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>