পটুয়াখালীর নদী ও সমুদ্র পথ এখন মাদক পাচারের নিরাপদ রুট !

কলাপাড়া প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ার নদী ও সমুদ্র পথ এখন মাদক পাচারের নিরাপদ রুট। বঙ্গোপসাগরের মাছ ধরা ট্রলার ব্যবহার করে কক্সবাজার, টেকনাফ, মিয়ানমার সহ ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে কোটি কোটি টাকার মাদকের চালান এনে খালাস করা হচ্ছে কুয়াকাটার উপকূলীয় এলাকায়। এবং সড়ক ও নৌপথে পুন:রায় তা সরবরাহ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। মাদক বানিজ্যের এ শক্তিশালী নেট ওয়ার্কের সাথে জড়িত রয়েছে খোদ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য সহ স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী, গডফাদার ও তাদের সহযোগীরা। যারা রাজনীতি ও মাছ ব্যবসার অন্তরালে অবৈধ সম্পত্তির পাহাড় গড়ে তুলছেন এবং ক্রমশ: বিস্তৃত করছেন তাদের শক্তিশালী নেট ওয়ার্ক। আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে কক্সবাজার এলাকার মোহাম্মদ আলী, আপেল বড়য়া, দিলদার মিয়া, মাফিয়া বেগম ও ফাতেমার মত দু’একজন মাদক বহনকারীরা ধরা পড়লেও এর সাথে জড়িত গড ফাদাররা বরাবরই থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। গত পহেলা জুন আলীপুর বন্দর থেকে ৩৯৫০ পিস ইয়াবাসহ ফাতেমা আক্তার (২৭) এবং ৯ জুন কলাপাড়া পৌরশহরের মুসলিমপাড়া থেকে ইয়াবা সম্রাট ফিরোজ হাওলাদার (৩৫) ও তার ৪ সহযোগীদের পুলিশ গ্রেফতার করার পর চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য বেরিয়ে আসে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, ইয়াবা পাচারে ফাতেমার মহাজন চিটাগাং এলাকার ট্রলার মাঝি আবুল হোসেন। আবুল হোসেন ও ফাতেমার বাড়ি কক্সবাজার হলেও তারা দীর্ঘদিন এক রাঘব বোয়ালের শেল্টারে আলীপুরে পান্না মোল্লার বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস করে আসছে। তাদের অপর সঙ্গী সৈয়দ হোসেনও জেলে। এরকম আবুল হোসেন ও সৈয়দ হোসেন এর মত অগনিত এজেন্ট রয়েছে মাছ ধরা ট্রলারে জেলের ছদ্মবেশে যাদের মূল কাজ বিদেশী মদ, ইয়াবা ও গাঁজা বহন করে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া। গ্রেফতারকৃত ফাতেমা আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদানের পর বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে। অপরদিকে কক্সবাজার এলাকার মোহাম্মদ আলী, আপেল বড়–য়া ও দিলদার মিয়া স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতা ফিরোজ এর ছত্র ছায়ায় কুয়াকাটার উপকূলীয় এলাকায় বেশ কয়েকটি ইয়াবার চালান খালাস করে। স্থানীয় গড ফাদারদের ছত্রছায়ায় আলীপুরে বসবাসরত একাধিক রোহিঙ্গা পরিবারের সদস্যরাও এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এদেরকে আবার স্থানীয় প্রভাবশালী ট্রলার মালিক, আড়ত মালিক কিংবা প্রভাবশালী রাজনীতিকরা ভোটার করে স্থায়ীভাবে থাকার

সুযোগ করে দিয়েছেন তাদের স্বার্থে। মূলত মাছধরা ট্রলারে শত শত জেলের মধ্যে রয়েছে স্থানীয় মুসলিম, হিন্দু, রাখাইন ছাড়াও কক্সবাজার, রামু, উখিয়া, টেকনাফ এলাকার লোকজন। রয়েছে অসংখ্য রোহিঙ্গা। খোদ মহিপুর থানার বকশি মাহমুদ ইতিপূর্বে ঢাকায় ইয়াবা সহ পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর মাদকের সাথে পুলিশের জড়িত থাকার বিষয়টি আলোচনায় আসে। গত ৩১ ডিসেম্বর, ২০০৫ ইং রাতে আলীপুর মৎস্যবন্দরের একটি বরফ কল থেকে প্রায় ৪২ বস্তা বিদেশী মদ স্থানীয় প্রভাবশালীরা নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে নিলেও পুলিশ রহস্যজনক কারনে কোন পদক্ষেপ নেয়নি। মাদক সংক্রান্ত ওই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ইংরেজী দৈনিক ’দ্যা বাংলাদেশ অবজারভার’ পত্রিকায় গত ২২জুন ২০০৬ ইং তারিখ প্রকাশিত হলে পুলিশের টনক নড়ে। জানা যায়, গত ৩০ মার্চ ২০০৬ ইং তারিখ ছয় কেজি গাঁজা সহ ইউনুছ (৩০) কে মহিপুর থেকে, ১লা জুন হেরোইন সহ বকুল বেগম (৪২) কে কলাপাড়ার বাদুরতলি এলাকা থেকে, ৮ জানুয়ারী ২০০৬ আলীপুরের হারুন (৪৫) কে ১১০ বোতল বিদেশী মদ সহ বরগুনার লাকুরতলা থেকে গ্রেফতার করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। এছাড়া কলাপাড়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১লা জানুয়ারী ২০১৫ থেকে ৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত ১১০০ পিস ইয়াবা, ৬ কেজি গাঁজা ও ১০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার হয় পুলিশী অভিযানে। এসময় গ্রেফতার করা হয় ৩৬ জনকে। কলাপাড়া থানায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মোট ৩৩টি মামলা করা হয়। এসকল মামলার চার্জশীট ইতোমধ্যেই পুলিশ আদালতে দাখিল করেছে। গ্রেফতারকৃত এসকল মাদক বিক্রেতাদের মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরাও রয়েছে। অপরদিকে মহিপুর থানার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১লা জুন’২০১৬ থেকে ৩১ মে’২০১৭ পর্যন্ত ইয়াবা উদ্ধার হয় ৮৪৭ পিচ, গাঁজা ৬ কেজি, মদ ৩০ লিটার এবং ঝাওয়া উদ্ধার হয় ২৫০ লিটার। এসময় গ্রেফতার করা হয় ৫৭ জনকে। মহিপুর থানায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মোট ৩৬টি মামলা করা হয়। এসকল মামলার চার্জ শীট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। মাদক বহনকারী ও বিক্রেতারা প্রায়শ:ই আটক হলেও গডফাদাররা বরাবর থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। কলাপাড়া থানার ওসি জিএম শাহনেওয়াজ এবং মহিপুর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, মাদক নির্মুলে তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

Facebook Comments

<a href=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/infra-add.jpg” target=”_blank” rel=”noopener”><img src=”http://barisallive24.com/wp-content/uploads/2017/05/Hoopers1.jpg” width=”331″ height=”270″ /></a>